অর্থনীতিসর্বশেষ

নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশ কোনো অপরাধ করে নাই

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে এমন গুঞ্জনের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, জোর করে কেউ কিছু করলে আমরা কি কিছু করতে পারি? কোনো অপরাধ করলে শাস্তি আছে, কিন্তু বাংলাদেশ কোনো অপরাধ করে নাই। অপরাধ করলে ধরা পড়তো।
মঙ্গলবার (৯ জানুয়ারি) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।
সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে প্রশ্ন করা হয় যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা যদি আসে তাহলে পোশাক খাতে প্রভাব পড়বে। সে বিষয়টি কীভাবে দেখছেন? এর উত্তরে অর্থমন্ত্রী বলেন, জোর করে কেউ কিছু করলে আমরা কি কিছু করতে পারি? কোনো অপরাধ করলে শাস্তি আছে, কিন্তু বাংলাদেশ কোনো অপরাধ করে নাই। অপরাধ করলে ধরা পড়তো।
আগামীকাল এমপিরা শপথ নেবেন। এরপর নতুন কেবিনেট হবে। সেটি কেমন দেখতে চান বা প্রত্যাশা কী? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কাল এমপিরা শপথ নেবেন, তারপর অন্য ধাপে যাবে। সে বিষয়ে এখন আলাপ করা ঠিক হবে না।
অর্থমন্ত্রী হিসেবে আপনার এমন কোনো ইচ্ছা ছিল কি না যেটি আপনি পূরণ করতে পারেননি? এমন প্রশ্নের উত্তরে মুস্তফা কামাল বলেন, আমরা যেভাবে অর্থনীতি শুরু করেছি সেভাবে থাকতে পারি নাই। কারণ একটার পর একটা যুদ্ধ লেগেই রয়েছে। ফলে অর্থনীতির কোনো কিছু ধারণা করা যায়নি। তারপরও আমরা ভালো অবস্থানে আছি।
তিনি বলেন, আমাদের মাথাপিছু আয় ৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। রিজার্ভ ১৩ বিলিয়ন ডলার থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারে চলে গিয়েছিলাম। এখন আমাদের ২৫/২৬ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ রয়েছে৷ এ বছর আমাদের চিন্তা হচ্ছে ৩০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নামতে না দেওয়া। এটি সম্ভব। আমরা আগে যা বলেছি সেটি ঠিক আছে।
সিপিডি বলেছে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত থেকে ৯২ হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়েছে, তা উদ্ধারের জন্য কোনো পরিকল্পনা করেছেন কি না বা নতুন সরকার কি পরিকল্পনা করবে? এমন প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী বলেন, মাত্র নির্বাচন হলো, এমপিরা শপথ এখনো নেননি, নতুন সরকার গঠন হয়নি। তাই নতুন সরকার গঠনের আগে এসব বিষয়ে বলা ঠিক হবে না।
তিনি বলেন, আমাদের অর্থনীতির যে এলাকা রয়েছে সেটি অপন মহিমায় উপরে উঠেছে। সুতরাং আমরা বিশ্বাস করি আমাদের অর্থনীতির ৪১ সালের যে লক্ষ্যমাত্রা, সেটি অর্জন করতে পারবো। আমরা বিশ্বাস করি ২০৪১ সালের মধ্যে বিশ্বের ২০টি উন্নত দেশের একটি হবে বাংলাদেশ। যাকেই জিজ্ঞেস করবেন সেই বলবে বাংলাদেশ এগোচ্ছে, নির্দিষ্ট সীমানা ও নির্দিষ্ট রেখায়।
সিপিডির বিষয়ে তিনি বলেন, আমি যখন ক্ষমতা নেই তখন বলে দিয়েছে এ পথে আইসেন না। তারা আমাদের বারবার বলছিল টাকার অবমূল্যারন করে দেন। এটা না করলে এক ঘণ্টাও টিকতে পারবেন না। আমরা টিকে আছি। বাজারে গেলে জিনিসপত্র কেনা যাচ্ছে, যারা বিক্রি করছে তাদের কিছু ফেরতও আসে না। অর্থনীতি চালাতে গেলে অর্থনীতির জন্য মূল্যস্ফীতি প্রয়োজন। যারা অর্থনীতি নিয়ে চিন্তা করে না তারা বলতে পারে মূল্যস্ফীতির প্রয়োজন নাই। মূল্যস্ফীতি ছাড়া অর্থনীতি চলতে পারে না। ৮-১০ বছরের মতো মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশের মধ্যে রেখেছি। এরচেয়ে ভালো নম্বর আর হতে পারে না।
অর্থনীতি নিয়ে সামনের সরকারের কী চ্যালেঞ্জ বা আপনি কী মনে করেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী বলেন, সামনের সরকার আসুক, তখন সেটি বলা যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *