শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষের ঘটনায় নির্বাচনী লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেছেন, ‘আমরা আমাদের কনসার্ন জানিয়েছি। আমরা এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছি। প্রতিবাদ করে যাব। আমাদের অধিকার, আমাদের জনগণের অধিকার, আমরা আর কাউকেই টানাটানি করার সুযোগ দেব না।’
আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বরের পানির ট্যাংকি এলাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমানের নিজ নির্বাচনী আসনের (ঢাকা-১৫) প্রধান নির্বাচনী কার্যালয় ও জামায়াতের ডিজিটাল প্রচারের জন্য ‘মাল্টি মিডিয়া বাস’–এর উদ্বোধনী উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
শেরপুরে সংঘর্ষের ঘটনাটি কিসের ইঙ্গিত দেয়-এমন প্রশ্নের উত্তরে জামায়াতের আমির বলেন, ‘এই ঘটনা ইঙ্গিত করে অসহিষ্ণুতা। এই ঘটনা ইঙ্গিত করে জনগণের ওপর আস্থা নাই। এই ঘটনা ইঙ্গিত করে, অন্যের বিজয় দেখে নিজের সহ্য হয় না।’
একটা নতুন বাংলাদেশের অপেক্ষায় আছেন জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘নতুন বাংলাদেশ মানে ভূগোল বদলাবে না। আমাদের চরিত্র বদলাবে, দৃষ্টিভঙ্গি বদলাবে। ৫৪ বছর যে দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দেশ চালানো হয়েছে, মাঝে মাঝে কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া অধিকাংশ সময় জনগণের ওপর জুলুম করা হয়েছে। ফ্যাসিজম চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওটা আমরা চাই না। আমরা চাই পরিবর্তন। ন্যায়-ইনসাফভিত্তিক সমাজ চাই।’
এ সময় বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও অপরাধমুক্ত শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়তে সবাইকে একযোগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান জামায়াত আমির। তিনি বলেন, যুবসমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিধ্বস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, সর্বক্ষেত্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১১ দলের কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে পরিবর্তনের সরকার গঠন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, তাদের নির্বাচনী এই লড়াই কোনো দল, ব্যক্তি বা পরিবারের জন্য নয়। ১৮ কোটি মানুষের কল্যাণের জন্য। নির্বাচনে তারা জামায়াতের একক বিজয় চান না। তারা চান, জনগণের সামগ্রিক বিজয়। তাই তারা এ ব্যাপারে দেশবাসীর সমর্থন–সহযোগিতা কামনা করেন।
এর জন্য প্রথম ধাপে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে পুরনো ফ্যাসিবাদী রাজনীতির অবসান ঘটাতে হবে বলে উল্লেখ করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, এরপর জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম শক্তির হাতেই দেশের দায়িত্ব তুলে দিতে হবে।
উল্লেখ্য, গতকাল বুধবার বিকেলে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনে বিএনপি–জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে জামায়াতের এক নেতা নিহত হন। ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসা নিয়ে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহত মাওলানা রেজাউল করিম শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি। তিনি ফতেহপুর ফাজিল মাদ্রাসার প্রভাষক ছিলেন।







