আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসন থেকে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছিলেন আলোচিত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম। গুঞ্জন ছিল- নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেবেন তিনি। তবে শেষ মুহূর্তে তিনি ‘আমজনতা’ দল থেকে মনোনয়নপত্র কেনেন।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দিতে না পারায় তার ফরমটি গ্রহণ করেননি জেলা প্রশাসক ও রিটানিং কর্মকর্তা। হিরো আলমের নির্বাচনের অংশ নেওয়া নিয়ে দেখা দেয় অনিশ্চয়তা। তবে সেই অনিশ্চয়তা কেটে যায় হাইকোর্টের আপিল বিভাগের রায়ে, গেল সোমবার।
তবে আজ বৃহস্পতিবার হিরো আলম জানিয়েছেন, তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেবেন না, নির্বাচনে অংশ নেবেন না। কিন্তু কেন?
এমন প্রশ্নের জবাবে আক্ষেপ নিয়ে তিনি বলেন, ‘কিছু লোক আমাকে বলে যে, আমার শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই। সেটা মাথায় রেখেই নির্বাচনে না দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সংসদ ভবনকে কোনোভাবেই কলুষিত করতে চাই না আমি।’
আর কী কারণ? জানতে চাইলে হিরো আলম বলেন, ‘অনেক কারণ আছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই, সেটা একটা। দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে, নির্বাচন করতে অনেক টাকা-পয়সা প্রয়োজন। আমার এখন আর এত টাকা-পয়সা নেই। এতদিন যা ছিল, সেগুলো দিয়ে করেছি। তবে নির্বাচন না করলেও আমি সাধারণ জনগণের পাশে থাকব।’
তৃতীয় কারণ হিসেবে হিরো আলম বলেন, ‘হঠাৎ নির্বাচনের পরিবেশ কেন যেন ঠান্ডা হয়ে গেছে। কয়েকদিন আগেও গরম ছিল। আশা রাখছি নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। যারা নতুন ভোটার হয়েছেন, তারা অনেক বছর ভোট দিতে পারে না। এবার যাকে খুশি তাকে ভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে তাদের, সেই প্রত্যাশা রাখছি।’
এর আগে, ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রথমবারের মতো বগুড়া থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাইয়ে প্রার্থিতা বাতিল হলেও পরে আদালতের আদেশে তা ফিরে পান এবং ‘সিংহ’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে ভোটের দিন কারচুপির অভিযোগ তুলে তিনি নির্বাচন বর্জন করেন।
পরে ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য ও অভিনেতা আকবর হোসেন পাঠান ফারুকের মৃত্যুর পর অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনেও অংশ নেন হিরো আলম। সেই নির্বাচনে ভোটের দিন এক কেন্দ্রে তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।







