মিরপুরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষের টেস্টে জয় এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। সেঞ্চুরি হাতছাড়া হলেও দারুণ ব্যাটিংয়ে দলকে এগিয়ে নিয়েছেন সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক। শততম টেস্টে ফিফটি করে আরেকটি মাইলফলক অর্জন করেছেন মুশফিকুর রহিম। আর বল হাতে ইতিহাস গড়ে দেশের সফলতম বোলার হিসেবে শীর্ষে উঠে এসেছেন তাইজুল ইসলাম। তাদের সম্মিলিত নৈপুণ্যে বাংলাদেশের বড় জয় প্রায় নিশ্চিত, আয়ারল্যান্ডের কৃতিত্ব একমাত্র ম্যাচকে পঞ্চম দিনে টেনে নেওয়া।
চতুর্থ দিনের খেলা শেষে আয়ারল্যান্ডের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ১৭৬। জয়ের জন্য প্রয়োজন আরও ৩৩৩ রান-যা বাস্তবে অসম্ভবই বলা যায়। ফলে শেষ দিনে কেবল বাংলাদেশের ৪ উইকেট তুলে নেওয়ার অপেক্ষা।
এর আগে বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে ৪ উইকেটে ২৯৭ রানে। মুমিনুল ফেরেন ৮৭ রানে, সাদমান ৭৮ রানে। মুশফিক অপরাজিত থাকেন ৫৩ রান নিয়ে-শততম টেস্টে সেঞ্চুরি ও ফিফটির কৃতিত্ব অর্জন করে যা টেস্ট ইতিহাসে আগে করেছেন কেবল রিকি পন্টিং।
দিন শুরু হয় ১ উইকেটে ১৫৬ রান নিয়ে। সেঞ্চুরির পথে থাকা সাদমান আবারও ব্যর্থ হন ল্যান্ডমার্ক ছোঁয়ার আগে, আউট হন ৭৮ রানে। পরের ওভারেই মাত্র ১ রানে ফেরেন অধিনায়ক শান্ত। তবে মুমিনুল ও মুশফিকের জুটিতে লিড আরও বড় করে বাংলাদেশ। লাঞ্চের আগেই গড়ে ওঠে শতরানের জুটি।
লাঞ্চের পর সবাই অপেক্ষায় ছিলেন মুমিনুলের সেঞ্চুরির জন্য। কিন্তু মাত্র ১৩ রান দূরে থাকতে তিনি ক্যাচ দেন কার্টিস ক্যাম্ফারের হাতে। এরপরই ৫০৮ রানে এগিয়ে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ।
বল হাতে শুরু থেকেই দারুণ ছিলেন তাইজুল ইসলাম। প্রথমে আইরিশ অধিনায়ক বালবার্নিকে ফেরান, তাতেই সাকিব আল হাসানকে পেছনে ফেলে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ টেস্ট উইকেটশিকারি হয়ে ওঠেন তিনি। নিজের পরের ওভারেই ফিরিয়ে দেন পল স্টার্লিংকে।
ক্যাড কারমাইকেল ও হ্যারি টেক্টরের অর্ধশত রানের জুটি ভাঙেন হাসান মুরাদ। এরপরই ফিফটি করা টেক্টরও মুশফিকের নিখুঁত ক্যাচে ফেরেন। লর্কান টাকারকে ফেরান খালেদ আহমেদ। দিনের শেষদিকে তাইজুল তার তৃতীয় উইকেট নেন স্টিভেন ডোহেনিকে আউট করে। একপ্রান্তে লড়াই করে ক্যাম্ফার দিনটি শেষ করেন অপরাজিত থেকে।
সবমিলিয়ে বড় জয়ের একদম দুয়ারে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ; বাকি আছে কেবল চারটি উইকেট তুলে নেওয়ার অপেক্ষা








