দরোজায় কড়া নাড়ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ১২ ফেব্রুয়ারি সম্পন্ন হবে ভোট গ্রহণ। এর পরের ধাপেই আসবে সরকার গঠন।বিগত সরকারের আমলে নিষিদ্ধ থাকার পর এবারের নির্বাচনে এগারো দলীয় জোট গঠন করে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় বিএনপির চেয়ে পিছিয়ে নেই দলটি। এমনকি নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের কথাও বলছেন জামায়াতের শীর্ষনেতারা। এ পরিস্থিতি জনমনে প্রশ্ন ওঠেছে, প্রায় দুই দশক ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি কি পারবে এককভাবে সরকার গঠন করতে? নাকি হাঁটতে হবে কোয়ালিশন সরকার গঠনের পথে! এক্ষেত্রে জামায়াতের সঙ্গে ঐক্যমতের সরকার গঠনের সম্ভাবনা কতটুকু? কেননা ২০০১ সালে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ঐক্যমতের ভিত্তিতে জোট সরকার গঠন করেছিল বিএনপি।
শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে এধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এসময় নির্বাচনের পর জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ঐকমত্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দেন তিনি।
বিএনপি চেয়ারম্যান বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, আমাদের বিশ্বাস সরকার গঠনে বিএনপি একাই সক্ষম। জামায়াত কিংবা অন্য কোনো দলের সমর্থন আমাদের প্রয়োজন পড়বে না।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় তিন যুগ ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের মধ্যে।যদিও ক্ষমতাচ্যুত সরকারের তিনটি নির্বাচনের মধ্যে দুটোই বিএনপি অংশ নেয় নি। ২০১৮ সালের নির্বাচনে জোট গঠনের মাধ্যমে বিএনপি অংশ নিলেও নিশিরাতের ভোটে তারা প্রতারিত হয়েছে।
চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে হাসিনা সরকার পতনের পর দৃশ্যপট পাল্টে গেছে। মানবতাবিরোধী অপরাধে আওয়ামী লীগ জড়িত থাকার অভিযোগে দলটির কার্যক্রমে সরকার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। দলটির নিবন্ধন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। ফলে গত দেড় দশক দেশ শাসন করা দলটি এবার নির্বাচনের বাইরে। এই বাস্তবতায় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে, যারা ২০০১-০৬ মেয়াদে একসঙ্গে সরকার পরিচালনা করেছে।
জামায়াতের একাধিক শীর্ষনেতার সঙ্গে কথা বলে রয়টার্স জানায়, দেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে আবারও ঐকমত্যের সরকার গঠনে আগ্রহী জামায়াত। বিএনপি কি তাদের এই আগ্রহকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে? জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে আমাদের প্রধান প্রতিপক্ষ হলো জামায়াত। এ অবস্থায় আমোদের পক্ষে কিভাবে সম্ভব রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে সরকার গঠন করা, তাহলে বিরোধী দল কে হবে?’







