জোট ভাঙার পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক দর্শনের সংঘাত: মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করিম

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের আসন বণ্টন নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। ইসলামী আন্দোলনকে ছাড়াই ১০ দল বৃহস্পতিবার ২৫৩ আসন নিজেদের মধ্যে বণ্টন করে। এক দিন পর শুক্রবার ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এককভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দেয়। একবাক্সে ভোট থেকে শুরু করে সংবিধান ও কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনার প্রশ্ন- সব মিলিয়ে এ বিভক্তির পেছনে শুধু আসনবণ্টন নয়, বরং মৌলিক রাজনৈতিক দর্শনের সংঘাতই মুখ্য বলে মনে করছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

দলটির ভাষ্য- ইসলামী ঐক্যের প্রস্তাবকে পুঁজি করে জামায়াত নিজেদের বড় দল হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইলেও বাস্তবে সেটিই তাদের রাজনৈতিক দুর্বলতা। এই টানাপড়েন, ভাঙন ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে দৈনিক আমাদের সময়-এর সঙ্গে একান্তে খোলামেলা কথা বলেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করিম।

সৈয়দ ফয়জুল করিম বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর সর্বপ্রথম আমাদের দলের আমির সৈয়দ রেজাউল করিম (চরমোনাই পীর) সব ইসলামী দলকে একবাক্সে ভোট দানের আহ্বান করেন। সেখানে জামায়াতসহ সব ইসলামী দল এককাতারে শামিল হয়েছে। একেই পুঁজি হিসেবে নিয়েছে জামায়াত। তারা নিজেদের বড় দল জাহির করা শুরু করল।

নায়েবে আমির বলেন, ইসলামী দলগুলোর ঐক্যের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘বাংলাদেশে ইসলামী হুকুমাত কায়েম করা, কোরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করা’। জামায়াতসহ সব দল এই সিদ্ধান্তে এতদিন একমত ছিল। হঠাৎ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রকাশ্যে বলে দিয়েছেন- বর্তমান সংবিধান অনুযায়ীই দেশ পরিচালনা করা হবে। কোরআন-সুন্নাহর সিদ্ধান্ত থেকে তারা সরে গেলেন। তখন থেকেই তার এই বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে আসছে ইসলামী আন্দোলন; কিন্তু জামায়াত তাদের সেই বক্তব্যে অনড় থাকে। ফলে তখন থেকেই মূলত তাদের সঙ্গে অনৈক্য শুরু।

মুফতি ফয়জুল বলেন, জামায়াত এদেশের স্বাধীনতাবিরোধী দল হিসেবে পরিচিত। আওয়ামী লীগ তাদের কখনই সমর্থন দেওয়ার প্রশ্ন ওঠে না।

এককভাবে নির্বাচনের ফলে ভোটের মাঠে প্রভাবের বিষয়ে মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করিম বলেন, যারা ইসলামী হুকুমাত চায় না তাদের সঙ্গে থাকলে এদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলিম নারী-পুরুষ ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে আপত্তি জানাত। বরং এখন পুরো দেশে হাতপাখার গণজোয়ার সৃষ্টি হবে।

নির্বাচনে অংশ নিতে না পারা নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোট প্রাপ্তির বিষয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সমর্থিত ভোটাররা মনে করেন যাদের হাতে তাদের জান-মাল, তাদের সম্পদ, ইজ্জত সুরক্ষিত তাদেরই ভোট দেবেন। এক্ষেত্রে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সবচেয়ে এগিয়ে।

সর্বশেষ মুফতি ফয়জুল করিম ভোটের রাজনীতিতে অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে জাতির সামনে নতুন কিছুরও আগমন ঘটে উল্লেখ করে বলেন, আগামী ২১ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। এখনও বেশ কয়েকদিন বাকি। হয়তো জাতির কল্যাণে, ইসলামের পক্ষে নতুন কিছু আগমন অপেক্ষা করছে।

  • Related Posts

    কৌশলের নামে গুপ্ত-সুপ্ত বেশ ধারণ করেনি বিএনপি

    গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিভিন্ন সময় গুম, খুন ও নির্যাতনের পরও বিএনপির কর্মীরা কৌশলের নামে গুপ্ত বা সুপ্ত বেশ ধারণ করেনি বলে মন্তব্য করেছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সময় গুম, খুন…

    জরুরি বৈঠকে জামায়াত

    জরুরি বৈঠকে বসেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ। আজ শনিবার সকাল ৯টায় মগবাজার দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৈঠকটি শুরু হয়। জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের…

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *