ইরান যুদ্ধ ইউরোপের জন্য এক নতুন যাত্রার সূচনা করেছে। আর এই যাত্রাটি হলো, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রভাব থেকে ইউরোপের রাজনৈতিক মুক্তি। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণী নিবন্ধে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক নাথালি তোচি এ কথা লিখেছেন।
তোচি বলছেন, ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের ফাঁকা হুমকিগুলো ইউরোপের কাছে আবেদন হারাচ্ছে এবং ইউরোপীয় নেতারা তোষামোদের পথ ছেড়ে বিরোধিতার পথে হাঁটতে শুরু করেছেন।
নিবন্ধে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যখন ইরানের ওপর অবৈধ হামলা শুরু করে, তখন ইউরোপের অনেক নেতাই এর নীরব বা প্রকাশ্য সমর্থন দিয়েছিলেন। ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে যেখানে ট্রাম্পের মিত্র হিসেবে দাঁড়িয়েছিলেন, সেখানে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ছিলেন নীতির প্রশ্নে কট্টর বিরোধী। ইউরোপীয় নেতারা ভেবেছিলেন, ভেনেজুয়েলায় মাদুরো সরকারের মতো ইরানেও হয়তো সহজে শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানো যাবে।
কিন্তু যুদ্ধ যত তীব্র হয়েছে, ইউরোপের অবস্থান ততই পাল্টেছে। তোচির ভাষায়, ইউরোপীয় নেতাদের কাছে ট্রাম্প এখন ‘বাবার’ (ড্যাডি) জায়গা থেকে ‘খলনায়কে’ (ব্যাডি) পরিণত হয়েছেন। ইতালি তাদের সিসিলি বিমানঘাঁটি ব্যবহার করতে যুক্তরাষ্ট্রকে বাধা দিয়েছে। রাশিয়ার দিক থেকে হুমকির কারণে পোল্যান্ড মধ্যপ্রাচ্যে প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পাঠাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ফ্রান্স তাদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি এবং হরমুজ প্রণালি খুলতে সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করে কূটনীতির ওপর জোর দিয়েছে। স্পেনও তাদের যৌথ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
নিবন্ধে তোচি ব্যাখ্যা করেছেন কেন ইউরোপের এই মোহভঙ্গ হলো। ইউরোপীয়রা বুঝতে পেরেছে, এই যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে ভøাদিমির পুতিনের রাশিয়া। তেলের দাম বেড়েছে, অন্যদিকে ইউক্রেনের জন্য ইউরোপের অর্ডার দেওয়া অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্র হয়তো উপসাগরীয় অঞ্চলে পাঠিয়ে দিচ্ছে। কোভিড-১৯ এবং ইউক্রেন যুদ্ধের পর এই ইরান যুদ্ধ ইউরোপের বুকে পাঁচ বছরের মধ্যে তৃতীয় বড় অর্থনৈতিক সংকটের চোখরাঙানি দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের এই যুদ্ধ যে শেষ পর্যন্ত ইউরোপের জন্যই খারাপ খবর বয়ে আনবে, তা তারা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। তোচি লিখেছেন, ট্রাম্পের ফাঁকা বুলি আর হুমকি-ধমকিতে ইউরোপ এখন ক্লান্ত ও বিরক্ত। ইরানে যুদ্ধাপরাধের হুমকি, ন্যাটো ছাড়ার ভয় দেখানো বা ইউরোপীয় নেতাদের অপমান করা- সব মিলিয়ে ট্রাম্প এখন ইউরোপের কাছে একঘেয়ে হয়ে উঠেছেন।







