থাইল্যান্ডে ৮ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। পরবর্তী চার বছর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটির নেতৃত্ব কার হাতে থাকবে, তা নির্ধারণে প্রধান দলগুলোর মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। দলগুলো প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য মোট ৯৩ জন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম জমা দিয়েছেন। এদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর দৌড়ে এগিয়ে থাকা উল্লেখযোগ্য কয়েকজন প্রার্থীর পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে।
আনুতিন চার্নভিরাকুল (৫৯) : ভুমজাইথাই পার্টির নেতা আনুতিন এখন থাইল্যান্ডের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী। গত বছরের সেপ্টেম্বরে আদালত তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে বরখাস্ত করার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদ নিশ্চিত করেন। রাজনীতিতে দক্ষ ‘ডিলমেকার’ বা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পরিচিত আনুতিন রক্ষণশীল ঘরানার হলেও গাঁজা বৈধকরণের মতো সাহসী পদক্ষেপের জন্য আলোচিত। রাজনৈতিক মেরুকরণের মধ্যেও সব পক্ষের সঙ্গে কাজ করার সক্ষমতা তাকে সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে।
নাথাফং রুয়েংপানিয়াউত (৩৮) : প্রগতিশীল ‘পিপলস পার্টি’র নেতা নাথাফং। তার এই দল আগে ‘মুভ ফরোয়ার্ড’ নামে পরিচিত ছিল, যা ২০২৩ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়েও সরকার গঠন করতে পারেনি এবং পরে আদালত কর্তৃক বিলুপ্ত হয়। সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ও সাবেক ব্যবসায়ী নাথাফং ভিডিও গেম পছন্দ করেন এবং তরুণ ভোটারের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। তিনি বর্তমানে থাইল্যান্ডের সর্বকনিষ্ঠ বিরোধীদলীয় নেতা।
ইওদচানান ওংসাওয়াত (৪৬) : থাই রাজনীতির প্রভাবশালী সিনাওয়াত্রা পরিবারের সদস্য এবং ফিউ থাই পার্টির প্রার্থী ইওদচানান। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী সোমচাই ওংসাওয়াতের ছেলে এবং থাকসিন ও ইংলাক সিনাওয়াত্রার ভাগনে। পেশায় বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ইওদচানান রাজনীতিতে একেবারেই নতুন মুখ। তার পরিবারের ছয়জন সদস্য বা সমর্থিত প্রধানমন্ত্রী এর আগে অভ্যুত্থান বা আদালতের রায়ে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন, যা তার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
অভিসিত ভেজ্জাজিবা (৬১) : ডেমোক্র্যাট পার্টির সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী (২০০৮-২০১১) ব্রিটেনে পড়াশোনা করেছেন এবং ভালো বক্তা হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে কিছুটা নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকলেও রাজনৈতিক অচলাবস্থা বা সংকট তৈরি হলে সমঝোতার প্রার্থী হিসেবে তিনি আবারও দৃশ্যপটে আসতে পারেন।







