বিশ্ব রাজনীতির দাবার চালে পারস্য উপসাগরের প্রবেশদ্বার ‘হরমুজ প্রণালি’ এখন কেবল একটি ভৌগোলিক রেখা নয়, বরং এটি বিশ্ব অর্থনীতির স্পন্দন। ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী মাত্র ২১ মাইল প্রশস্ত এই সরু জলপথটি দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ২০ শতাংশেরও বেশি পরিবাহিত হয়। ২০২৬ সালের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই অঞ্চলে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা বাংলাদেশের মতো ক্রমবর্ধমান জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশের জন্য এক নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার একটি বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা খনিজ তেল ও এলএনজির ওপর নির্ভরশীল, যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এই জলপথ দিয়ে দেশে পৌঁছায়।
বর্তমানে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের একটি বড় অংশ আমদানি করা এলএনজি এবং খনিজ তেলের ওপর নির্ভরশীল। দেশের শিল্পায়ন ও ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি বজায় রাখতে সরকার যে পরিমাণ জ্বালানি আমদানির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, তার প্রধান উৎস হিসেবে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
২০২৬ সালের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের এলএনজি আমদানির একটি বড় অংশ আসে কাতার ও ওমান থেকে। একইভাবে ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলের সরবরাহ চেইন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত। হরমুজ প্রণালীতে চলাচলের ওপর কোনো ধরণের ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব বা কারিগরি বিঘ্ন ঘটলে সরবরাহ ব্যবস্থা যাতে নিরবচ্ছিন্ন থাকে, সেটি নিশ্চিত করা এখন জাতীয় অগ্রাধিকারের বিষয়।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যের ওঠানামা সরাসরি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলে। হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও ট্যাঙ্কারের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়লে বিশ্ববাজারে বীমা খরচ এবং পরিবহন ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যায়। বাংলাদেশের জন্য এটি একটি কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। একদিকে উচ্চমূল্যে জ্বালানি ক্রয়ের ফলে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর এক ধরণের চাপ সৃষ্টি হয়, অন্যদিকে সরবরাহে বিলম্ব ঘটলে উৎপাদনশীল খাতে তার প্রভাব অনুভূত হয়। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের মতো রপ্তানিমুখী শিল্প এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য। বর্তমান প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সরবরাহ চেইনকে বৈচিত্র্যময় করার প্রয়োজনীয়তা আগের চেয়ে অনেক বেশি অনুভূত হচ্ছে।
বাংলাদেশের বর্তমান জ্বালানি ব্যবহারের চিত্রের দিকে তাকালে দেখা যায়, দেশীয় খনিগুলো থেকে প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানির ওপর নির্ভরতা একটি বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। দেশের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে সরকার দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির পাশাপাশি স্পট মার্কেট থেকেও জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে হরমুজ প্রণালীর অস্থিরতা নির্দেশ করে যে, একক কোনো ভৌগোলিক অঞ্চলের ওপর অতি-নির্ভরশীলতা কমিয়ে বিকল্প উৎসের সন্ধান করা প্রয়োজন। বর্তমান সময়ে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের কারণে মুদ্রাস্ফীতির যে ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে, তা মোকাবিলায় সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি নিশ্চিত করা সরকারের জন্য একটি বড় লক্ষ্য। শিল্প ও কৃষি খাতে জ্বালানির যোগান নিরবচ্ছিন্ন রাখতে কার্যকর ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের জন্য এখন বহুমুখী কৌশল অবলম্বন করা প্রয়োজন। প্রথমত, জ্বালানি আমদানির উৎসে বৈচিত্র্য আনা একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি অন্যান্য বিভিন্ন দেশ থেকে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে জ্বালানি সংগ্রহের সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে। এতে করে কোনো একটি নির্দিষ্ট জলপথে সমস্যা তৈরি হলেও বিকল্প পথ বা উৎস থেকে জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখা সম্ভব হবে।
দ্বিতীয়ত, আঞ্চলিক জ্বালানি সহযোগিতাকে আরও সুসংহত করা প্রয়োজন। প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধি এবং জলবিদ্যুৎ আমদানির মতো প্রকল্পগুলো জ্বালানি নিরাপত্তা বলয়কে আরও শক্তিশালী করবে।
দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সম্পদ অনুসন্ধানে গতিশীলতা আনা এখন অপরিহার্য। বাংলাদেশের নিজস্ব ভূখণ্ডে এবং বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। সাশ্রয়ী এবং টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার জন্য স্থলভাগের পুরোনো কূপগুলো থেকে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন নতুন খনি আবিষ্কারে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি যেমন সৌরশক্তি, বায়ুবিদ্যুৎ এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের হার বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। এটি আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই একটি জ্বালানি কাঠামো তৈরিতে সহায়তা করবে।
জ্বালানি সংরক্ষণের ক্ষমতা বা মজুত সক্ষমতা বৃদ্ধি করাও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংকটকালীন জাতীয় চাহিদা মেটানোর জন্য দেশজুড়ে স্টোরেজ টার্মিনালগুলোর সক্ষমতা পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হচ্ছে। নতুন নতুন অয়েল রিফাইনারি স্থাপন এবং এলএনজি টার্মিনালের সংখ্যা বৃদ্ধি করার মাধ্যমে জ্বালানি মজুতের একটি শক্তিশালী পরিকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে কোনো অস্থিরতা তৈরি হলেও সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় কোনো বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা কমে আসবে। এ ছাড়া সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বয়ে জ্বালানি মজুত ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও ডিজিটাল তদারকির আওতায় আনা হচ্ছে।
জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে মিতব্যয়ী হওয়া এবং অপচয় রোধ করা এখন একটি জাতীয় কর্তব্য হিসেবে দেখা দিচ্ছে। শিল্প কারখানা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে জ্বালানি ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। ‘এনার্জি এফিসিয়েন্সি’ বা শক্তি সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতির ব্যবহার উৎসাহিত করার মাধ্যমে সামগ্রিক চাহিদা কিছুটা কমিয়ে আনা সম্ভব। লোড ডেসপাচ সেন্টারের আধুনিকায়ন এবং গ্রিড লাইনের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সিস্টেম লস কমিয়ে আনলে উৎপাদিত জ্বালানির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হবে। অপ্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে জ্বালানি ও বিদ্যুতের ব্যবহার কমিয়ে এনে তা উৎপাদনশীল খাতে ডাইভার্ট করা গেলে অর্থনীতির চাকা সচল থাকবে।
হরমুজ প্রণালির অস্থিরতা আমাদের শিখিয়ে দিচ্ছে যে, ভূ-রাজনীতি এবং জ্বালানি নিরাপত্তা একে অপরের পরিপূরক। বিশ্ববাজারের অনিশ্চয়তা সামাল দিতে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আমদানির বিকল্প উৎস খোঁজার কোনো বিকল্প নেই। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের শিল্পায়ন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা সম্ভব। সরকারের দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে দক্ষ জনবল তৈরি এবং প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানো প্রয়োজন। বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলোকে সুযোগে রূপান্তর করে একটি মজবুত জ্বালানি কাঠামো গড়ে তোলাই হবে আগামীর লক্ষ্য।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা যেকোনো দেশের জন্য একটি সংবেদনশীল ইস্যু। হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথের স্থিতিশীলতা যেমন কাম্য, তেমনি যেকোনো পরিস্থিতির জন্য আগাম প্রস্তুতি রাখাও বিচক্ষণতার পরিচয়। বাংলাদেশ বর্তমানে যে উন্নয়ন যাত্রায় রয়েছে, তার মূল চালিকাশক্তি হলো জ্বালানি। তাই এই খাতের চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি আরও দৃঢ় হবে। সমন্বিত পরিকল্পনা, বৈচিত্র্যময় আমদানি উৎস এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমেই বাংলাদেশ তার জ্বালানি নিরাপত্তার লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হবে।
লেখক: মো. সালমান সাদেকীন চয়ন, সহকারী পরিচালক, তথ্য ও প্রকাশনা, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)
রাজনীতির দাবার চালে পারস্য উপসাগরের প্রবেশদ্বার ‘হরমুজ প্রণালি’ এখন কেবল একটি ভৌগোলিক রেখা নয়, বরং এটি বিশ্ব অর্থনীতির স্পন্দন। ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী মাত্র ২১ মাইল প্রশস্ত এই সরু জলপথটি দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ২০ শতাংশেরও বেশি পরিবাহিত হয়। ২০২৬ সালের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই অঞ্চলে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা বাংলাদেশের মতো ক্রমবর্ধমান জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশের জন্য এক নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার একটি বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা খনিজ তেল ও এলএনজির ওপর নির্ভরশীল, যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এই জলপথ দিয়ে দেশে পৌঁছায়।
বর্তমানে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের একটি বড় অংশ আমদানি করা এলএনজি এবং খনিজ তেলের ওপর নির্ভরশীল। দেশের শিল্পায়ন ও ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি বজায় রাখতে সরকার যে পরিমাণ জ্বালানি আমদানির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, তার প্রধান উৎস হিসেবে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
২০২৬ সালের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের এলএনজি আমদানির একটি বড় অংশ আসে কাতার ও ওমান থেকে। একইভাবে ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলের সরবরাহ চেইন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত। হরমুজ প্রণালীতে চলাচলের ওপর কোনো ধরণের ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব বা কারিগরি বিঘ্ন ঘটলে সরবরাহ ব্যবস্থা যাতে নিরবচ্ছিন্ন থাকে, সেটি নিশ্চিত করা এখন জাতীয় অগ্রাধিকারের বিষয়।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যের ওঠানামা সরাসরি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলে। হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও ট্যাঙ্কারের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়লে বিশ্ববাজারে বীমা খরচ এবং পরিবহন ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যায়। বাংলাদেশের জন্য এটি একটি কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। একদিকে উচ্চমূল্যে জ্বালানি ক্রয়ের ফলে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর এক ধরণের চাপ সৃষ্টি হয়, অন্যদিকে সরবরাহে বিলম্ব ঘটলে উৎপাদনশীল খাতে তার প্রভাব অনুভূত হয়। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের মতো রপ্তানিমুখী শিল্প এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য। বর্তমান প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সরবরাহ চেইনকে বৈচিত্র্যময় করার প্রয়োজনীয়তা আগের চেয়ে অনেক বেশি অনুভূত হচ্ছে।
বাংলাদেশের বর্তমান জ্বালানি ব্যবহারের চিত্রের দিকে তাকালে দেখা যায়, দেশীয় খনিগুলো থেকে প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানির ওপর নির্ভরতা একটি বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। দেশের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে সরকার দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির পাশাপাশি স্পট মার্কেট থেকেও জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে হরমুজ প্রণালীর অস্থিরতা নির্দেশ করে যে, একক কোনো ভৌগোলিক অঞ্চলের ওপর অতি-নির্ভরশীলতা কমিয়ে বিকল্প উৎসের সন্ধান করা প্রয়োজন। বর্তমান সময়ে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের কারণে মুদ্রাস্ফীতির যে ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে, তা মোকাবিলায় সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি নিশ্চিত করা সরকারের জন্য একটি বড় লক্ষ্য। শিল্প ও কৃষি খাতে জ্বালানির যোগান নিরবচ্ছিন্ন রাখতে কার্যকর ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের জন্য এখন বহুমুখী কৌশল অবলম্বন করা প্রয়োজন। প্রথমত, জ্বালানি আমদানির উৎসে বৈচিত্র্য আনা একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি অন্যান্য বিভিন্ন দেশ থেকে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে জ্বালানি সংগ্রহের সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে। এতে করে কোনো একটি নির্দিষ্ট জলপথে সমস্যা তৈরি হলেও বিকল্প পথ বা উৎস থেকে জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখা সম্ভব হবে।
দ্বিতীয়ত, আঞ্চলিক জ্বালানি সহযোগিতাকে আরও সুসংহত করা প্রয়োজন। প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধি এবং জলবিদ্যুৎ আমদানির মতো প্রকল্পগুলো জ্বালানি নিরাপত্তা বলয়কে আরও শক্তিশালী করবে।
দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সম্পদ অনুসন্ধানে গতিশীলতা আনা এখন অপরিহার্য। বাংলাদেশের নিজস্ব ভূখণ্ডে এবং বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। সাশ্রয়ী এবং টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার জন্য স্থলভাগের পুরোনো কূপগুলো থেকে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন নতুন খনি আবিষ্কারে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি যেমন সৌরশক্তি, বায়ুবিদ্যুৎ এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের হার বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। এটি আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই একটি জ্বালানি কাঠামো তৈরিতে সহায়তা করবে।
জ্বালানি সংরক্ষণের ক্ষমতা বা মজুত সক্ষমতা বৃদ্ধি করাও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংকটকালীন জাতীয় চাহিদা মেটানোর জন্য দেশজুড়ে স্টোরেজ টার্মিনালগুলোর সক্ষমতা পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হচ্ছে। নতুন নতুন অয়েল রিফাইনারি স্থাপন এবং এলএনজি টার্মিনালের সংখ্যা বৃদ্ধি করার মাধ্যমে জ্বালানি মজুতের একটি শক্তিশালী পরিকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে কোনো অস্থিরতা তৈরি হলেও সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় কোনো বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা কমে আসবে। এ ছাড়া সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বয়ে জ্বালানি মজুত ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও ডিজিটাল তদারকির আওতায় আনা হচ্ছে।
জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে মিতব্যয়ী হওয়া এবং অপচয় রোধ করা এখন একটি জাতীয় কর্তব্য হিসেবে দেখা দিচ্ছে। শিল্প কারখানা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে জ্বালানি ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। ‘এনার্জি এফিসিয়েন্সি’ বা শক্তি সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতির ব্যবহার উৎসাহিত করার মাধ্যমে সামগ্রিক চাহিদা কিছুটা কমিয়ে আনা সম্ভব। লোড ডেসপাচ সেন্টারের আধুনিকায়ন এবং গ্রিড লাইনের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সিস্টেম লস কমিয়ে আনলে উৎপাদিত জ্বালানির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হবে। অপ্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে জ্বালানি ও বিদ্যুতের ব্যবহার কমিয়ে এনে তা উৎপাদনশীল খাতে ডাইভার্ট করা গেলে অর্থনীতির চাকা সচল থাকবে।
হরমুজ প্রণালির অস্থিরতা আমাদের শিখিয়ে দিচ্ছে যে, ভূ-রাজনীতি এবং জ্বালানি নিরাপত্তা একে অপরের পরিপূরক। বিশ্ববাজারের অনিশ্চয়তা সামাল দিতে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আমদানির বিকল্প উৎস খোঁজার কোনো বিকল্প নেই। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের শিল্পায়ন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা সম্ভব। সরকারের দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে দক্ষ জনবল তৈরি এবং প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানো প্রয়োজন। বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলোকে সুযোগে রূপান্তর করে একটি মজবুত জ্বালানি কাঠামো গড়ে তোলাই হবে আগামীর লক্ষ্য।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা যেকোনো দেশের জন্য একটি সংবেদনশীল ইস্যু। হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথের স্থিতিশীলতা যেমন কাম্য, তেমনি যেকোনো পরিস্থিতির জন্য আগাম প্রস্তুতি রাখাও বিচক্ষণতার পরিচয়। বাংলাদেশ বর্তমানে যে উন্নয়ন যাত্রায় রয়েছে, তার মূল চালিকাশক্তি হলো জ্বালানি। তাই এই খাতের চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি আরও দৃঢ় হবে। সমন্বিত পরিকল্পনা, বৈচিত্র্যময় আমদানি উৎস এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমেই বাংলাদেশ তার জ্বালানি নিরাপত্তার লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হবে।
লেখক: মো. সালমান সাদেকীন চয়ন, সহকারী পরিচালক, তথ্য ও প্রকাশনা, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)
]]>মিশরের দৈনিক আল- মাসরী-ইল-ইয়ূম জানায়, জ্যোতিবৈজ্ঞানিদের হিসাব অনুযায়ী, ১৪৪৭ হিজরি সালের জিলহজ মাসের প্রথম দিন শুরু হতে পারে ২০২৬ সালের ১৮ মে (সোমবার)। এর আগের দিন ১৭ মে (রবিবার) হবে জিলকদ মাসের শেষ দিন। এ হিসাবে দেশটিতে ২০২৬ সালের ঈদুল আজহার ছুটি নির্ধারিত হতে পারে ২৭ মে (বুধবার) থেকে ২৯ মে (শুক্রবার) পর্যন্ত। এর আগে ২৬ মে (মঙ্গলবার) পালিত হবে পবিত্র আরাফার দিন, যা হজের অন্যতম প্রধান আনুষ্ঠানিকতা।
ইসলামি বা হিজরি ক্যালেন্ডার মূলত চাঁদের গতিপথের ওপর নির্ভরশীল। চাঁদ পৃথিবীকে একবার প্রদক্ষিণ করতে যে সময় নেয়, সেটিই একটি চান্দ্র মাস হিসেবে গণ্য হয়। হিজরি ক্যালেন্ডারের ১২টি মাস হলো— মহররম, সফর, রবিউল আউয়াল, রবিউস সানি, জমাদিউল আউয়াল, জমাদিউস সানি, রজব, শাবান, রমজান, শাওয়াল, জিলকদ এবং জিলহজ। এই চান্দ্র বর্ষপঞ্জি বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশে অনুসরণ করা হয়। বিশেষ করে সৌদি আরব-সহ বেশ কিছু আরব দেশ এটি রাষ্ট্রীয় ক্যালেন্ডার হিসেবে ব্যবহার করে।
ঐতিহাসিক ভাবে, খলিফা উমর ইবন আল-খাত্তাব হিজরি সনের প্রচলন করেন। তিনি মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতকে (৬২২ খ্রিস্টাব্দ) হিজরি সনের সূচনা হিসেবে নির্ধারণ করেন। এ কারণেই এই বর্ষপঞ্জিকে ‘হিজরি’ ক্যালেন্ডার বলা হয়।
তবে উল্লেখ্য, ঈদুল আজহার চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হবে চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে, যা সংশ্লিষ্ট দেশের ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে থাকে।
]]>এরই মধ্যে কঠিন শিলা কেটে সুড়ঙ্গ খননের কাজ শুরু হয়েছে। পুরো সুড়ঙ্গের দৈর্ঘ্য হবে ২৭ কিলোমিটারের বেশি, আর এটি সমুদ্রপৃষ্ঠের প্রায় ৪০০ মিটার নিচ পর্যন্ত নেমে যাবে।
প্রকল্পটি শেষ হলে নরওয়ের প্রধান শহরগুলোর মধ্যে যাতায়াতের সময় কমবে এবং ফেরি পারাপারের প্রয়োজনও কমে আসবে। এখন ফেরি পারাপার অনেকটাই আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল।
এই সড়কসুড়ঙ্গ নির্মাণকাজের অগ্রগতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে সংবাদমাধ্যম সিএনএন। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রকল্পে জটিল প্রযুক্তিগত কাজ রয়েছে, তাই কাজ শেষ করতে দীর্ঘ সময় লাগবে।
]]>বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুর অম্বিকা মেমোরিয়াল ময়দানেমতবিনিবার সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ফরিদপুরে সরকারের পক্ষে হ্যাঁ ভোটে সিল দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের নির্বাচন হচ্ছে অভ্যুত্থান পরবর্তী একটি নির্বাচন। অন্তর্বর্তী সরকারের কাজ সংস্কার করা, বিচার নিশ্চিত করা, গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচার ও নির্বাচন নিশ্চিত করা।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সবাইকে নিয়ে ১১টি প্রশাসন করেছি ভারসাম্য রক্ষার্থে। তাদের রিপোর্টের আলোকে গণভোটে ৪টি প্রশ্নে নির্বাচন দিয়েছি। এখানে ভোট চুরির কোনো সুযোগ থাকবে না। গণভোট হচ্ছে পদ্ধতি পরিবর্তনের নির্বাচন।’
এসময় ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) কামরুল হাসান তালুকদার, পুলিশ সুপার (এসপি) মো. নজরুল ইসলামসহ জেলার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী-কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে ভোটের গাড়ি নিয়ে প্রচারণার অংশ হিসেবে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে আম্বিকা মেমোরিয়াল ময়দানে গিয়ে শেষ হয়।
]]>যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে শুল্ক আরোপের ফলে রফতানিতে কিছুটা প্রভাব পড়বে। তবে এটি বড় কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। রোববার (৬ এপ্রিল) ঈদের ছুটি শেষে সচিবালয়ে প্রথম কার্যদিবসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়িয়ে ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করা হবে। নতুন শুল্ক আরোপের যতটুকু প্রভাব পড়বে তা সামলানোর ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এ নিয়ে বেশি চিন্তিত হওয়ার কারণ নেই। বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে। এ সময় নতুন শুল্কারোপ নিয়ে কিছু প্রশ্ন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলে, এবারের রমজান এবং ঈদে দ্রব্যমূল্যের দাম তূলনামূলকভাবে কম ছিল। ঈদযাত্রায় মানুষ স্বস্তি পেয়েছে। সকল মন্ত্রণালয় একসাথে কাজ করেছে বলে এটি সম্ভব হয়েছে। এ সময় দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালোর দিকে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
/আরএইচ
]]>নিহত স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে কয়েকজন হামাসের সদস্য ছিল বলেও দাবি তেলআবিবের। গত ২৩ মার্চ রাতে রাফায় একটি অ্যাম্বুলেন্স, জাতিসংঘের গাড়ি ও একটি ফায়ার ট্রাক লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। সেখানেই প্রাণ হারান স্বেচ্ছাসেবীরা।
নেতানিয়াহু প্রশাসনের দাবি, অন্ধকারে সন্দেহজনকভাবে হেডলাইট বা ফ্লাশলাইট ছাড়া চালানোয় হামলা করা হয়েছিল ওই গাড়িবহরে।
তবে সেদিনের হামলায় নিহত এক স্বাস্থ্যকর্মীর মুঠোফোনে ধারণকৃত একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। যাতে স্পষ্ট দেখা যায়, এমার্জেন্সি লাইট জ্বালিয়েই চলছিল গাড়িগুলো। রেডক্রিসেন্টের লোগোটিও দেখা যাচ্ছিল পরিষ্কারভাবেই।
/এটিএম
]]>চীনের গণমাধ্যম সিজিটিএন-কে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এ আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা। শনিবার (৫ এপ্রিল) চার মিনিটের ওই সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করা হয়। সাক্ষাৎকারে চীনের সাথে থাকা সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষাও প্রকাশ করেন ড. ইউনূস।
সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা নিয়েও কথা বলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। চাইনিজ হাসপাতালগুলোর প্রশংসা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ চীনের স্বাস্থ্যসেবা পেতে চায়। এটা হলে তারা অনেক খুশি হবে। তাছাড়া, স্বাস্থ্যখাতে চাইনিজ টেকনোলজি থেকে বাংলাদেশের অনেক কিছু পাওয়ার আছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পথে রয়েছে বাংলাদেশ। দেশকে এগিয়ে নিতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। যুব সম্প্রদায়ের প্রত্যাশা অনুযায়ী বাংলাদেশকে রূপান্তরে সহায়তা করতে পারে চীন। আমাদের অর্ধেক জনগোষ্ঠীর বয়স ২৭ বছরের মধ্যে। সুতরাং তারা অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দক্ষ জনশক্তি হতে পারে।
এ সময় বাংলাদেশ ও চীনের পারস্পরিক সম্পর্কে অর্জিত সাফল্যের প্রশংসাও করেন অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার ৫০ বছরের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সাফল্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। চীন জনগণের আকাঙ্খার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণভাবে বাংলাদেশের রূপান্তরে সহযোগিতা করে যাবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, এজন্য অবশ্য সংস্কৃতি ও ভাষাচর্চার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বাংলাদেশে চাইনিজ সাংস্কৃতিক চর্চা কেন্দ্র স্থাপনে চীন সহায়তা করতে পারে। এর ফলে বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ চাইনিজ ভাষা ও সংস্কৃতি জানতে পারবে। এতে দুই দেশের জনগণের মধ্যে আরও গভীর সম্পর্ক স্থাপিত হবে।
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, শান্তিই একমাত্র সমাধান, যুদ্ধ কোনো সমাধান নয়। শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য যুদ্ধের কোনো প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ২৬ থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত ড. মুহাম্মদ ইউনূস দক্ষিণ চীনের হাইনান দ্বীপ প্রদেশে অনুষ্ঠিত বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়ার বার্ষিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। এরপর তিনি বেইজিং সফর করেন। এটি প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণের পর তার প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর ছিল।
/এমএইচ
]]>বঙ্গোপসাগর, ২৭ লাখ বর্গকিলোমিটারের বিশাল এই সমুদ্রপথের সুবিধা পাচ্ছে এই অঞ্চলের সাতটি দেশ যথাক্রমে বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড। শিল্প ও বাণিজ্যে এ সুবিধার সদ্ব্যবহারে ২৭ বছর আগে শুরু হয় বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেক্টরাল, টেকনিকাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন (বিমসটেক) যদিও এখন পর্যন্ত কেবল প্রতিশ্রুতি ছাড়া তেমন কোনো অগ্রগতি নেই।
বিশ্ব বাণিজ্যে গ্লোবাল সাউথের উত্থানে সক্রিয় হতে চায় এ আঞ্চলিক জোট। আসছে শীর্ষ সম্মেলনে বাণিজ্য সম্ভাবনা বৃদ্ধির সুযোগ খুঁজবেন ৭ দেশের শীর্ষ নেতারা। সমঝোতা হতে পারে, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ও সমুদ্র পরিবহন নিয়ে। সংস্থাটির ভবিষ্যৎ নিয়েও কর্মপরিকল্পনা দেবেন বিশিষ্টজনদের একটি কমিটি।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস থাইল্যান্ডে বসতে যাওয়া এবারের বিমসটেকে সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন ৩ এপ্রিল।
গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমরা জানি নf এটা (বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ও সমুদ্র পরিবহন নিয়ে সমঝোতা) স্বাক্ষর করার মতো অবস্থায় থাকবে কি না। কিন্তু এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, আমরা যদি শূন্য শুল্ক সুবিধা পরস্পরের মধ্যে পেতে পারি, সেটার সুযোগে আমরা যদি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারি। বিমসটেক মার্কেটে আমরা শূন্য শুল্ক সুবিধাটা নিয়ে পণ্য রফতানি করতে পারি।
বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইন্সটিটিউটের সভাপতি এম হুমায়ুন কবীর বলেছেন, বিমসটেক আগামী কিছুদিন কীভাবে চলবে তার একটা দিক-নির্দেশনার ব্যাপার আছে। একটা ডিক্লারেশন থাকার কথা বলা হচ্ছে। এছাড়াও বিমসটেক কেমন চলছে, এসডিজি নিয়ে এই অঞ্চল কতটা অগ্রগতি করতে পেরেছে, কীভাবে পারস্পরিক বিশ্বাসযোগ্যতাটা বাড়ানো যায়, গ্লোবালাইজেশনের যে প্রক্রিয়াটা আছে, এটাকে কীভাবে আরও ইনক্লুসিভ করা যায়।
আঞ্চলিক রাজনৈতিক জোট হিসেবেও গুরুত্ব বাড়ছে বিমসটেকের। তাই বহুপাক্ষিক এই সম্মেলনের সাইডলাইনে দ্বিপাক্ষিক বেশ কিছু বৈঠক সেরে ফেলতে পারেন দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নেতারা। এমনকি মিয়ানমারের জান্তা সরকার প্রধানের সাথে প্রথমবারের মতো বৈঠক হতে পারে অনেক নেতার।
ড. মোস্তাফিজুর রহমান বললেন, সিঙ্গাপুরের সাথেও আমরা দ্বিপাক্ষিক আলাপ-আলোচনা শুরু করেছি। সেটা ঠিক আছে। বিমসটেকের প্রধান কার্যালয় বাংলাদেশে অবস্থিত। তাই এখানে আমাদের একটা ন্যাচারাল এডভেন্টাজ থাকার কথা।
এম. হুমায়ুন কবীর বলেন, আস্থার জায়গাটা তৈরি হলে সম্পর্কটা স্বাভাবিক জায়গায় আসতে পারে এখানে। তারা ওখানে বিস্তারিত আলাপ-আলোচনা করবে, আমি তা মনে করছি না। পারস্পরিকভাবে যদি তারা একে-অপরের ওপর আস্থা বোধ করেন, তাহলে সম্পর্ক স্বাভাবিক হতে পারে বলে আমার ধারণা। আমাদের দিক থেকে তো আমরা উদ্যোগী হয়েই আছি।
উল্লেখ্য, ব্যাংকক বিমসটেক সম্মেলন শেষে ৪ এপ্রিল সংস্থাটির সভাপতির দায়িত্ব নেবে বাংলাদেশ। বিমসটেকে সীমাবদ্ধ না থেকে বাংলাদেশের সামনে এখন আসিয়ান অঞ্চলে সম্পর্ক জোরদারেরও হাতছানির কথা বলছেন বিশ্লেষকরা।
/এমএন
]]>১। চীনা নাগরিক দাকা রাজধানী ঢাকার উত্তরার ১১ নং সেক্টরে বসবাস করেন। গত ০৪ মার্চ ২০২৫ তারিখ বিকাল আনুমানিক ১৭.২০ ঘটিকায় উত্তরা পশ্চিম থানাধীন ১১নং সেক্টরের ১৪নং রোড এলাকায় চীনা নাগরিক দাকার ব্যবহৃত আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স মোবাইল, নগদ ৩০,০০০/- (ত্রিশ হাজার ) টাকা যাবতীয় ব্যাংক কার্ডসহ এবং ওয়ালেটসহ মূল্যবান সামগ্রী হারিয়ে য়ায়।
২। উক্ত ঘটনায় ভিকটিম চীনা নাগরিক দাকা উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেন। যার জিডি নং-৩৯১, তারিখ- ০৪/০৩/২০২৫। পরবর্তীতে চীনা নাগরিক দাকার হারিয়ে যাওয়া আইফোন মোবাইল উদ্ধারের লক্ষ্যে উক্ত জিডির কপি সংযুক্ত করে র্যাব-১০ বরাবর একটি হারানো অভিযোগপত্র দাখিল করেন। উক্ত অভিযোগ পত্রের ভিত্তিতে র্যাব-১০ এর একটি আভিযানিক দল চীনা নাগরিকের মোবাইলসহ উল্লেখিত মূল্যবান সামগ্রী উদ্ধারের লক্ষ্যে ছায়াতদন্ত শুরু করে।
৩। এরই ধারাবাহিকতায় অদ্য ০৬/০৩/২০২৫ তারিখ রাত আনুমানিক ১৮.৩০ ঘটিকায় র্যাব-১০ এর উক্ত আভিযানিক দল রাজধানীর ডেমরা থানধীন কোনাপাড়া এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। উক্ত অভিযানে ডিএমপি ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানার সাধারন ডায়েরি নং-৩৯১,তারিখ-০৪/০৩/২০২৫ মূলে চীনা নাগরিকের হারিয়ে যাওয়া আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স মোবাইল উদ্ধার করে।
৪। উদ্ধারকৃত মোবাইলটি চীনা নাগরিকের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
]]>চিঠিতে প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সফরের মাধ্যমে তরুণ নারী ও পুরুষদের সাথে সাক্ষাৎ করতে পারবেন তিনি, যারা এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির অন্যতম প্রধান সুবিধাভোগী হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের অবকাঠামোতে স্টারলিংকের সংযোগ অন্তর্ভুক্ত করা একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। বিশেষত বাংলাদেশের উদ্যমী তরুণ সমাজ, গ্রামীণ ও প্রান্তিক নারীদের পাশাপাশি দূরবর্তী এবং সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য।
এছাড়াও তিনি তার উচ্চ প্রতিনিধি ড. খলিলুর রহমানকে স্পেসএক্স দলের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করতে নির্দেশ দিয়েছেন। যাতে প্রয়োজনীয় কাজগুলো দ্রুত সম্পন্ন করে আগামী ৯০ কর্মদিবসের মধ্যে বাংলাদেশে স্টারলিংক চালু করা যায়।
এর আগে, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ইলন মাস্কের সাথে এক দীর্ঘ টেলিফোন আলোচনায় অংশ নেন প্রধান উপদেষ্টা। এই আলোচনায় তারা ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন এবং বাংলাদেশে স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা চালুর অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেন।
/এসআইএন
]]>