বাংলাদেশ ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বর্জন করেছে। এ কারণে বিসিবির ওপর শাস্তির খড়গ নেমে আসতে পারত। তবে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসির তরফ থেকে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ায় বিসিবির ওপর কোনো আর্থিক, ক্রীড়াসংক্রান্ত বা প্রশাসনিক জরিমানা আরোপ করা হবে না। বিসিবি চাইলে আইসিসির ডিজপিউট রেজ্যুলেশন কমিটিতে যেতে পারবে। এ ছাড়া ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশ একটি আইসিসি ইভেন্ট আয়োজন করার সুযোগ পাবে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের প্রচেষ্টায় এটি আদায় করে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।
রবিবার লাহোরে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির সঙ্গে সভা করেন আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা। সেই সভায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বুলবুলকে। সেখানে পাকিস্তানকে ভারতের বিপক্ষে ১৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বের ম্যাচ খেলতে রাজি করানো হয়েছে। বিসিবি সভাপতির অনুরোধে পিসিবি শেষ পর্যন্ত ক্রিকেটের স্বার্থে তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছে। পাশাপাশি বিসিবিকে অন্যায়ভাবে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার জন্য আইসিসিকে কিছু শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়েছিল। সব কিছুই মেনে নিয়েছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাÑআইসিসি।
পরে বিবৃতি দিয়ে আইসিসি জানিয়েছে, টি-টেয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি দুর্ভাগ্যজনক এবং বিশ্বকাপে না খেলায় বাংলাদেশের ক্রিকেটে কোনো দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব না ফেলার বিষয়টি নিশ্চিত করবে আইসিসি। আইসিসির সিইও সঞ্জয় গুপ্তর বাংলাদেশের বিশ্বকাপে অনুপস্থিতিকে দুঃখজনক অভিহিত করে বলেছেন, ‘একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেট দেশ হিসেবে বাংলাদেশের প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতি পরিবর্তন হবে না।’ গতকাল বিশ্বকাপ ইস্যুতে কথা বলেছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
তিনি বলেন, ‘আইসিসি এখন বলছেÑ আমাদের কোনো রকম শাস্তি দেবে না। বরং একটা বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের সহ-আয়োজক হবে বিসিবি। ব্রিলিয়ান্ট অ্যাচিভমেন্ট। আমি স্যালুট টু দ্যা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। এ রকম সিদ্ধান্ত ১০ বার নেওয়ার সুযোগ এলে এটাই নেওয়া উচিত।’
ভারত ও শ্রীলংকায় গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ‘সি’ গ্রুপে থাকা বাংলাদেশের ম্যাচের ভেন্যু ছিল কলকাতা ও মুম্বাই। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী দিনেই মাঠে নামার কথা ছিল টাইগারদের। বিশ্বকাপের জন্য দলও ঘোষণা করেছিল বিসিবি। তবে উগ্রবাদীদের হুমকির কারণে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ প্রতিক্রিয়ায় ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। মূলত ভারতে ক্রিকেটার, গণমাধ্যমকর্মী ও সমর্থকদের নিরাপত্তাঝুঁকি থাকায় এমন সিদ্ধান্ত। এ জন্য আইসিসিকে তারা অনুরোধ করেছিল বাংলাদেশের ম্যাচের ভেন্যু যেন শ্রীলংকায় দেওয়া হয়।
তবে আইসিসি সেই অনুরোধ রাখেনি। বাংলাদেশের জায়গায় তারা স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দিয়েছে। বিশ্বকাপ ইস্যুতে শুরু থেকেই বাংলাদেশের পাশে ছিল পিসিবি। মহসিন নাকভি বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। এ কারণে তারা বিশ্বকাপ বর্জন করতে চেয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে তারা বিশ্বকাপে অংশ নিলেও ভারতের বিপক্ষে গ্রুপপর্বের ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়। এতেই নড়েচড়ে বসে আইসিসি। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের আর্থিক মূল্য কোটি কোটি টাকা। বাণিজ্যিক দিক বিবেচনা করে পিসিবি প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করতে লাহোরে আইসিসি তাদের প্রতিনিধি হিসেবে ইমরান খাজাকে পাঠায়। দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টার বৈঠকে বরফ গলে। বাংলাদেশ ছাড়াও শ্রীলংকা, সংযুক্ত আরব আমিরাত ক্রিকেট বোর্ডের অনুরোধে ভারতের বিপক্ষে গ্রুপপর্বের ম্যাচ খেলতে রাজি হয় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। বিসিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমি অনুরোধ করছিÑ পুরো ক্রিকেট ইকোসিস্টেমের স্বার্থে পাকিস্তান যেন ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচটি খেলে।’







