১৪ জোনে বিভক্ত হচ্ছে দেশের জমি

প্রতিবছর আশঙ্কাজনক হারে কমছে কৃষিজমি। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে জমির সঠিক ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে চায় সরকার। কৃষিজমির অপরিকল্পিত ব্যবহাররোধে প্রণয়ন করা হয়েছে ‘ভূমি ব্যবহার ও কৃষি ভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫’। এর ফলে কৃষিজমির ক্ষতি ঠেকানো সম্ভব। অনুমতি ছাড়া স্থাপনা করলে জেল-জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। অধ্যাদেশটি সর্বশেষ উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অনুমাদন দেওয়া হয়েছে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এএসএম সালেহ আহমেদ বলেন, কৃষিজমি রক্ষা করা জরুরি। অপরিকল্পিত নগায়নের ফলে দেশের বিস্তীর্ণ এলাকার কৃষি ভূমির পরিমাণ হ্রাস পাচ্ছে। এ জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতায় প্রণয়ন করা হয়েছে ভূমি ব্যবহার ও কৃষি ভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ।

কর্মকর্তারা জানান, ল্যান্ড জোনিংয়ের মাধ্যমে কৃষি জমিসহ অন্য বিশেষায়িত ভূমি সুরক্ষা করতে চায় সরকার। বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ১ শতাংশ করে কৃষিজমি অকৃষি কাজে ব্যবহার হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ২০৫০ সাল নাগাদ দেশে কোনো কৃষিজমি থাকবে না। বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে – বাংলাদেশে মোট ২ কোটি ১ লাখ ৫৭ হাজার একর বা ৮০ লাখ ৩০ হাজার হেক্টর আবাদযোগ্য জমি রয়েছে।

ভূমি ব্যবহার ও কৃষি ভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশের মাধ্যমে কৃষি জমি, খাল, পাহাড়, বনভূমি, জলাভূমি, নদ-নদীসহ জমির সুরক্ষা নিশ্চিত করা যাবে। এ জন্য বাংলাদেশ ভূমি ও ভূমি সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ থাকবে। ভূমির শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে ১৪টি জোনে। কৃষি অঞ্চল বলা হচ্ছে প্রধান কৃষি জমিকে। এ ছাড়া কৃষি-মৎস্য অঞ্চল, নদী ও খাল, জলাশয়, পরিবহন ও যোগাযোগ অঞ্চল, শহুরে আবাসিক অঞ্চল, গ্রামীণ বসতি অঞ্চল, মিশ্র ব্যবহার অঞ্চল, বাণিজ্যিক অঞ্চল, শিল্প অঞ্চল, প্রাতিষ্ঠানিক ও নাগরিক সুবিধা অঞ্চল, বন ও বৃক্ষরোপণ অঞ্চল, সাংস্কৃতিক-ঐতিহ্য অঞ্চল, পাহাড়-টিলা এ রকম পৃথক জোন রয়েছে।

কৃষিভূমি সুরক্ষার সংজ্ঞায় বলা হয়েছে- কোনো ব্যক্তি ন্যূনতম প্রয়োজনীয় ভূমি ব্যবহার করে স্বীয় কৃষিভূমিতে বসতবাড়ি, উপসনালয়, কবরস্থান, সমাধি, গুদামঘর, পারিবারিক ব্যবহারের জন্য পুকুর, দোকানপাট, কুটিরশিল্পসহ বসতবাড়ির সঙ্গে সম্পর্কিত স্থাপনাদি নির্মাণ করতে পারবেন। ন্যূনতম প্রয়োজনীয় পরিমাণ জমির অতিরিক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া ব্যবহার করতে পারবেন না। জমির ব্যবহারভিত্তিক সর্বোচ্চ সিলিং বিধি দিয়ে নির্ধারণ করা যাবে। বন, জলাভূমি, নদী, পাহাড় ও টিলা শ্রেণি এবং সাগর ও উপকূলীয় অঞ্চলের জমি কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশে ব্যবহার করা যাবে না। তবে এ উপধারার কোনো ভূমিতে কৃষিকাজের উদ্দেশে ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকবে না।

দেশের খাদ্য নিরাপত্তার স্বার্থে ভূমি জোনিং ম্যাপ অনুযায়ী, ভূমি মন্ত্রণালয়কে অবহিতকরণ সাপেক্ষে সরকার দেশের কোনো

  • Related Posts

    ভোটের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ: প্রধান উপদেষ্টা

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট ও গণভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।তিনি বলেছেন,‘আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন, জুলাই চার্টার তৈরি হয়েছে, ভোটের…

    ঢাকায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব, সীমান্তে গুলির ঘটনায় প্রতিবাদ

    কক্সবাজারের টেকনাফেহোয়াইক্যং এলাকায় বাংলাদেশ সীমান্তে মিয়ানমার থেকে গুলিবর্ষণের ঘটনায় দেশটির রাষ্ট্রদূত উ কিয়াও সোয়ে মো-কে তলব করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার দুপুরে তাকে তলব করে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ ও…

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *