ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত বিজয়’ অর্জন করেছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার পাশাপাশি ইরানের সমৃদ্ধ পরমাণুর ঠিকমত দেখভাল করা হবে। সেটা না হলে আমি মীমাংসা করতাম না।’
তবে ইরানের ইউরেনিয়ামের বিষয়ে ঠিক কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
যুদ্ধবিরতি ভেস্তে গেলে যুক্তরাষ্ট্রে আবার ইরানের বেসামরিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংস করার অবস্থানে ফিরে যাবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘সেটা আপনারা দেখতে পাবেন।’
সামাজিক মাধ্যমের এক বার্তায় হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট বলেছেন, ‘এটা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বিজয়, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং আমাদের অসাধারণ সামরিক বাহিনীর কারণে সম্ভব হয়েছে।’
ইরানে পরিচালিত মার্কিন সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ ছয় সপ্তাহ স্থায়ী হওয়ার কথা থাকলেও তার আগেই যুক্তরাষ্ট্র লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
অন্যদিকে ইরান সরকারও এটিকে নিজেদের একটি ‘বড় বিজয়’ হিসেবে তুলে ধরছে। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ (এসএনএসসিআই) এক বিবৃতিতে বলেছে, ইরান এই যুদ্ধে তার প্রায় সব লক্ষ্যেই অর্জন করেছে এবং শত্রুপক্ষ একটি ঐতিহাসিক ব্যর্থতার সম্মুখীন হয়েছে।
এদিকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইসরায়েল আনুষ্ঠানিকভাবে বিবৃতি প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, অবিলম্বে হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে এবং ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবকাঠামোর ওপর সব ধরনের হামলা বন্ধ করার শর্তে দুই সপ্তাহের জন্য ইরানের ওপর হামলা স্থগিত রাখার যে সিদ্ধান্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিয়েছেন, ইসরায়েল তা সমর্থন করে।
তবে দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতি লেবাননের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না বলেও জানিয়েছে ইসরায়েল। যদিও যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আগে জানিয়েছিলেন যে, লেবাননও এই যুদ্ধবিরতির অন্তর্ভুক্ত থাকবে।








