চট্টগ্রামে চার আসনে লড়াই ধানের শীষের ৪ তরুণের

ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী হয়ে মন্ত্রী হয়েছিলেন বিএনপি নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান। দক্ষিণ চট্টগ্রামের উপকূলীয় উপজেলা বাঁশখালী থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রী হয়েছিলেন জাফরুল ইসলাম চৌধুরী। একইভাবে চট্টগ্রামের রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়ি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী। বিএনপিতে প্রভাবশালী প্রয়াত এই তিন নেতার সন্তানরা ধানের শীষের প্রতীকে এবার ভোটের মাঠে লড়াই করছেন। চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে তিনটি আসনে লড়ছেন তারা। বাবার জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচনী ফসল ঘরে তুলতে পারবেন এমন প্রত্যাশা থেকেই এই তরুণদের মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপির হাইকমান্ড। বাবার মতো তারাও বিএনপিকে বিপুল ব্যবধানে আসন উপহার দিতে পারবেন বলে আশাবাদী। অন্যদিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে

ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। এছাড়া চট্টগ্রাম-১৪ আসনে লড়ছেন এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রমের সন্তান ওমর ফারুকও একই প্রতীকে। তরুণ হিসেবে জনগণ এবার তাদের বিপুল ভোটে জয়ী করবেন বলে তারাও আশাবাদী।

রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পিতার পথ ধরে সন্তানরা এগিয়ে যায়। পিতারা যে প্রতীকে নির্বাচন করে সংসদে গেছেন সেই প্রতীকে সন্তানরা ভোটের মাঠে থাকা অনেক সৌভাগ্যের। পিতার পরিচিতি কাজে লাগিয়ে ভোটের মাঠে এগিয়ে যাওয়ার পথ সহজ করে দিয়েছে। ফলে নির্বাচনী সুফল নিয়ে আসাও তাদের জন্য অনেকটা সহজ হবে।

চট্টগ্রাম-১০ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন পাট শ্রমিক দলের সভাপতি সাঈদ আল নোমান। তার বাবা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান প্রয়াত আবদুল্লাহ আল নোমান। চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালি আসন থেকে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯১ ও ২০০১ সালে তিনি নির্বাচনের পর দুই দফায় বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। বাবার মতো শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সাঈদ আল নোমান কাজ করছেন দল ও মানুষের জন্য।

সাঈদ আল নোমান বলেন, তরুণ জনগোষ্ঠীই দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। দক্ষতা উন্নয়ন, কারিগরি শিক্ষা এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে তরুণদের অর্থনীতির মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে হবে। পাশাপাশি প্রবাসী আয়কে নিরাপদ ও উৎপাদনমুখী বিনিয়োগে রূপান্তরের উদ্যোগ নিতে হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতকে শক্তিশালী করা গেলে গ্রাম ও শহর উভয় জায়গায় কর্মসংস্থান বাড়বে এবং অর্থনীতির ভিত মজবুত হবে। একটি জনবান্ধব অর্থনীতি মানে শুধু প্রবৃদ্ধি নয়, বরং ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করা। শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য মজুরি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ এবং মৌলিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করাই হবে আমাদের অগ্রাধিকার।

চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুগুনিয়া) আসনে ধানের শীষ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী। তার বাবা প্রয়াত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী চারদলীয় জোট সরকারের আমলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়ি আসন থেকে ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

নির্বাচিত হলে বাবার মতো মানুষের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়ে হুম্মাম কাদের বলেন, আমার বাবা সবসময় এলাকার মানুষ এবং উন্নয়ন নিয়ে ভাবতেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কাজ করেছেন। নির্বাচিত হলে শিক্ষার উন্নত পরিবেশ সৃষ্টি, মাদক ও সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেব।

চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা। তিনি সাবেক এমপি প্রয়াত জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর সন্তান। পাপ্পা দায়িত্ব পালন করছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে। তার বাবা জাফরুল ইসলাম চৌধুরী দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিএনপি সরকারের বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। বিএনপির নেতাকর্মীদের দাবি এই আসন থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অতীতে ৫ বার সংসদ সদস্য হয়েছেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না। শেষ হাসি বাপ্পাই হাসবেন।

ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা বলেন, গণ-অভুথ্যান ও আন্দোলন-পরবর্তী বাঁশখালীর গণমানুষের মুখে হাসি ফোটাতে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছি। এলাকার লোকজনের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। জয়ী হলে এলাকার উন্নয়নই হবে আমার প্রধান কাজ।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। তিনি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনের সন্তান। বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করছেন হেলাল। এ ছাড়া চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনে লড়ছেন এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রমের সন্তান ওমর ফারুক। কর্নেল অলি এই আসনে বিএনপি ও এলডিপি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

  • Related Posts

    বিএনপির বাক্সেই যাচ্ছে হেফাজতের ভোট

    ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকার শাপলা চত্বরে সমাবেশের মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ নিজেদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন বলে দাবি করে আসছে। সে কারণেই কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে জোটে…

    জামায়াত আমিরের জনসভা, কানায় কানায় পূর্ণ মাঠ

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের জনসভাকে ঘিরে পটুয়াখালীর বাউফলে জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে বাউফল পাবলিক মাঠ। জনসভা শুরুর আগেই জামায়াতের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে মাঠটি কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে…

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *