অর্থনীতিসর্বশেষ

ভরা মৌসুমে আরও বাড়লো সবজির দাম

কয়েক সপ্তাহ ধরেই চড়া সবজির দাম। এরমধ্যে গেলো নির্বাচন ও কয়েকদিনের ছুটি। এরপর যখন বাজারে বেচাকেনা স্বাভাবিক হচ্ছে, সে সময় আবারো একদফা বেড়েছে সবজির দাম।
মঙ্গলবার বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এখন সব ধরনের সবজির দাম ঊর্ধ্বমুখী। কাঁচা পেঁপে ও মুলা ছাড়া ৫০ টাকা কেজির নিচে কোনো সবজি বাজারে নেই। ভরা মৌসুমে শিম প্রতিকেজি ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৫০ টাকার নিচে মিলছে না। এক পিস লাউয়ের দাম ঠেকেছে ১০০ টাকায়।
ব্যবসায়ীদের দাবি, স্থানীয়ভাবে শাকসবজির উৎপাদন কম। এরমধ্যে কয়েকদিন ভোটের কারণে সবজির সরবরাহ কমেছে। পাশাপাশি গত মাসে প্রচুর বৃষ্টিপাতের কারণে খেতে নষ্ট হয়েছে শাকসবজি। সে সময় দাম বেড়ে গেছে, যা এখনো স্বাভাবিক হচ্ছে না।
আরও পড়ুন: খাবারের দাম কমেছে বিশ্বব্যাপী, বেড়েছে বাংলাদেশে
এখন শীতকালীন সবজির ভরা মৌসুম। ব্যবসায়ীরা এসব অজুহাত দেখালেও বাজারে শীতের সবজির সরবরাহ বেশি। সে হিসেবে এখন দাম কমার কথা। কিন্তু বাস্তবে চিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত। একদম ভরা মৌসুমে এত বেশি দাম, এর আগে কখনো দেখা যায়নি।
এ অবস্থায় সবজির দামে অস্বস্তি বিরাজ করছে ক্রেতাদের মাঝে। রামপুরা বাজারে একজন ক্রেতা ইসমাইল হোসেন বলেন, তরকারি কেনার মতো অবস্থা নেই। সব জিনিসের দাম বেড়েই চলেছে। দেখার কেউ নেই। সংকটের কথা বলা হলেও দেখুন বাজারে কী নেই। আসলে সবকিছু ব্যবসায়ীদের মন মতো চলছে।
এদিকে দীর্ঘদিনের চড়া আলুর দাম নির্বাচনের আগে কিছুটা কমে ৬০ টাকায়ও পাওয়া যেত। কিন্তু এখন ৭০ টাকার নিচে কোনো আলু নেই। আর লাল (পাকরি) আলু বিক্রি হচ্ছে ৯০-১০০ টাকায়।
আরও পড়ুন: খামারিদের জন্য পাইকারি আড়ত উদ্বোধন
আর এদিকে পেঁয়াজের দাম চড়া হয়ে আটকে রয়েছে। পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকায়।
এদিকে বাজারে সারাবছর পাওয়া যায়, এমন গোল বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজিতে। ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা, বরবটির কেজিও ৮০-১০০ টাকা।
কয়েকজন ব্যবসায়ী বলছেন, হরতাল এবং পরিবহনে অগ্নিকাণ্ডের কিছু ঘটনায় ক্ষেত্রবিশেষে বেড়েছে পরিবহন খরচ। এছাড়া এবার আলুর দাম বেশি থাকায় অন্যান্য সবজির দামে তার প্রভাব পড়েছে। সঙ্গে অন্যান্য পণ্যের উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রভাব রয়েছে।
মালিবাগ বাজারে সবজি বিক্রেতা আসলাম জাগো নিউজকে বলেন, সবকিছুর দামই বাড়তি, তাহলে কৃষক কেন সবজি কম দামে বিক্রি করবে? সেজন্য মোকামে সবজির দাম বেড়েছে।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ কাঁচামাল আড়ত মালিক সমিতির সভাপতি ইমরান মাস্টার জাগো নিউজকে বলেন, সবজির দামের বিষয় নিয়ে উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ীরাও। অন্যান্য বছরের এ সময় সবজির দাম এত বেশি থাকে না, যেটা এবছর দেখা যাচ্ছে। আসলে মোটাদাগে এ বছর বীজ, সারসহ অন্যান্য খরচ বাড়ায় সবজি উৎপাদনের খরচ বেড়েছে। যে কারণে চাষিরা কমদামে সবজি বিক্রি করতে চাচ্ছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *