রাজধানীতে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের নির্দেশ ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন। ট্রাম্প অপরাধ দমনের পদক্ষেপ হিসেবে এই নির্দেশনা দিয়েছেন।গতকাল সোমবার ট্রাম্প বিচার বিভাগকে রাজধানীর স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার অনুমতি দেন এবং সেখানে ৮০০ ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করতে পেন্টাগনকে নির্দেশ দেন।

গত জুন মাসে লস অ্যাঞ্জেলেসে একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার পর এবার ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের নির্দেশ দিলেন ট্রাম্প। তিনি অন্যান্য শহরকেও এ ব্যাপারটি খেয়াল করতে বলেছেন।

বেশিরভাগ ন্যাশনাল গার্ড অঙ্গরাজ্যের গভর্নরদের কাছে জবাবদিহিতা করে। তবে ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল গার্ড বাহিনী ইতোমধ্যেই কেবল মার্কিন প্রেসিডেন্টকে জবাবদিহি করছে।

সামরিক রিজার্ভ ফোর্স: 

ন্যাশনাল গার্ড হলো যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীর একটি সামরিক রিজার্ভ ফোর্স। সামরিক রিজার্ভ ফোর্সের বেশিরভাগ সদস্যের সামরিক ও বেসামরিক উভয় পেশাই থাকে। সাধারণত, রিজার্ভ ফোর্সের সদস্যরা জরুরি পরিস্থিতিতে কিংবা দুর্যোগের সময় সক্রিয়ভাবে সামরিক বাহিনীতে যোগ দেয়। প্রয়োজন অনুসারে তাদের যুদ্ধের ময়দানেও মোতায়েন করা হতে পারে।

ন্যাশনাল গার্ড রাজ্য ও ফেডারেল উভয় পর্যায়েই দায়িত্ব পালন করে। যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি রাজ্য, ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের পুয়ের্তো রিকো, গুয়াম ও ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জে ন্যাশনাল গার্ড বাহিনী রয়েছে।

প্রয়োজন অনুসারে রাজ্যের গভর্নর ন্যাশনাল গার্ডকে সক্রিয় করেন এবং তাদের প্রয়োজনমাফিক নির্দেশনা দেন। তবে কিছু কিছু সময় প্রেসিডেন্ট চাইলে ন্যাশনাল গার্ডকে ‘ফেডারেলাইজড’ করে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেন। ফেডারেল কোনো মিশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত ন্যাশনাল গার্ড প্রেসিডেন্টের নিয়ন্ত্রণেই থাকে। যেমনটা ঘটেছে লস অ্যাঞ্জেলেসে।

জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায়: 

ন্যাশনাল গার্ড সদস্যদের সাধারণত গভর্নরদের নির্দেশে এবং প্রতিটি রাজ্যের আইনের নির্দিষ্ট বিধান অনুসারে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় মোতায়েন করা হয়।

ঘূর্ণিঝড়, দাবানল ও বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর রাজ্য ন্যাশনাল গার্ড সদস্যদের প্রায় সময়ই বিপজ্জনক এলাকা থেকে বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নিতে, প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করতে কিংবা বিপজ্জনক ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসহ মোতায়েন হয়।

গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন হয়েছে কোভিড-১৯ মহামারির সময়। ওই সময় ন্যাশনাল গার্ড সদস্যরা জরুরি সেবা কেন্দ্র নির্মাণ ও কর্মী নিয়োগ, সারাদেশে চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ এবং অন্যান্য সরবরাহ সমন্বয়ে সহায়তা করেছে।

বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে:

জনগণের আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে ন্যাশনাল গার্ডের ব্যবহার ডোনাল্ড ট্রাম্প একাই করেননি। ২০২০ সালে ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ আন্দোলনের সময় ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হয়।

তার আগে ১৯৯২ সালে লস অ্যাঞ্জেলেসে দাঙ্গা থামাতে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হয়। ওই সময় দাঙ্গা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ শহরজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। এ ঘটনায় কয়েক ডজন মানুষ নিহত এবং হাজারো মানুষ আহত হয়েছিল। ১৯৫০ ও ১৯৬০ এর দশকেও ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হয়েছিল।

  • Related Posts

    হরমুজ প্রণালিতে ইরানের মাইন বসানোর আশঙ্কা, বাড়ছে নিরাপত্তা অনিশ্চয়তা

    মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে ইরান ছোট আকারের সমুদ্র মাইন বসাতে শুরু করেছে—এমন কিছু প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। তবে এসব তথ্য এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। এদিকে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে…

    ইরান কখনও আত্মসমর্পণ করবে না: মাসুদ পেজেশকিয়ান

    তেহরান এবং দেশের অন্যান্য স্থানে ব্যাপক বিস্ফোরণের শব্দে ইরানিরা জেগে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল একের পর এক হামলা করে যাচ্ছে ইরানে। থামছে না ইরানও। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘নিঃশর্ত…

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *