৪০ টাকায় বেঁধে দেওয়া পেঁয়াজ এখন ৪৫ টাকা!

সরকারের কৃষি বিপণন অধিদপ্তর গত সোমবার যখন প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৪০ টাকা বেঁধে দিয়েছিল সেদিন সকালের দিকেও তা বাজারে বিক্রি হচ্ছিল ৩৬ থেকে ৩৮ টাকায়। দুপুরের পরপরই তা ৪০ টাকায় উঠে যায়। আর মাত্র চার দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৪৫ টাকায় উঠে গেছে। বাজার তদারকি দলের মাধ্যমে বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হলেও দিব্যি নির্ধারিত ৪০ টাকার বেশি দামেই বিক্রি হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর শান্তিনগর, নিউমার্কেট কাঁচাবাজার ঘুরে পেঁয়াজের দরের এ চিত্র পাওয়া যায়।

সরকারের আরেক বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশও (টিসিবি) গতকাল খুচরা বাজার দরের যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তাতেও পেঁয়াজের দাম বাড়ার বিষয়টি জানিয়েছে। সংস্থাটির প্রতিবেদনে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজে পাঁচ টাকা বেড়ে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে তুলে ধরেছে। এছাড়া আমদানিকৃত পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা।

দর বেঁধে দেওয়ার পরও কেন বাড়ছে পেঁয়াজের দাম? এ প্রশ্ন এখন ক্রেতাদের। গতকাল শান্তিনগর বাজারে বাজার করতে আসা ফজল আনসারি নামে একজন ক্রেতা বলেন, পেঁয়াজের দর বেঁধে দিয়ে কী লাভ হলো। এখন নির্ধারিত দরের চেয়ে বেশিতে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে; এজন্য কে জবাবদিহি করবে? তিনি বলেন, বাজারে মনিটরিং বলে কিছু নেই। থাকলে কীভাবে বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রি হয়?

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ গত সোমবার

রমজানের সময় এক শ্রেণির অসত্ ব্যবসায়ী নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে কারসাজি করে। এই কারসাজি রোধ করতেই পেঁয়াজের সর্বোচ্চ দর বেঁধে দেওয়া হয়েছে। রমজানে বাজার তদারকির জন্য শুধু রাজধানীতেই ২৮টি মনিটরিং দল কাজ করবে। নির্ধারিত দরের চেয়ে বেশি দামে কেউ পণ্য বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে রমজান শুরু হতেই সবজির দাম আরো এক দফা বেড়েছে। বেগুন, শসা, টম্যাটোসহ প্রায় সব ধরনের সবজির দামই এখন বেশ চড়া। সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে বেগুন ও শসার। এক সপ্তাহ আগেও যে বেগুনের কেজি বিক্রি হয়েছে ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে তা এখন বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। একইভাবে শসা কেজিতে এক লাফে ৪০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। এছাড়া বাজারে অন্যান্য সবজির মধ্যে প্রতি কেজি মুলা ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, গাজর ৩০ থেকে ৪০ টাকা, শিম ৪০ থেকে ৫০ টাকা, পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, আলু ২০ টাকা, করলা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পটোল ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কচুর লতি ৬০ টাকা ও শজনে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লেবুর হালি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা।

তবে রমজান শুরু হতেই মুরগির দাম কমেছে। সোনালী (কক) মুরগি কেজিতে ২০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা। লেয়ার বিক্রি হচ্ছে ২১০ থেকে ২২০ টাকা কেজিতে। ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায়। যা দুই সপ্তাহ আগেও ১৬০ টাকা উঠেছিল। অন্যান্য মাংসের মধ্যে গরু ৫৮০ টাকা ও খাসি ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা ও বকরির মাংস ৭৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

আর মাছের মধ্যে প্রতি কেজি রুই আকারভেদে ২২০ থেকে ৩৫০ টাকা, কাতল ১৮০ থেকে ৩০০ টাকা, শিং ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকায়, পাঙাস ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, চিংড়ি ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকা, বোয়াল ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা, পোয়া মাছ ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, পাবদা মাছ ১৮০ থেকে ৩৫০ টাকা, ট্যাংরা মাছ ২৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, আইড় মাছ ৪৫০ থেকে ৫০০, কোরাল ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা, রূপচাঁদা মাছ ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি কেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা দরে। আব্দুল্লাহপুর মাছের আড়তের ইলিশ বিক্রেতা হানিফ জানিয়েছেন, এখন যে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে তার স্বাদ তুলনামূলক কম। আর এক মাস পর ভালোমানের ইলিশ বাজারে উঠবে। তখন দামও কমে যাবে।

Rupantor Television

A IP Television Channel

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »