সাকিবের মামলা খতিয়ে দেখা উচিত : পাইলট

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সাকিব আল হাসান আর দেশে আসতে পারেননি। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা আছে। সাকিব বাংলাদেশের জার্সিতে মাঠে নামতে উন্মুখ হয়ে আছেন। দেশের মাটি থেকেই ক্রিকেটকে বিদায় জানাতে চান তিনি। বর্তমানে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও (বিসিবি) চেষ্টা করছে সাকিবকে ফেরাতে। বাংলাদেশ ক্রিকেটের এই পোস্টারবয়ের ফেরা নিয়ে এখন ক্রিকেটপাড়া আলোচনার তুঙ্গে।

বিসিবি পরিচালক ও গ্রাউন্ডস কমিটির প্রধান খালেদ মাসুদ পাইলট মনে করেন, সাকিবের নামে যে হত্যা মামলা রয়েছে, সেটা খতিয়ে দেখা উচিত। গতকাল তিনি বলেন, ‘যে মামলার ব্যাপারে আমি যত দূর জানি একটা খুনের মামলায় (আসামি) করা হয়েছে। দেখুন আমাদের দেশে অনেক মামলা হয়। হয়তো দেখা যায় ভুল মামলা। কিন্তু আমার ব্যক্তিগত মতামত এই যে সাকিবের মতো একজন ক্রিকেটার…। সব মানুষকেই আমাদের সম্মান করতে হবে। সাকিবের মতো একজন ক্রিকেটার বিদেশ থেকে মারবে, আমার কাছে এটা সন্দিহান মনে হয়। আমার কাছে মনে হয় না এটা ভালো জিনিস। সরকারের দায়িত্ব হওয়া উচিত, যে ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন, তার একটা সঠিক সমাধান হওয়া উচিত যে সেই ব্যক্তি কোন ভিত্তিতে মামলা করেছিলেন। রাজনৈতিক মামলা আলাদা। যে ব্যক্তি মামলা করেছেন, ধরুন আমাদের দেশের এক সম্মানীয় ব্যক্তি মামলা করে কাউকে হয়রানি করলেন। এটা তো অন্যায়। আমি মনে করি না যে সাকিব এ ধরনের কাজ করতে পারে।’ গুঞ্জন রয়েছে আসন্ন পাকিস্তান সিরিজ দিয়ে ফের জাতীয় দলে ফিরবেন সাকিব। যদিও সম্প্রতি ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেছেন, আইনজীবীর মাধ্যমে নিজেদের মামলা লড়ে নিরপরাধ প্রমাণ করতে পারলেই বাংলাদেশের হয়ে খেলতে পারবেন সাকিব।

পাইলট মনে করেন, ক্রিকেটার থাকা অবস্থায় রাজনীতিতে সাকিবের নাম লেখানোর সিদ্ধান্তটা ভুল ছিল। তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে খালেদ মাসুদ পাইলট হিসেবে বলতে পারি, আমি সাকিবের বড় ভক্ত। আমি সব সময় মনে করি মানুষ মাত্রই ভুল করে। সে হয়তো খেলা অবস্থায় কোনো একটা (রাজনৈতিক) দলের সঙ্গে জড়িত হয়েছিল, হয়তো সে ছয় মাসের জন্য একটা ভুল করেছিল। কিন্তু আমি মনে করি যে কোনো খেলোয়াড়েরই যখন সে জাতীয় দলে খেলবে, তার কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকা উচিত না।’ সাকিব আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি জাতীয় দলের অধিনায়ক থাকা অবস্থায় জাতীয় নির্বাচন করে সংসদ সদস্যও হয়েছিলেন। পাইলট বলেন, ‘যে খেলোয়াড়রা জাতীয় দলের সঙ্গে যখন জড়িত থাকে, তখন সমস্ত মানুষের আবেগ থাকে ঐ জাতীয় দল ও জাতীয় দলের খেলোয়াড়ের প্রতি। যখনই আপনি কোনো একটা দলের সঙ্গে জড়াবেন। তখন কিন্তু এটা ভাগাভাগি হয়ে যায়। তো জাতীয় দলে যখন খেলবেন, তখন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে না থাকাই ভালো।’

  • Related Posts

    ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর আহ্বান

    যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেছেন, ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন-সাধনে সরকারি প্রচেষ্টার পাশাপাশি বেসরকারি খাতের, বিশেষ করে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অপরিসীম। দেশের সব ফেডারেশন সমানভাবে আর্থিক সচ্ছল…

    বিশ্বকাপের আগে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবেন নিগাররা

    আগামী জুন-জুলাইয়ে ইংল্যান্ডে বসবে দশম নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ক্রিকেটের এই মহাযজ্ঞে ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশ। তাদের সঙ্গী নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত ও পাকিস্তান। বিশ্বকাপের আগে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজে খেলবেন নিগার…

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *