চুয়াডাঙ্গায় রমজানের শুরুতেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি – Rupantor Television

চুয়াডাঙ্গায় রমজানের শুরুতেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি

রমজান মানেই ইফতার ও সেহরিতে খাবারের নানা আয়োজন। কিন্তু পবিত্র এ মাসেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে চুয়াডাঙ্গা শহরের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষ বিপাকে পড়েছেন।

আজ মঙ্গলবার শহরের বড় বাজারের নিচের বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিপ্রতি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

খেজুরের দাম প্রায় দ্বিগুণ, লেবু ও কাঁচা মরিচের দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।

এদিকে ইফতারে ব্যবহৃত খেজুর, লেবু, কাঁচা মরিচ, বেগুন ও শসার দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ক্রেতারা।

ব্যাংকার হুমায়ুন কবির  বলেন, ‘রমজান মাস অনুযায়ী জিনিসপত্রের যে দাম থাকার কথা, তা নেই। কলা, শসা, বেগুন, লেবুসহ সবকিছুর দামই বেড়েছে। আমাদের বেতন তো বাড়ে না, কিন্তু রোজায় দ্রব্যমূল্য ঠিকই বেড়ে যায়।

অনেক ক্রেতাই অভিযোগ করেন, পকেটে টাকা থাকলেও বাজারের ব্যাগ ভরে কেনাকাটা করা এখন কঠিন হয়ে গেছে।’

তবে মাছ ও মাংসের বাজার তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক রয়েছে। মাছ বিক্রেতা শ্রী পুন্নে বিশ্বাস বলেন, ‘রোজায় মাছের বাজারে মন্দা চলছে। প্রতিটি মাছের দাম ১৫০ থেকে ২০০ টাকা কমেছে। খরিদদারও কম।’

মুরগি বিক্রেতা নাজিম জানান, ‘রোজার আগে শীতের কারণে দাম বেশি ছিল। এখন মুরগির দাম কিছুটা কমেছে। বাজার নিয়ন্ত্রণেই আছে।’

তবে খুচরা মুরগি-বিক্রেতারা বলছেন, ‘ইফতারের পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির পেছনে অসাধু ব্যবসায়ীদের মজুদদারি বড় কারণ।’

খেজুর বিক্রেতা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘যে খেজুর আগে ২০০ টাকা ছিল, এখন ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রোজায় অনেকেই মাল মজুদ করে রাখে, এতে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়।’

তরমুজ বিক্রেতা সুমন মিয়া জানান, চুয়াডাঙ্গায় তরমুজ নেই। বরিশালেও নেই, পতেঙ্গা থেকে আনতে হচ্ছে। ১৫শ তরমুজ আনতে ৪০ হাজার টাকা গাড়ি ভাড়া লাগে। আমরা ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি করছি। রোজায় চাহিদা বেশি থাকায় নিলামে তরমুজের দাম বেড়ে যাচ্ছে।’

সবজি বিক্রেতা শাহিন আলী বলেন, ‘রোজার আগে বেগুন ছিল ৮০ টাকা, এখন ১২০ টাকা। লেবু ৪০ টাকা হালি থেকে ৮০ টাকা হয়েছে। কাঁচা মরিচ ২০০ টাকার ওপরেও বিক্রি হয়েছে। রোজায় খিরা, লেবু, ধনেপাতার চাহিদা বেশি থাকায় দাম বেড়েছে, সেই সঙ্গে আমদানিও কম।’

এদিকে ফল বিক্রেতা ফিরোজ বলেন, ‘আপেল ৩৫০ টাকা থেকে ৩৮০ টাকা হয়েছে, মাল্টা ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। প্রায় সব ফলেই কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে।’

অপরদিকে ক্রেতা জেসমিন আক্তার বলেন, ‘বাজারে সব জিনিসে আগুনঝরা দাম। এভাবে চললে মধ্যবিত্তদের টিকে থাকাই কঠিন হবে।’

এদিন ব্যবসায়ীরা জানান, বাজার নিয়ন্ত্রণ কমিটি, জেলা প্রশাসন ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযান চলছে।

তবে সাধারণ ক্রেতারা মনে করেন, দৃশ্যমান প্রভাব ফেলতে হলে আরও কঠোর নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে।

  • Related Posts

    ইউক্যালিপ্টাস’ গাছ কেটে ফেলার আহ্বান পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর

    পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, ইউক্যালিপ্টাস গাছ আমাদের পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে। এই গাছ প্রচুর পানি শোষণ করে। তাই ইউক্যালিপ্টাস গাছ আর লাগাবেন না। এখন থেকে ফলদ, ঔষধি ও…

    সাবেক যুবদল নেতা মঈনসহ গ্রেপ্তার ৭

    রাজধানীর শ্যামলীর সেন্টার ফর কিডনি ডিসিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডি) হাসপাতালে চাঁদা দাবির ঘটনায় সাবেক যুবদল নেতা মঈন উদ্দিনকে (মঈন) গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। এ সময় তার আরও ছয় সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করা…

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *