টাইম সাময়িকী গতকাল বুধবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন তুলে ধরেছে। আমাদের সময়ের পাঠকের জন্য সাক্ষাৎকারভিত্তিক এ প্রতিবেদনের সারাংশ তুলে ধরেছেন জাহাঙ্গীর সুর
অন্তর্মুখী ও স্বল্পভাষী। আন্তর্জাতিক সম্পর্কে বাস্তববাদী ও কৌশলী। কোমল ও সুদূরপ্রসারী আধুনিক পরিকল্পনাকারী। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্পর্কে এমন মূল্যায়ন করেছে প্রভাবশালী মার্কিন সাময়িকী টাইম। সাক্ষাৎকারভিত্তিক এক বিশেষ প্রতিবেদনে সাময়িকীটি বলেছে, আসন্ন নির্বাচনে বিজয়ের পথে স্পষ্টতই শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন তারেক রহমান। বাংলাদেশের জনগণ তার কথা ও নেতৃত্ব মেনে নিতে প্রস্তুত বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। তিনি নিজেও বিশ্বাস করেন, তার পরিকল্পনার ৩০ শতাংশও যদি তিনি বাস্তবায়ন করতে পারেন, তা হলে দেশের মানুষ তার প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখবে। টাইমের অনলাইন সংস্করণে এ প্রতিবেদনটি তুলে ধরা হয়েছে।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপের কথাও এ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই জরিপে দেখা গেছে, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপির প্রতি প্রায় ৭০ শতাংশ জনসমর্থন রয়েছে। এর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রধান ইসলামী দল জামায়াতে ইসলামীর জনসমর্থন ১৯ শতাংশ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাস জীবন শেষে গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে ঢাকার রাজপথÑ লাখো জনতার উষ্ণ অভ্যর্থনায় সিক্ত হন তিনি। টাইমের অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে তাকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ ‘সেতুবন্ধ’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক আভিজাত্য ও সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার বিপ্লবের আকাক্সক্ষার মধ্যে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করছেন।
১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচন হবে। এ নির্বাচনে তারেক রহমানকে সুস্পষ্টভাবে এগিয়ে থাকা নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এতে তাকে একজন নীতি-গবেষক হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে, যিনি আবেগের চেয়ে তথ্য-উপাত্ত ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনায় বিশ্বাসী।
দেশের অর্থনীতি ও পরিবেশ রক্ষায় তারেক রহমানের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার কথা প্রতিবেদনে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর রক্ষায় তিনি ১২ হাজার মাইল খাল খনন ও ভূমি অবক্ষয় রোধে বছরে ৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা করেছেন। ঢাকার বায়ুদূষণ কমাতে ৫০টি নতুন সবুজ এলাকা তৈরি এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো আধুনিক উদ্যোগও রয়েছে তার এজেন্ডায়। এ ছাড়া কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে চান তারেক রহমান। তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, ‘আমি যদি আমার পরিকল্পনার মাত্র ৩০ শতাংশও বাস্তবায়ন করতে পারি, তবে আমি নিশ্চিত বাংলাদেশের মানুষ আমাকে সমর্থন করবে।’
ব্যক্তিগত জীবনে তারেক রহমান বেশ অন্তর্মুখী ও স্বল্পভাষী। প্রতিবেদনে তাকে একজন ভালো শ্রোতা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। লন্ডনের রিচমন্ড পার্কে হাঁটা ও ইতিহাসের বই পড়া তার প্রিয় অবসর যাপন। প্রবাস জীবনে তিনি নিজেকে শুধরে নিয়েছেন ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয় দিচ্ছেন। মায়ের জানাজায় তিনি রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি থেকে বিরত থেকে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন, যা ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে। অতীতের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে কারাগারে নির্যাতনের ফলে শারীরিক অসুস্থতা থাকলেও তিনি সেটাকে জনগণের প্রতি দায়িত্বের স্মারক হিসেবে দেখেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারেক রহমান জোর দিয়ে বলেছেন, এই বিভক্ত জাতিকে সারিয়ে তোলার জন্য তিনিই উপযুক্ত ব্যক্তি। তিনি বলেন, ‘আমি আমার বাবা-মায়ের সন্তানÑ শুধু এ কারণেই নয়; বরং আমার দলের সমর্থকরাই হলো সেই কারণ, যাদের জন্য আমি আজ এখানে।’ এতে আরও বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও তিনি বেশ বাস্তববাদী ও কৌশলী। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বোয়িং বিমান ও জ্বালানি অবকাঠামো ক্রয়ের মতো উদ্যোগ নিতে তিনি আগ্রহী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্পর্কে তিনি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন এবং দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ রক্ষায় কাজ করতে প্রস্তুত। তারেক রহমানের ভাষায়, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দেশের স্বার্থ দেখবেন, আমি দেখব আমার দেশের স্বার্থ। তবে আমরা একে অপরকে সহযোগিতাও করতে পারি। আমি নিশ্চিত, জনাব ট্রাম্প অত্যন্ত সুবিবেচক একজন মানুষ।’
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তারেক রহমানের পোষা বিড়াল ‘জেবু’ দেশে ফেরার পর সামাজিক মাধ্যমে বেশ জনপ্রিয় হয়েছে, যা শেখ হাসিনার ‘লৌহমানবী’ ইমেজের বিপরীতে এক কোমল দিক উন্মোচন করেছে। প্রতিবেদনটি শেষ হয়েছে স্পাইডারম্যান চলচ্চিত্রের বিখ্যাত উক্তি দিয়ে। তারেক রহমান তার বর্তমান অবস্থান ও দায়িত্ববোধকে ব্যাখ্যা করেছেন, ‘বড় ক্ষমতার সঙ্গে আসে বড় দায়িত্ব।’ তিনি বিশ্বাস করেন, জনগণের ম্যান্ডেট পেলে তিনি দেশকে একটি স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিতে পারবেন।







