ভারতীয় ঋণের গ্যাঁড়াকলে রেলওয়ে

দেশের প্রধান রেলস্টেশন রাজধানীর কমলাপুর থেকে টঙ্গী পর্যন্ত প্রতিদিন ১১২টি এবং টঙ্গী-জয়দেবপুর পর্যন্ত ৪৪টি ট্রেন চলাচল করে। এ পথের ট্রেন চলাচল দ্রুত করতে তৃতীয় ও চতুর্থ লাইন এবং টঙ্গী-জয়দেবপুর পর্যন্ত ডাবল লাইন করতে চায় সরকার। প্রকল্পটি রেলের জন্য খুব জরুরি। কিন্তু অন্য দাতা সংস্থার পরিবর্তে ভারতীয় লাইন অব ক্রেডিটে (এলওসি-১) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে পদে পদে হোঁচট খাচ্ছে রেল। ফলে ২০১২ সালে অনুমোদন পাওয়া প্রকল্প এখনও ঝুলে আছে। সর্বশেষ বাধা হচ্ছে ভারতীয় পরামর্শক নিয়োগ। এটি না মানলে প্রকল্পই থেমে যাবে।

জানা গেছে, এ প্রকল্পের কারণে সেতু বিভাগের আওতাধীন ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজও আটকে গেছে। উড়াল সড়ক নির্মাণ শেষ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। আবার প্রকল্পটিতে ভারতীয় এক্সিম ব্যাংকের অনাপত্তি পেতে দুই বছর সময় লেগেছে। ফলে ২০২৭ সালের মধ্যে কাজ শেষ হবে কিনা তা নিয়েও সন্দেহ আছে। তবে প্রকল্প পরিচালক নাজনীন আরা কেয়া বলেন, কাজ এগোচ্ছে। বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে রেলপথ তৈরি হচ্ছে।

ঢাকার কমলাপুর থেকে টঙ্গী পর্যন্ত ৪টি লাইন এবং টঙ্গী-জয়দেবপুর দুটি লাইন ও ৮টি স্টেশনে ৩০ কিলোমিটার থাকবে লুপ লাইন। প্রকল্পে মোট ১৩৭ কিলোমিটার রেলপথ তৈরি হবে। এখন পর্যন্ত অগ্রগতি হয়েছে ৪৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ।

জানা গেছে, ভারতীয় একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ২০১৮ সালের ২৪ জুলাই ৬৫ কিলোমিটার রেলপথের জন্য ১ হাজার ৩৯৩ কোটি টাকার চুক্তি হয়। পরে কাজের পরিধি বাড়ানো হলে ১৩৭ কিলোমিটার করতে ভেরিয়েশন প্রস্তাব পাঠানো হয়, যা ২০২৩ সালের ১ নভেম্বর অনুমোদন দেয় সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিজিপি)। সময় দেওয়া হয় ২০২৬ সাল পর্যন্ত। এক্সিম ব্যাংক দুই বছর পর চলতি বছরের ৮ জুলাই এতে অনাপত্তি দিয়েছে। তবে অতিরিক্ত ২১ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন ডলার ঋণ এখনও মেলেনি। ফলে দেশি অর্থায়নে কিছু কাজ করতে হচ্ছে।

অন্যদিকে জমি ও স্থাপনা জটিলতায়ও কাজ আটকে আছে। প্রকল্প এলাকা এফডিসি রেলগেট থেকে মালিবাগ পর্যন্ত সাইটটি ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা। এখনও তা বুঝিয়ে দিতে পারেনি ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে কর্তৃপক্ষ। মালিবাগ-খিলগাঁও অংশে সিটি করপোরেশনের দোকান, স্ট্রিট লাইট, ক্যাবল, গ্যাস ও ডিপিডিসির বিদ্যুৎ লাইন সরানো যায়নি। তেজগাঁও রেলস্টেশনের জমি দখল করে আছে ট্রাক স্ট্যান্ড। টঙ্গী স্টেশনে রয়েছে অবৈধভাবে নির্মিত মসজিদ, মন্দির, মাজার, মাদ্রাসা ও সুইপার কলোনি। এসব স্পর্শকাতর স্থাপনা সরাতে রেল কর্তৃপক্ষ বিপাকে পড়েছে।

প্রকল্পের পরামর্শক প্যাকেজ-২ নিয়েও জটিলতা তীব্র হয়েছে। ভারতীয় আরভি-আয়েশা নামের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ২০১৫ সালে হওয়া চুক্তির মেয়াদ শেষ হয় ২০২৩ সালের আগস্টে। নতুন করে একক উৎসভিত্তিক নির্বাচন পদ্ধতির মাধ্যমে নিয়োগের প্রস্তাব দিলেও ভারতীয় এক্সিম ব্যাংক সময়মতো অনুমোদন দেয়নি। এখন আবার নতুন প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এদিকে কাজের বড় অংশ এখনও বাকি। পূর্ত কাজের ৬০ শতাংশ এবং সিগন্যালিং কাজের ৯০ শতাংশ শেষ হয়নি। পরামর্শক ছাড়া এই কাজ এগোনো কঠিন। কারণ একক উৎসভিত্তিক নিয়োগ নিয়ে আপত্তি তুলেছে প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়। রেলের দাবি, চুক্তির শর্তের কারণে তাদের আপাতত বিকল্প পথ নেই।

  • Related Posts

    দেশের রিজার্ভ ৩১ বিলিয়ন ডলার

    বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩১ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। সোমবার (২৪ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংক এ তথ্য জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যালেন্স অব পেমেন্টস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল…

    মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা বন্ধের নির্দেশ দিল জামায়াত

    জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দলীয় প্রার্থীদের মোটরসাইকেলে শোভাযাত্রা করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সোমবার (২৪ নভেম্বর) জামায়াত আমিরের দেওয়া এমন নির্দেশনা দেশের সব শাখায় পাঠানো হয়েছে।…

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *