গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিভিন্ন সময় গুম, খুন ও নির্যাতনের পরও বিএনপির কর্মীরা কৌশলের নামে গুপ্ত বা সুপ্ত বেশ ধারণ করেনি বলে মন্তব্য করেছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সময় গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের পাশে বিএনপি থাকবে বলেও জানান তিনি।
আজ শনিবার রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে গুম-খুনের শিকার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ ও ‘মায়ের ডাক’ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘সরকারবিরোধী আন্দোলন কখনো উত্তাল হয়েছে, কখনো স্থিমিত হয়েছে। কিন্তু কৌশলের নামে গুপ্ত বা সুপ্ত বেশ ধারণ করেনি বিএনপি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন থেকেছে সবসময়। গুম-খুনের শিকার পরিবারের প্রতি আগামীর গণতান্ত্রিক সরকারের দায়িত্ব রয়েছে। রাষ্ট্র কখনো আপনাদের ত্যাগ ভুলে যেতে পারে না।’
বাধ্যতামূলক নির্বাসনে থাকা দিনগুলোর কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আমাকে বাধ্য হয়ে বহুবছর দেশ, স্বজন ও নেতাকর্মীদের কাছ থেকে দূরে থাকতে হয়েছে। দূর থেকে যতটুকু সম্ভব নেতাকর্মী এবং সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা স্বজনহারা মানুষদের নিয়ে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রাজপথে থেকে প্রতিবাদ ও আন্দোলন গড়ে তুলেছি। সাধ্য অনুযায়ী স্বজনহারা মানুষগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছি। সীমাবদ্ধতা থাকার পরও আমরা প্রতিটি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।’
ফ্যাসিবাদী শাসনামলে হাজার হাজার নেতাকর্মীকে অত্যাচার, গুম, নির্যাতন ও হত্যা করা হয়েছে জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ-বিরোধী আন্দোলনের সময় বিএনপির দেড় লক্ষাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়। যার বোঝা প্রায় ৬০ লাখ নেতাকর্মীকে বয়ে বেড়াতে হয়েছিল। দিনের পর দিন ঘরবাড়ি ছাড়া থাকতে হয়েছে। স্বজন থেকে দূরে থাকতে হয়েছে। এসব মামলা ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’
তবে গুম-খুনের সেই বিভীষিকাময় দিন ও রাতের অবসান ঘটেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষ গণতেন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করেছে। এক দুঃসময় আমরা অতিক্রম করেছি।’
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বেশ কিছু বিতর্কিত ভূমিকার পরও বিএনপি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে বলে মতবিনিময়ে উল্লেখ করেন তারেক রহমান।তিনি বলেন, ‘গুম-খুন-নির্যাতনের শিকার পরিবারগুলো নিয়ে পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির। সব শহীদের নামে সরকারি স্থাপনার নামকরণ করা হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন তাদের নাম স্মরণে রাখতে পারে।’
এ সময় বিভিন্ন রকম কথা বলে কেউ কেউ গণতন্ত্রের ফেরার পথকে বাধাগ্রস্ত করছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রকে বিনষ্ট করার চেষ্টা সফল হবে না।’
তারেক রহমান বলেন, এবার যদি আমরা একটি দায়িত্বশীল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং সরকার গঠনের সুযোগ হাতছাড়া করি তাহলে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আমাদের যে শহীদ, সেই শহীদদের প্রতি জুলুম করা হবে, তাদের আত্মত্যাগের প্রতি অমরযাদা করা হবে, ৭১ সালের যারা শহীদ হয়েছেন এ দেশকে স্বাধীন করার জন্য, ৯০ এর স্বৈরাচারের বিরোধিতে আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, বিগত ১৬ বছরে যারা গুম-শহীদ হয়েছেন, বিভিন্ন ভাবে নির্যাতিত পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, ২৪ সালের ৫ আগস্টের আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন যে হাজারো মানুষ যারা বিভিন্নভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, প্রত্যেকটি অন্যায়ের বিচারকে যদি প্রতিষ্ঠিত করতে হয় তাহলে আগামী দিনে অবশ্যই বাংলাদেশের একটি গণতান্ত্রিক সরকার দরকার।”
সভায় বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ সারাদেশ থেকে আসা গুম, খুন পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।






