ষ্টির আনাগোনা শুরু হয়েছিল টসের আগেই। ম্যাচের ভাগ্যও শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করে দিল সেই বৃষ্টি। জয়ের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়েও মাত্র ৪৩ বলের ব্যবধানে দুঃস্বপ্নে পরিণত হলো বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ম্যাচ। ডিএলএস পদ্ধতিতে ১৮ রানে হেরে গেল ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কাছে।
শনিবার বুলাওয়েতে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে আগে ব্যাট করে ভারত ৪৮.৪ ওভারে ২৩৮ রানে অলআউট হয়। জবাবে ৪৯ ওভারের ম্যাচে ১৭.২ ওভারে ২ উইকেটে ৯০ রান তোলার সময় বৃষ্টির হানায় খেলা বন্ধ হয়ে যায়। ওভার কমে নতুন লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৯ ওভারে ১৬৫ রান। অর্থাৎ হাতে থাকা ১১.৪ ওভারে (৭০ বল) ৭৫ রান দরকার ছিল বাংলাদেশের, উইকেট ছিল ৮টি। ক্রিজে তখন অধিনায়ক আজিজুল হাকিম ও কালাম সিদ্দিকী—জয় তখন একেবারেই হাতের মুঠোয়।
২০ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ২ উইকেটে ১০২। ডিএলএস হিসেবে তারা তখন ১৪ রানে এগিয়ে। খেলা সেখানেই থেমে গেলে জয় বাংলাদেশেরই হতো। কিন্তু বৃষ্টি আর এল না, আর তখনই শুরু হলো ব্যাটিং ধস।
২১.২ ওভারে কালাম সিদ্দিকীর আউটের পর মাত্র ৭.৩ ওভারের ব্যবধানে ৪০ রান তুলতেই ৮ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ২৪ ওভার শেষে জয়ের জন্য দরকার ছিল ৩০ বলে ৪০ রান, হাতে ৬ উইকেট। ৫১ রানে ব্যাট করা অধিনায়ক আজিজুল ছিলেন আশার প্রতীক। কিন্তু ২৫তম ওভারের দ্বিতীয় বলে আজিজুল আউট হতেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। ওই ওভার শেষে স্কোর দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ১২৯।
পরের তিন ওভারে মাত্র ১৭ রান যোগ করতেই পড়ে যায় বাকি ৪ উইকেট। ২৮তম ওভারে টানা ধাক্কা—প্রথম তিন বলেই ফেরেন আল ফাহাদ ও রিজান হোসেন। বৃষ্টিতে বদলে যাওয়া লক্ষ্য তাড়ায় যে ম্যাচে জয় দেখছিল বাংলাদেশ, সেটিই দ্রুত পরিণত হয় হতাশার গল্পে। শেষ পর্যন্ত ২৮.৩ ওভারে ১৪৬ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল।
বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের আউটগুলো ছিল মূলত ভুল শট নির্বাচন ও অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকির ফল। দ্রুত রান তুলতে গিয়ে ছক্কার চেষ্টায় আউট হন আজিজুল ও সামিউন বাসির। আল ফাহাদ সহজ রানআউটের শিকার হন ডাইভ না দেওয়ায়। ভারতের হয়ে বিহান মালহোত্রা দুর্দান্ত বোলিং করে ৪ ওভারে ১৪ রান দিয়ে নেন ৪ উইকেট।
এর আগে ভারতের ইনিংসে বড় ভূমিকা রাখেন বৈভব সূর্যবংশী ও অভিজ্ঞান কুণ্ডু। ৬৭ বলে ৭২ রান করেন সূর্যবংশী। মাত্র ৩০ বলে ফিফটি তুলে নিয়ে ১৪ বছর ২৯৬ দিন বয়সে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ অর্ধশতকের রেকর্ড গড়েন তিনি। তাঁর আউটের পর ১১২ বলে ৮০ রানের ইনিংস খেলে ভারতকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন কুণ্ডু। বাংলাদেশের হয়ে পেসার আল ফাহাদ নেন ৩৮ রানে ৫ উইকেট।
এদিকে টসের সময় দুই অধিনায়কের হাত না মেলানো নিয়ে আলোচনা তৈরি হলে বিসিবি ব্যাখ্যা দেয়। নিয়মিত অধিনায়ক আজিজুল অসুস্থ থাকায় টসে ছিলেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক জাওয়াদ আবরার। বিসিবি জানায়, করমর্দন না করাটা ছিল অনিচ্ছাকৃত ও সাময়িক অসাবধানতার ফল, এতে কোনো অসম্মান প্রদর্শনের উদ্দেশ্য ছিল না। ম্যাচ শেষে দুই দলের খেলোয়াড়েরা স্বাভাবিকভাবেই হাত মিলিয়ে মাঠ ছাড়েন।






