আমরা কি বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছি

আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও শ্রীলংকায় শুরু হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ‘সি’ গ্রুপে থাকা বাংলাদেশের সবগুলো ম্যাচের ভেন্যুই ভারত। সূচি অনুযায়ী উদ্বোধনী দিনে কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে বাংলাদেশ। তবে নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে দল পাঠাবে না বিসিবি; তার পরিবর্তে শ্রীলংকায় ম্যাচের ভেন্যু দেওয়ার অনুরোধ করেছে আইসিসিকে। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ দলের বিশ্বকাপে খেলা হবে কিনা, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না কেউই। টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাসও এ নিয়ে ধোঁয়াশায় রয়েছেন।

গতকাল এলিমিনেটর ম্যাচশেষে সংবাদ সম্মেলনে রংপুর রাইডার্সের অধিনায়ক এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আপনি কি শিওর আমরা বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছি?’ তিনি আরও বলেন, ‘যে ১৫ জনের দল (বিশ্বকাপ স্কোয়াড) তারাও এখনও জানে না যে আমরা কোন দেশে যাব বা কাদের বিপক্ষে খেলব। আমার মতো সবাই অনিশ্চিত। পুরো বাংলাদেশই অনিশ্চিত এই মুহূর্তে।’

বিপিএল শেষেই বিশ্বকাপ। তবে মিরপুরের উইকেট বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য আদর্শ উইকেট কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এলিমিনেটর ম্যাচে ৯ উইকেটে ১১১ রান করেছিল রংপুর। সিলেট ম্যাচ জিতেছে ইনিংসের শেষ বলে। বিশ্বকাপ প্রস্তুতির জন্য এ রকম উইকেটে খেলা কতটা সহায়ক? এমন প্রশ্নের জবাবে লিটন দাস বলেন, ‘জানি না। এটার কোনো উত্তর নেই। এখন থেকে বিশ্বকাপ অনেক দিন বাকি। যাব কিনা এটা নিয়েও আমরা নিশ্চিত না। টি-টোয়েন্টির জন্য এটা আইডিয়াল উইকেট না তা আমি বলতে পারি। বিশ্বকাপের জন্য কিনা তা আমি জানি না। কোয়ালিফায়ার ম্যাচ ভালো উইকেট আশা করেছিলাম।’

এলিমিনেটর ম্যাচ থেকেই রংপুরের বিপিএল অভিযান শেষ হয়েছে। বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের অংশগ্রহণও অনিশ্চিত। এই সময়টা কীভাবে কাটবে জানাতে গিয়ে লিটন বলেন, ‘আজ থেকে খেলা শেষ। বিন্দাস থাকব রুমে। আর কি। রিকভারির তো দরকার আছে। অনেক পরিশ্রম গেছে। অনেক তাড়াহুড়োর মধ্যে আমরা কোনো বিরতি পাইনি। রিকভারির কোনো সময় ছিল না। আপনি যখন আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেন একটা ম্যাচ একদিন ব্রেক পান, রিকভারির সময় থাকে আমার মনে হয় না পুরো বিপিএলে কেউ এই সময়টা পেয়েছে। বিশেষ করে রংপুর দল তো একদমই পায়নি। আমরা ব্যাক টু ব্যাক অনেকগুলো ম্যাচ খেলেছি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে কোয়ালিফায়ার থেকে বাদ পড়ে গেলাম। জানি না যদি বিশ্বকাপে যাই এ বিরতিটা অনেক কাজে দেবে।’

এবার শিরোপায় চোখ ছিল রংপুরের। তবে এলিমিটের ম্যাচ থেকে বিদায় নিতে হলো তাদের। ফাইনাল পর্যন্ত যেতে পারল না। এজন্য রংপুরের সমর্থক ও মালিকপক্ষের কাছে দুঃখপ্রকাশ করে লিটন বলেন, ‘রংপুরের যারা ফ্যান ছিল তাদের জন্য স্যরি। তাদের যে প্রত্যাশা থাকে সব সময় তা আমরা পূরণ করতে পারিনি। রংপুর মালিকপক্ষের জন্যও স্যরি। তারা যে আশা নিয়ে আমাকে এ দায়িত্ব (অধিনায়ক) দিয়েছিল তাদের আশাটাও পূরণ করতে পারলাম না।’

লিটন জানান, ১৩০ রান হলে ম্যাচের ফল অন্যরকম হলেও হতে পারত। তিনি বলেন, ‘টাফ দেখে দুইটা টিমই তো স্ট্রাগল করেছে। এমন না যে ওরা ১০ ওভারে ম্যাচ জিতেছে। শেষ বলে গিয়ে ম্যাচ জিতেছে এবং ছয় রান লাগত, বোঝাই যাচ্ছে উইকেট টাফ। নতুন বলটা অনেক চ্যালেঞ্জিং ছিল। আমরা কিছু উইকেট হারাতে ব্যাকফুটে চলে গেছি। রিয়াদ ভাই এবং খুশদিল খুব ভালো ব্যাট করছিল। সোহান ভাইও। যদি ওখান থেকে ১৩০ যেত তাহলে ভিন্ন গল্প হলেও হতে পারত।’

বিশ্বকাপের আগে এমন উইকেটে খেলা জাতীয় দলের ব্যাটারদের জন্য কতটা ক্ষতিকর? এমন প্রশ্নের জবাবে লিটন বলেন, ‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে আমরা জানি না এখনও। এটার প্রসঙ্গই বাদ। আমি বলব না আদর্শ উইকেট না। কিন্তু কোয়ালিফায়ার ম্যাচ, আপনি খেলছেন ডু অর ডাই, তাহলে সম্পূর্ণ ফেভার দিয়ে গেলেন বোলারদের দিকে তাহলে তো কিছু হলো না। আমার মনে হয় দুই দলই ভালো উইকেট আশা করছিল। ম্যাচ হারতাম সমস্যা নেই, কিন্তু ক্রিকেটটা ক্রিকেটের মতো হলে ভালো হতো।’ ক্রিস ওকস শেষ বলে ছক্কা মেরে ম্যাচ জিতিয়েছেন।

লিটন বলেন, ‘আমার নিদাহাস ট্রফির কথা মনে পড়ে গেছে। এটাই ক্রিকেট, এভাবেই জীবন চলে। আপস অ্যান্ড ডাউন থাকবেই। জিততে পারলে তো ভালো হতো। এখন পারিনি, কিছু করার নাই।’ বিপিএলে নিজের পারফরম্যান্সে তুষ্ট নন লিটন। রংপুরের হয়ে ১১ ম্যাচে ২০.২০ গড়, ১২৬.২৫ স্ট্রাইকরেটে ২০২ রান করেছেন। কোনো ফিফটি বা শতক নেই। সর্বোচ্চ ৪৭। নিজের ব্যাটিং নিয়ে এক কথায় শুধু বললেন, ‘খুবই বাজে।’

  • Related Posts

    বাংলাদেশের অবস্থানকে সমর্থন জানিয়ে আইসিসিকে চিঠি পিসিবির

    আগামী মাসের শুরুতেই পর্দা উঠবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের। তবে নিরাপত্তার কারণে ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে রাজি নয় বাংলাদেশ। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে আইসিসির সিদ্ধান্তের ঠিক আগে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট…

    বৃষ্টির পর বিপর্যয়, ৪০ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে ভারতের কাছে হার বাংলাদেশের

    ষ্টির আনাগোনা শুরু হয়েছিল টসের আগেই। ম্যাচের ভাগ্যও শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করে দিল সেই বৃষ্টি। জয়ের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়েও মাত্র ৪৩ বলের ব্যবধানে দুঃস্বপ্নে পরিণত হলো বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ম্যাচ। ডিএলএস…

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *