সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) এক বিবৃতিতে জানায়, মন্ত্রণালয় ‘ইরাকের ভূখণ্ড থেকে সৌদি আরব এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে চালানো হামলার কঠোর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।’ এ সময় রাষ্ট্রদূত ও সৌদি প্রতিনিধির বৈঠকের একটি ছবিও প্রকাশ করা হয়।
এই বিবৃতিটি এই অঞ্চলে প্রথম আনুষ্ঠানিক অভিযোগগুলোর মধ্যে একটি। যেখানে বলা হচ্ছে যে, ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাতের সময় উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো হামলাগুলো ইরাক থেকে চালানো হয়ে থাকতে পারে।
এই কূটনৈতিক প্রতিবাদ যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একই ধরনের অভিযোগ তোলার কয়েকদিন পরেই এল। উপসাগরীয় দেশগুলোর পাশাপাশি ইরাকও এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। দেশটিতে মার্কিন স্বার্থ, বিশেষ করে বাগদাদের মার্কিন দূতাবাস এবং ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর অবস্থান বারবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
যুদ্ধ চলাকালে ইরাকের ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো প্রতিদিন ‘শত্রু ঘাঁটিতে’ হামলার দাবি করলেও, বুধবার তারা ঘোষণা দেয় যে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতির পর তারা তাদের অভিযান স্থগিত করছে।
]]>সোমবার পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মাড়েয়া ইউনিয়নের গেদিপাড়া এলাকায় ছেতনাই নদী খনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আজ আমরা ছেতনাই নদী বা খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছি। একসময় এই খালজুড়ে পানি ও মাছ ছিল। আমাদের অঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষের চাষাবাদসহ নানা চাহিদা পূরণ করত ছেতনাই খাল। বর্তমানে এটি মৃত খালে রূপান্তরিত হয়েছে। সময়ের বিবর্তনে সেই খাল আর খাল নেই, নদী আর নদী নেই।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, জলাশয় ও খাল খনন, পুনঃখনন এবং পুনরুদ্ধার করা হবে। এসব জলাশয় পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে পানি সংরক্ষণ করে বাংলাদেশকে আবারও সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা দেশে পরিণত করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে সবুজায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি শুধু কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী। তার নেতৃত্বে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ছাড়াও কৃষি, এলজিইডি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি মহাপরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এর আওতায় নিয়মিত খাল, নদী ও জলাশয় পুনঃখনন করা হচ্ছে। পাশাপাশি ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনাও রয়েছে। খালের পাশে মাছ চাষ ও হাঁস পালনের ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, এই নদী খনন কাজে প্রায় এক হাজার শ্রমিক সম্পৃক্ত হবে, যা কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী খাল খননের কাজে ৬০ শতাংশ শ্রমিক, কৃষক ও শিক্ষার্থীকে যুক্ত করা হবে। এতে একদিকে যেমন মানুষের সম্পৃক্ততা বাড়বে, অন্যদিকে কর্মসংস্থানও বৃদ্ধি পাবে।
]]>তা ইনদ্রেজ্জি কী করেছেন? আর্জেন্টাইন ক্লাব জিমনাসিয়ায় খেলা এ ডিফেন্ডার প্র্যাঙ্ক করে বিমানে বোমার আতঙ্ক ছড়িয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আর সে অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
দেশটির সংবাদমাধ্যমের তথ্যানুসারে, হুসুই বিমানবন্দরে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে। বুয়েনস আইরেস গামী একটি ফ্লাইটে মজা করে ‘বোমা’ বলে চিৎকার করেছিলেন ইনদ্রেজ্জি। বিমানটি উড্ডয়নের ঠিক আগ মুহূর্তে তাঁর এমন চিৎকারে বিমানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পাশাপাশি সন্ত্রাসবিরোধী প্রটোকলও চালু হয়ে যায়।
বিমানটি দ্রুত খালি করে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল ডেকে পুরো বিমানটি তল্লাশি করা হয়। পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, এটি বোমার আতঙ্কটি ছিল সম্পূর্ণ ভুয়া। বিমানে কোনো সন্দেহজনক বস্তুর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। এরপরই রানওয়েতে থাকা ইনদ্রেজ্জিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। হাতকড়া পরিয়ে ৩২ বছর বয়সী ডিফেন্ডারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর বিরুদ্ধে ভুয়া আতঙ্ক সৃষ্টি ও বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটনোর অভিযোগ আনা হয়েছে। দুটোই গুরুতর শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
ইনদ্রেজ্জির এমন ‘প্রাঙ্কের’ ঘটনাকে অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে এক বিবৃতিতে তাঁর ক্লাব জিমনাসিয়া লিখেছে, ‘এটি ক্লাবের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে এবং ক্লাব এ ঘটনায় নিন্দা জানাচ্ছে।’
অন্যদিকে ক্লাব সভাপতি এটিকে গুরুতর অসদাচরণ হিসেবে উল্লেখ করে ইনদ্রেজ্জির সঙ্গে চুক্তি বাতিলের প্রক্রিয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘ক্লাবের সুনাম নষ্ট করে বা ক্রীড়া মূল্যবোধের পরিপন্থী কোনো আচরণ আমরা সহ্য করব না।’
এদিকে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমগুলো এরইমধ্যে ইনদ্রেজ্জির এমন কর্মকাণ্ডকে ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে বোকামিপূর্ণ প্র্যাঙ্ক বলে আখ্যা দিয়েছে।
]]>এছাড়া এ নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।
রবিবার (১২ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ বিষয়ে একটি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়, জনসাধারণের স্বাভাবিক ও সুষ্ঠু নগদ লেনদেন নিশ্চিত করতে ব্যাংকের সব শাখায় বিধি অনুযায়ী ছেঁড়া-ফাটা ও ময়লাযুক্ত নোট গ্রহণ এবং তার পরিবর্তে নতুন বা পুনঃপ্রচলনযোগ্য নোট প্রদানের সেবা নিয়মিতভাবে চালু রাখতে হবে। নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও বাজারে এ ধরনের নোটের আধিক্য দেখা যাচ্ছে, যা নগদ লেনদেনে ভোগান্তি সৃষ্টি করছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ‘ক্লিন নোট পলিসি’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ব্যাংকগুলোকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় বিশেষ করে ছোট মূল্যমানের ৫, ১০, ২০ ও ৫০ টাকার নোট নিয়মিতভাবে গ্রহণ করে নির্ধারিত বিশেষ কাউন্টারের মাধ্যমে তা বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব নোটের পরিবর্তে গ্রাহকদের ফ্রেশ বা পুনঃপ্রচলনযোগ্য নোট সরবরাহ করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এ ধরনের সেবা প্রদানে কোনো ব্যাংক শাখার অনীহা বা গাফিলতি পরিলক্ষিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিষয়টিকে “অতীব গুরুত্বপূর্ণ” উল্লেখ করে সব ব্যাংককে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জারি করা এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
]]>সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর রমনার বটমূলে র্যাবের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
র্যাব ডিজি বলেন, নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে শাহবাগ, টিএসসি, হাতিরঝিল, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও রমন বটমূলসহ রাজধানীর যেসব স্থানে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, সেসব স্থানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে র্যাব। এ জন্য পরীক্ষণ চেক পোস্ট ও অবজারভেশন চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। র্যাবের বোম ডিসপোজাল ইউনিট ও ডগ স্কয়াড কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সারাদেশে নববর্ষ চলাকালীন সার্বিক নিরাপত্তায় কন্ট্রোল রুম, চেক পোস্ট ও সিসিটিভি মনিটরিং ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, ইভটিজিং ও যৌন হয়রানি রোধে সতর্কাবস্থায় রয়েছে র্যাব। আশা করি, অন্য বছরের তুলনায় এ বছর আনন্দের সঙ্গে উদযাপন হবে নববর্ষ।
তিনি আরও বলেন, কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে র্যাব কাজ করবে।
]]>বিশ্ব রাজনীতির দাবার চালে পারস্য উপসাগরের প্রবেশদ্বার ‘হরমুজ প্রণালি’ এখন কেবল একটি ভৌগোলিক রেখা নয়, বরং এটি বিশ্ব অর্থনীতির স্পন্দন। ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী মাত্র ২১ মাইল প্রশস্ত এই সরু জলপথটি দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ২০ শতাংশেরও বেশি পরিবাহিত হয়। ২০২৬ সালের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই অঞ্চলে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা বাংলাদেশের মতো ক্রমবর্ধমান জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশের জন্য এক নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার একটি বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা খনিজ তেল ও এলএনজির ওপর নির্ভরশীল, যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এই জলপথ দিয়ে দেশে পৌঁছায়।
বর্তমানে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের একটি বড় অংশ আমদানি করা এলএনজি এবং খনিজ তেলের ওপর নির্ভরশীল। দেশের শিল্পায়ন ও ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি বজায় রাখতে সরকার যে পরিমাণ জ্বালানি আমদানির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, তার প্রধান উৎস হিসেবে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
২০২৬ সালের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের এলএনজি আমদানির একটি বড় অংশ আসে কাতার ও ওমান থেকে। একইভাবে ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলের সরবরাহ চেইন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত। হরমুজ প্রণালীতে চলাচলের ওপর কোনো ধরণের ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব বা কারিগরি বিঘ্ন ঘটলে সরবরাহ ব্যবস্থা যাতে নিরবচ্ছিন্ন থাকে, সেটি নিশ্চিত করা এখন জাতীয় অগ্রাধিকারের বিষয়।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যের ওঠানামা সরাসরি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলে। হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও ট্যাঙ্কারের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়লে বিশ্ববাজারে বীমা খরচ এবং পরিবহন ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যায়। বাংলাদেশের জন্য এটি একটি কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। একদিকে উচ্চমূল্যে জ্বালানি ক্রয়ের ফলে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর এক ধরণের চাপ সৃষ্টি হয়, অন্যদিকে সরবরাহে বিলম্ব ঘটলে উৎপাদনশীল খাতে তার প্রভাব অনুভূত হয়। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের মতো রপ্তানিমুখী শিল্প এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য। বর্তমান প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সরবরাহ চেইনকে বৈচিত্র্যময় করার প্রয়োজনীয়তা আগের চেয়ে অনেক বেশি অনুভূত হচ্ছে।
বাংলাদেশের বর্তমান জ্বালানি ব্যবহারের চিত্রের দিকে তাকালে দেখা যায়, দেশীয় খনিগুলো থেকে প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানির ওপর নির্ভরতা একটি বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। দেশের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে সরকার দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির পাশাপাশি স্পট মার্কেট থেকেও জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে হরমুজ প্রণালীর অস্থিরতা নির্দেশ করে যে, একক কোনো ভৌগোলিক অঞ্চলের ওপর অতি-নির্ভরশীলতা কমিয়ে বিকল্প উৎসের সন্ধান করা প্রয়োজন। বর্তমান সময়ে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের কারণে মুদ্রাস্ফীতির যে ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে, তা মোকাবিলায় সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি নিশ্চিত করা সরকারের জন্য একটি বড় লক্ষ্য। শিল্প ও কৃষি খাতে জ্বালানির যোগান নিরবচ্ছিন্ন রাখতে কার্যকর ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের জন্য এখন বহুমুখী কৌশল অবলম্বন করা প্রয়োজন। প্রথমত, জ্বালানি আমদানির উৎসে বৈচিত্র্য আনা একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি অন্যান্য বিভিন্ন দেশ থেকে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে জ্বালানি সংগ্রহের সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে। এতে করে কোনো একটি নির্দিষ্ট জলপথে সমস্যা তৈরি হলেও বিকল্প পথ বা উৎস থেকে জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখা সম্ভব হবে।
দ্বিতীয়ত, আঞ্চলিক জ্বালানি সহযোগিতাকে আরও সুসংহত করা প্রয়োজন। প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধি এবং জলবিদ্যুৎ আমদানির মতো প্রকল্পগুলো জ্বালানি নিরাপত্তা বলয়কে আরও শক্তিশালী করবে।
দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সম্পদ অনুসন্ধানে গতিশীলতা আনা এখন অপরিহার্য। বাংলাদেশের নিজস্ব ভূখণ্ডে এবং বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। সাশ্রয়ী এবং টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার জন্য স্থলভাগের পুরোনো কূপগুলো থেকে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন নতুন খনি আবিষ্কারে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি যেমন সৌরশক্তি, বায়ুবিদ্যুৎ এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের হার বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। এটি আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই একটি জ্বালানি কাঠামো তৈরিতে সহায়তা করবে।
জ্বালানি সংরক্ষণের ক্ষমতা বা মজুত সক্ষমতা বৃদ্ধি করাও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংকটকালীন জাতীয় চাহিদা মেটানোর জন্য দেশজুড়ে স্টোরেজ টার্মিনালগুলোর সক্ষমতা পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হচ্ছে। নতুন নতুন অয়েল রিফাইনারি স্থাপন এবং এলএনজি টার্মিনালের সংখ্যা বৃদ্ধি করার মাধ্যমে জ্বালানি মজুতের একটি শক্তিশালী পরিকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে কোনো অস্থিরতা তৈরি হলেও সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় কোনো বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা কমে আসবে। এ ছাড়া সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বয়ে জ্বালানি মজুত ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও ডিজিটাল তদারকির আওতায় আনা হচ্ছে।
জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে মিতব্যয়ী হওয়া এবং অপচয় রোধ করা এখন একটি জাতীয় কর্তব্য হিসেবে দেখা দিচ্ছে। শিল্প কারখানা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে জ্বালানি ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। ‘এনার্জি এফিসিয়েন্সি’ বা শক্তি সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতির ব্যবহার উৎসাহিত করার মাধ্যমে সামগ্রিক চাহিদা কিছুটা কমিয়ে আনা সম্ভব। লোড ডেসপাচ সেন্টারের আধুনিকায়ন এবং গ্রিড লাইনের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সিস্টেম লস কমিয়ে আনলে উৎপাদিত জ্বালানির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হবে। অপ্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে জ্বালানি ও বিদ্যুতের ব্যবহার কমিয়ে এনে তা উৎপাদনশীল খাতে ডাইভার্ট করা গেলে অর্থনীতির চাকা সচল থাকবে।
হরমুজ প্রণালির অস্থিরতা আমাদের শিখিয়ে দিচ্ছে যে, ভূ-রাজনীতি এবং জ্বালানি নিরাপত্তা একে অপরের পরিপূরক। বিশ্ববাজারের অনিশ্চয়তা সামাল দিতে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আমদানির বিকল্প উৎস খোঁজার কোনো বিকল্প নেই। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের শিল্পায়ন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা সম্ভব। সরকারের দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে দক্ষ জনবল তৈরি এবং প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানো প্রয়োজন। বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলোকে সুযোগে রূপান্তর করে একটি মজবুত জ্বালানি কাঠামো গড়ে তোলাই হবে আগামীর লক্ষ্য।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা যেকোনো দেশের জন্য একটি সংবেদনশীল ইস্যু। হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথের স্থিতিশীলতা যেমন কাম্য, তেমনি যেকোনো পরিস্থিতির জন্য আগাম প্রস্তুতি রাখাও বিচক্ষণতার পরিচয়। বাংলাদেশ বর্তমানে যে উন্নয়ন যাত্রায় রয়েছে, তার মূল চালিকাশক্তি হলো জ্বালানি। তাই এই খাতের চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি আরও দৃঢ় হবে। সমন্বিত পরিকল্পনা, বৈচিত্র্যময় আমদানি উৎস এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমেই বাংলাদেশ তার জ্বালানি নিরাপত্তার লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হবে।
লেখক: মো. সালমান সাদেকীন চয়ন, সহকারী পরিচালক, তথ্য ও প্রকাশনা, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)
রাজনীতির দাবার চালে পারস্য উপসাগরের প্রবেশদ্বার ‘হরমুজ প্রণালি’ এখন কেবল একটি ভৌগোলিক রেখা নয়, বরং এটি বিশ্ব অর্থনীতির স্পন্দন। ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী মাত্র ২১ মাইল প্রশস্ত এই সরু জলপথটি দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ২০ শতাংশেরও বেশি পরিবাহিত হয়। ২০২৬ সালের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই অঞ্চলে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা বাংলাদেশের মতো ক্রমবর্ধমান জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশের জন্য এক নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার একটি বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা খনিজ তেল ও এলএনজির ওপর নির্ভরশীল, যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এই জলপথ দিয়ে দেশে পৌঁছায়।
বর্তমানে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের একটি বড় অংশ আমদানি করা এলএনজি এবং খনিজ তেলের ওপর নির্ভরশীল। দেশের শিল্পায়ন ও ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি বজায় রাখতে সরকার যে পরিমাণ জ্বালানি আমদানির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, তার প্রধান উৎস হিসেবে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
২০২৬ সালের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের এলএনজি আমদানির একটি বড় অংশ আসে কাতার ও ওমান থেকে। একইভাবে ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলের সরবরাহ চেইন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত। হরমুজ প্রণালীতে চলাচলের ওপর কোনো ধরণের ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব বা কারিগরি বিঘ্ন ঘটলে সরবরাহ ব্যবস্থা যাতে নিরবচ্ছিন্ন থাকে, সেটি নিশ্চিত করা এখন জাতীয় অগ্রাধিকারের বিষয়।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যের ওঠানামা সরাসরি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলে। হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও ট্যাঙ্কারের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়লে বিশ্ববাজারে বীমা খরচ এবং পরিবহন ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যায়। বাংলাদেশের জন্য এটি একটি কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। একদিকে উচ্চমূল্যে জ্বালানি ক্রয়ের ফলে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর এক ধরণের চাপ সৃষ্টি হয়, অন্যদিকে সরবরাহে বিলম্ব ঘটলে উৎপাদনশীল খাতে তার প্রভাব অনুভূত হয়। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের মতো রপ্তানিমুখী শিল্প এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য। বর্তমান প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সরবরাহ চেইনকে বৈচিত্র্যময় করার প্রয়োজনীয়তা আগের চেয়ে অনেক বেশি অনুভূত হচ্ছে।
বাংলাদেশের বর্তমান জ্বালানি ব্যবহারের চিত্রের দিকে তাকালে দেখা যায়, দেশীয় খনিগুলো থেকে প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানির ওপর নির্ভরতা একটি বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। দেশের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে সরকার দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির পাশাপাশি স্পট মার্কেট থেকেও জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে হরমুজ প্রণালীর অস্থিরতা নির্দেশ করে যে, একক কোনো ভৌগোলিক অঞ্চলের ওপর অতি-নির্ভরশীলতা কমিয়ে বিকল্প উৎসের সন্ধান করা প্রয়োজন। বর্তমান সময়ে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের কারণে মুদ্রাস্ফীতির যে ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে, তা মোকাবিলায় সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি নিশ্চিত করা সরকারের জন্য একটি বড় লক্ষ্য। শিল্প ও কৃষি খাতে জ্বালানির যোগান নিরবচ্ছিন্ন রাখতে কার্যকর ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের জন্য এখন বহুমুখী কৌশল অবলম্বন করা প্রয়োজন। প্রথমত, জ্বালানি আমদানির উৎসে বৈচিত্র্য আনা একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি অন্যান্য বিভিন্ন দেশ থেকে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে জ্বালানি সংগ্রহের সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে। এতে করে কোনো একটি নির্দিষ্ট জলপথে সমস্যা তৈরি হলেও বিকল্প পথ বা উৎস থেকে জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখা সম্ভব হবে।
দ্বিতীয়ত, আঞ্চলিক জ্বালানি সহযোগিতাকে আরও সুসংহত করা প্রয়োজন। প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধি এবং জলবিদ্যুৎ আমদানির মতো প্রকল্পগুলো জ্বালানি নিরাপত্তা বলয়কে আরও শক্তিশালী করবে।
দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সম্পদ অনুসন্ধানে গতিশীলতা আনা এখন অপরিহার্য। বাংলাদেশের নিজস্ব ভূখণ্ডে এবং বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। সাশ্রয়ী এবং টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার জন্য স্থলভাগের পুরোনো কূপগুলো থেকে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন নতুন খনি আবিষ্কারে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি যেমন সৌরশক্তি, বায়ুবিদ্যুৎ এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের হার বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। এটি আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই একটি জ্বালানি কাঠামো তৈরিতে সহায়তা করবে।
জ্বালানি সংরক্ষণের ক্ষমতা বা মজুত সক্ষমতা বৃদ্ধি করাও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংকটকালীন জাতীয় চাহিদা মেটানোর জন্য দেশজুড়ে স্টোরেজ টার্মিনালগুলোর সক্ষমতা পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হচ্ছে। নতুন নতুন অয়েল রিফাইনারি স্থাপন এবং এলএনজি টার্মিনালের সংখ্যা বৃদ্ধি করার মাধ্যমে জ্বালানি মজুতের একটি শক্তিশালী পরিকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে কোনো অস্থিরতা তৈরি হলেও সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় কোনো বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা কমে আসবে। এ ছাড়া সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বয়ে জ্বালানি মজুত ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও ডিজিটাল তদারকির আওতায় আনা হচ্ছে।
জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে মিতব্যয়ী হওয়া এবং অপচয় রোধ করা এখন একটি জাতীয় কর্তব্য হিসেবে দেখা দিচ্ছে। শিল্প কারখানা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে জ্বালানি ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। ‘এনার্জি এফিসিয়েন্সি’ বা শক্তি সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতির ব্যবহার উৎসাহিত করার মাধ্যমে সামগ্রিক চাহিদা কিছুটা কমিয়ে আনা সম্ভব। লোড ডেসপাচ সেন্টারের আধুনিকায়ন এবং গ্রিড লাইনের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সিস্টেম লস কমিয়ে আনলে উৎপাদিত জ্বালানির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হবে। অপ্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে জ্বালানি ও বিদ্যুতের ব্যবহার কমিয়ে এনে তা উৎপাদনশীল খাতে ডাইভার্ট করা গেলে অর্থনীতির চাকা সচল থাকবে।
হরমুজ প্রণালির অস্থিরতা আমাদের শিখিয়ে দিচ্ছে যে, ভূ-রাজনীতি এবং জ্বালানি নিরাপত্তা একে অপরের পরিপূরক। বিশ্ববাজারের অনিশ্চয়তা সামাল দিতে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আমদানির বিকল্প উৎস খোঁজার কোনো বিকল্প নেই। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের শিল্পায়ন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা সম্ভব। সরকারের দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে দক্ষ জনবল তৈরি এবং প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানো প্রয়োজন। বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলোকে সুযোগে রূপান্তর করে একটি মজবুত জ্বালানি কাঠামো গড়ে তোলাই হবে আগামীর লক্ষ্য।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা যেকোনো দেশের জন্য একটি সংবেদনশীল ইস্যু। হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথের স্থিতিশীলতা যেমন কাম্য, তেমনি যেকোনো পরিস্থিতির জন্য আগাম প্রস্তুতি রাখাও বিচক্ষণতার পরিচয়। বাংলাদেশ বর্তমানে যে উন্নয়ন যাত্রায় রয়েছে, তার মূল চালিকাশক্তি হলো জ্বালানি। তাই এই খাতের চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি আরও দৃঢ় হবে। সমন্বিত পরিকল্পনা, বৈচিত্র্যময় আমদানি উৎস এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমেই বাংলাদেশ তার জ্বালানি নিরাপত্তার লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হবে।
লেখক: মো. সালমান সাদেকীন চয়ন, সহকারী পরিচালক, তথ্য ও প্রকাশনা, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)
]]>গতকাল রবিবার রাজধানীর আইডিইবি মিলনায়তনে ‘১১ দলীয় ঐক্য’ আয়োজিত জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, রাজপথই ১১ দলের মূল ঠিকানা। রাজপথেই দাবি আদায় করা হবে। তিনি বলেন, জুলাই শহীদরা কোনো দলের সম্পদ নয়, তারা সমগ্র জাতির সম্পদ।
]]>আজ সোমবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।
তিনি বলেন, সিকেডি ইউরোলজি হাসপাতালের চাঞ্চল্যকর চাঁদাবাজি মামলার প্রধান অভিযুক্ত মঈনসহ মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।
গত ১১ এপ্রিল সিকেডি হাসপাতালের ওটি ইনচার্জ আবু হানিফ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় সাবেক যুবদল নেতা মঈন উদ্দিন মঈনকে এক নম্বর আসামি করে একটি চাঁদাবাজির মামলা করেন।
এর আগে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে ওই হাসপাতালে চাঁদা দাবি ও মব সৃষ্টির ঘটনা ঘটে।
]]>রোববার (১২ এপ্রিল) বিএনপির নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে তা জমা দেন মেঘনা আলম।
জাতীয় নির্বাচনে গণ অধিকার পরিষদ থেকে অংশ নেওয়ার পর এবার সংরক্ষিত আসনে বিএনপি এমপি হতে চাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি যেভাবে দেশ পরিচালনা করছেন তাতে আমি অনুপ্রাণিত হয়েছি। রাস্তায় ট্রাফিক জ্যাম এড়াতে তিনি প্রটোকল নিচ্ছেন না, ছুটির দিনেও অফিস করছেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করছেন। এতে আমার মনে হয়েছে সত্যিই তিনি দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চান, মানুষের সেবা করতে চান। যেহেতু আমি জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত, তাই মনে করছি বিএনপির প্লাটফর্ম থেকে আমার জন্য জনকল্যাণমুলক কাজ করা সহজ হবে।
মেঘনা আলম সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার বিষয়ে বেশ আশাবাদী
]]>বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ (পিওর গোল্ড)-এর দাম কমে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে।
সর্বশেষ দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭২১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২ হাজার ৮৯৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৭৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম এক ভরিতে ৪ হাজার ৪৩২ টাকা কমানো হয়, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য হ্রাস।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামা এবং স্থানীয় পর্যায়ে কাঁচা স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমে যাওয়ার প্রভাবেই দেশের বাজারে এই মূল্য সমন্বয় হয়েছে।
]]>