সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ইউরোপীয় মিত্ররা। এবার সেই ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢাললেন বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডি ওয়েভার। ট্রাম্প একের পর এক ‘রেড লাইন’ বা সীমা অতিক্রম করছেন উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেছেন, এর ফলে গত ৮০ বছরের আটলান্টিক মৈত্রী বা ইউরোপ-আমেরিকার দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্ক চিরতরে ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

সম্প্রতি বেলজিয়ামের সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডি ওয়েভার অত্যন্ত কড়া ভাষায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের আচরণের সমালোচনা করেন। তার মতে, ইউরোপ এখন এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে এবং এখনই সময় নিজেদের আত্মমর্যাদা রক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়ার।

‘সুখী দাস’ বনাম ‘মর্যাদাবান গণতন্ত্র’ : সাক্ষাৎকারে ডি ওয়েভার বলেন, ‘এতদিন আমরা হোয়াইট হাউসের নতুন প্রেসিডেন্টকে তুষ্ট করার চেষ্টা করেছি। আমরা অনেক ক্ষেত্রে নমনীয় ছিলাম, এমনকি শুল্কের মতো বিষয়েও। আমাদের আশা ছিল এর বিনিময়ে ইউক্রেন যুদ্ধে আমরা তার সমর্থন পাব; কিন্তু এখন একের পর এক সীমা লঙ্ঘন করা হচ্ছে। এখন আপনাকে বেছে নিতে হবেÑ আপনি কি আত্মমর্যাদা নিয়ে থাকবেন নাকি দাসে পরিণত হবেন?’ তিনি যোগ করেনÑ ‘সুখী অনুগত থাকা এক জিনিস, আর শোচনীয় দাসে পরিণত হওয়া অন্য জিনিস। এখন যদি আপনি পিছিয়ে যান, তবে নিজের মর্যাদা হারাবেন। আর গণতন্ত্রে মর্যাদাই হচ্ছে সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ।’

সংকটে ৮০ বছরের সম্পর্ক : দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ইউরোপ ও আমেরিকার মধ্যে যে শক্তিশালী ‘আটলান্টিসিজম’ বা আটলান্টিক মহাসাগরের দুই পারের দেশগুলোর মধ্যে যে সামরিক ও অর্থনৈতিক ঐক্য গড়ে উঠেছিল, তা এখন হুমকির মুখে বলে মনে করেন বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানানÑ আগামী বুধবার বেলজিয়ামের রাজা ফিলিপকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। তবে সেই বৈঠকের মেজাজ আগের মতো বন্ধুত্বপূর্ণ হবে না। ডি ওয়েভারের ভাষায়Ñ ‘এটি হবে একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়ার বৈঠক। আমরা হয় একসঙ্গে দাঁড়াব, না হয় বিভক্ত হয়ে যাব। আর যদি আমরা বিভক্ত হই, তবে বুঝতে হবে ৮০ বছরের একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটতে চলেছে।’

দানবের কাল : রাজনৈতিক দার্শনিক আন্তোনিও গ্রামশির বিখ্যাত উক্তি উদ্ধৃত করে ডি ওয়েভার রহস্যময় সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন, ‘পুরাতন যখন মৃতপ্রায়, আর নতুনের যখন জন্ম হয়নি, তখন আমরা যেন এক দানবের সময়ে বাস করছি। এখন ট্রাম্পকেই ঠিক করতে হবে, তিনি কি একজন দানব হতে চান।’

বিশ্লেষকদের মতে, ডি ওয়েভারের এই মন্তব্য কেবল বেলজিয়ামের একক অবস্থান নয়, বরং ট্রাম্পের ‘আগে আমেরিকা’ নীতির বিরুদ্ধে ইউরোপের ভেতরে বাড়তে থাকা সম্মিলিত অসন্তোষেরই প্রতিফলন। ইউক্রেন ইস্যু, ন্যাটো ও বাণিজ্য শুল্ক নিয়ে ট্রাম্পের একরোখা সিদ্ধান্তের কারণে ব্রাসেলস এখন ওয়াশিংটন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিজেদের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন তৈরির কথা গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে।

  • Related Posts

    ইরানবিরোধী নীলনকশায় ট্রাম্প জড়িত

    ইরানে দুই সপ্তাহ ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে ‘হাজারো’ মানুষের মৃত্যুর জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করলেন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তিনি সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে…

    আমি ফিরব, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতন ঘটবেই’

    ইরানের শেষ শাহ (রাজা) মোহম্মদ রেজা শাহ পাহলভির সন্তান এবং ইরানের ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভি বলেছেন, ‘আমি ফিরব। তেহরানে ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতন ঘটবেই।’ শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) ওয়াশিংটনে এক সংবাদ…

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *