বিএনপিকর্মী মকবুল হত্যা মামলায় আফজাল নাছের ফের ৪ দিনের রিমান্ডে

‎বিএনপিকর্মী মকবুল হত্যা মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক পরিচালক আফজাল নাছেরের ফের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।আজ বুধবার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন মো. সেফাতুল্লাহ এই রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন।

‎‎গত ২৯ মার্চ গভীর রাতে ঢাকার মিরপুর ডিওএইচএসের একটি বাসা থেকে সেনাবাহিনীর সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আফজাল নাছেরকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরদিন জুলাই আন্দোলনে নিহত দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় তার ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। এরপর মকবুল হত্যা মামলায় গত ৫ এপ্রিল তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।

‎‎ওই রিমান্ড শেষে বুধবার ফের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের মতিঝিল জোনাল টিমের এসআই তোফাজ্জল হোসেন।

‎আবেদনে বলা হয়, মামলার তদন্তকালে এজাহারনামীয় ১৪৭ নম্বর আসামি আফজাল নাসের ইউনাইটেড গ্রুপে এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর (অ্যাডমিন) স্ব-পদে দায়িত্বে থেকে স্ব-প্রণোদিত হয়ে রাজনৈতিকভাবে বিরোধীপক্ষকে দমনে বিগত সরকারকে নানাভাবে সহযোগিতা করেছে। মামলার ঘটনা সংঘটনে নেপথ্যে থেকে রাজনৈতিকভাবে বিরোধীপক্ষকে দমনে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রেখেছেন মর্মে বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। এটি একটি রাজনৈতিক হত্যা মামলা। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। এ আসামি মামলার ঘটনার সাথে জড়িত আছে মর্মে বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য পুনরায় ৭ দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।

‎রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন,‘এজাহারনামীয় আসামি ডিজিএফআইতে কর্মরত ছিলেন। ফ্যাসিস্টের একজন সহযোগী। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য আরও সাত দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।’

‎‎আফজাল নাছেরের পক্ষে অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন রিমান্ড বাতিল করে জামিন প্রার্থণা করে বলেন,‘আসামি ফ্যাসিস্টের সহযোগী হলে তাকে ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার চাকরি থেকে কীভাবে বরখাস্ত করে? এজাহারে নামটা ছাড়া আর কিছু নাই।’

পরে শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

‎মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর একদফা দাবি আদায়ের কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। এর আগে ৭ ডিসেম্বর ডিবি পুলিশের হারুন অর রশীদ, মেহেদী হাসান ও বিপ্লব কুমার বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ে অভিযান চালায়। কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায়। কার্যালয়ের পাশে থাকা হাজার হাজার নেতাকর্মীর ওপর হামলা চালায়। এতে মকবুল হোসেন নামে এক কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মাহফুজুর রহমান নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে শেখ হাসিনাসহ ২৫৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

  • Related Posts

    জামিন পেলেন ইনু, মেনন ও বিচারপতি মানিক

    মানহানির মামলায় সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এবং সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের জামিন মঞ্জুর করেছে আদালত। সাবেক রাষ্ট্রপতি…

    ধর্ম অবমাননার মামলায় বাউল আবুল সরকারের জামিন

    ধর্ম অবমাননার মামলায় বাউল আবুল সরকারকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তাকে কেন স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুলও জারি করা হয়েছে। আজ সোমবার বিচারপতি আতোয়ার রহমান…

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *