১১ বছরের শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের মামলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সাফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বিথীসহ ৪ জনের রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন এই আদেশ দিয়েছেন।
এদের মধ্যে সাফিকুর রহমানের ৫ দিনের ও তার স্ত্রী বিথীর ৭ দিনের এবং গৃহকর্মী রুপালী খাতুনের ৫ দিনের এবং মোছা. সুফিয়া বেগমের ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রোবেল মিয়া আসামিদের সাত দিন করে রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামিদের বিষয়ে অনুসন্ধান করা হয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে আসামিরা পরস্পর যোগসাজসে ভুক্তভোগীকে নির্যাতন করতেন মর্মে জানা যায়। মামলার ঘটনায় ব্যবহৃত গরম খুন্তি আসামিরা কোথায় রেখেছেন সে সম্পর্কে তারা জানেন। ভুক্তভোগীর শরীরের ক্ষতচিহ্ন থেকে ধারণা করা হচ্ছে ভুক্তভোগীকে অন্যভাবেও পাশবিক নির্যাতন করা হয়েছে, তা আসামিরা জানেন। মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটনসহ মামলার ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের নাম ঠিকানা সংগ্রহ ও খুন্তি উদ্ধারের লক্ষ্যে আসামিদেরকে সাত দিন করে রিমান্ড একান্ত প্রয়োজন।
এর আগে, গত ২ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৩টায় উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরের বাসা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ। পরে এই মামলায় দেখিয়ে সাফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বিথীসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, মামলার বাদী একজন হোটেল কর্মচারী। মামলার আসামি সাফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বিথীর বাসার সিকিউরিটি গার্ড জাহাঙ্গীরের সঙ্গে বাদীর পরিচয় হয়। ওই বাসার সিকিউরিটি গার্ড জাহাঙ্গীর বাদীকে জানান, তিনি যে বাসায় সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে চাকরি করেন সে বাসায় বসবাসরত দম্পতির বাচ্চা দেখাশোনা করার জন্য ছোট মেয়ে বাচ্চা খুঁজতেছেন। পরে তাদের সাথে দেখা করেন বাদী। তারা জানান, যাকে রাখবে বিবাহসহ যাবতীয় খরচ বহন করবেন। তাতে সম্মত হয়ে গত বছরের জুন মাসে মোহনাকে ওই বাসায় কাজে দেন বাদী।
সর্বশেষ গত বছরের ২ নভেম্বর ওই বাসায় ১১ বছরের শিশুকে সুস্থ অবস্থায় দেখে আসেন তার বাবা। তবে এরপর আর ওই শিশুকে পরিবারের সাথে দেখা করতে দেননি আসামিরা। গত ৩১ জানুয়ারি বিথী শিশুটির বাবাকে ফোন করে জানান, তার মেয়ে অসুস্থ। তাকে নিয়ে যেতে বলেন তিনি। পরে মেয়েকে আনতে যান তার বাবা। সন্ধ্যা ৭ টার দিকে বাদীর কাছে তার মেয়েলে বুঝে দেন সাথী।
তখন বাদী দেখতে পান, তার মেয়ের দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্নস্থান গুরুতর জখম। মেয়েটি ভালোভাবে কথাও বলতে পারে না। সাথীকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে সদুত্তর দিতে পারেননি। পরে তার মেয়েকে নিয়ে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান।
জিজ্ঞাসাবাদে তার মেয়ে জানায়, গত ২ নভেম্বর তার বাবার সাথে দেখা করে যাওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে অকারণে সাফিকুর রহমান ও বিথীসহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা তাকে মারপিটসহ খুন্তি আগুনে গরম করে তার শরীরের বিভিন্নস্থানে ছেঁকা দিয়ে গুরুতর জখম করেন। ওই ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা উত্তর পশ্চিম থানায় নির্যাতনের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন।







