এবারের নির্বাচনে শীর্ষ ১০ ধনী প্রার্থী

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ইতোমধ্যেই মাঠপর্যায়ে নির্বাচনী প্রচারণার উৎসব চোখে পড়ার মতো। মনোনয়নপত্র হাতে পেয়েই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মাঠে নেমে পড়েছেন ।

এদিকে নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী, আসন্ন নির্বাচনে ৩০০ সংসদীয় আসনে লড়াই করছেন মোট ১ হাজার ৯৯৪ প্রার্থী। এর মধ্যে স্বতন্ত্র হিসেবে মাঠে রয়েছেন ২৫৬ জন এবং অবশিষ্ট প্রার্থীরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতীকে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন।

অপরদিকে প্রার্থীদের জমা দেওয়া নির্বাচনী হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। টিআইবির তথ্যমতে, আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রার্থীদের মধ্যে অন্তত ২৬ জনের সম্পদের পরিমাণ শত কোটি টাকা। সেইসঙ্গে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের হালনাগাদ বাজারমূল্য বিবেচনায় মোট ৮৯১ প্রার্থী রয়েছেন কোটিপতির তালিকায়।

মূলত টিআইবির প্রতিবেদন এবং প্রার্থীদের দাখিল করা হলফনামার তথ্য পর্যালোচনা করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি সম্পদশালী যেই ১০ প্রার্থীদের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তারা হলেন-

শীর্ষ স্থানে আবদুল আউয়াল মিন্টু

ধনী প্রার্থীদের তালিকায় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছেন ফেনী-৩ (সোনাগাজী ও দাগনভূঞা) আসনে বিএনপির প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টু। নির্বাচনী হলফনামার তথ্যানুযায়ী, তার এবং তার স্ত্রী নাসরিন ফাতেমা আউয়ালের নামে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের বর্তমান বাজারমূল্য ৬০৭ কোটি টাকা।

হলফনামায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তার ব্যক্তিগত মালিকানাধীন সম্পদের পরিমাণ ৫০৭ কোটি টাকা। অপরদিকে তার স্ত্রী নাসরিন ফাতেমা আউয়ালের নামে রয়েছে ১০০ কোটি টাকার সম্পদ। তিনিও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া হলফনামায় আবদুল আউয়াল মিন্টু নিজের নামে ৫ কোটি ১৫ লাখ টাকার দেনা থাকার তথ্য দিলেও তার স্ত্রী ও সন্তানদের নামে কোনো দেনা নেই। একইসঙ্গে একক ও যৌথভাবে তার নামে ২৮০ কোটি টাকার ব্যাংকঋণ থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে হলফনামায়।

দ্বিতীয় স্থানে মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী

ধনী প্রার্থীদের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী। নির্বাচনী হলফনামার তথ্যমতে, আসলাম চৌধুরী ও তার স্ত্রী জামিলা নাজনীল মাওলা এবং তাদের কন্যা মেহরীন আনহারের নামে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের সম্মিলিত মোট মূল্য ৪৭৪ কোটি টাকা।

হলফনামার আরও তথ্যানুযায়ী, তারা তিনজনই পেশাগতভাবে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাংকে তাদের নামে মোট ৩৪৫ কোটি টাকার ঋণের তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে এখানে।

তৃতীয় স্থানে ফখর উদ্দিন আহমেদ

ধনী প্রার্থীদের তালিকায় তৃতীয় স্থানে আছেন ময়মনসিংহ-১১ আসনে বিএনপির প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদ। হলফনামার তথ্যানুযায়ী, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ মিলিয়ে তার মোট সম্পদের পরিমাণ ২৯৯ কোটি টাকা।

এছাড়া তার স্ত্রী তাসলিমা আক্তারের নামে রয়েছে ৭ কোটি টাকার অস্থাবর সম্পদ। তিনি ও তার স্ত্রী দুজনই পেশায় ব্যবসায়ী। এর পাশাপাশি হলফনামায় তার নামে ১৫ কোটি টাকার ব্যাংকঋণের তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে।

চতুর্থ স্থানে জাকারিয়া তাহের

ধনী প্রার্থীদের তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে আছেন কুমিল্লা-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী জাকারিয়া তাহের। নির্বাচনী হলফনামার তথ্যানুযায়ী, তার এবং তার স্ত্রী নাজনীন আহমেদের নামে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্য ২৯২ কোটি টাকা।

হলফনামায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, স্বামী-স্ত্রী দুজনই পেশাগতভাবে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তবে, জাকারিয়া তাহেরী হলফনামায় কোনো ঋণের তথ্য পাওয়া যায়নি।

৩ স্বতন্ত্র প্রার্থী শীর্ষ তালিকায়

এবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২৫৬ স্বতন্ত্র প্রার্থী। তাদের মধ্যে মাত্র ৩জন শীর্ষ ১০ ধনী প্রার্থীর তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন।

পঞ্চম স্থানে সালাউদ্দিন আলমগীর

পঞ্চম অবস্থানে আছেন টাঙ্গাইল-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর। পেশায় তিনি একজন ব্যবসায়ী। নির্বাচনী হলফনামার তথ্যানুযায়ী, তার ও তার স্ত্রী সুলতানা জাহানের নামে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের সম্মিলিত বাজারমূল্য ২৮৩ কোটি টাকা।

ষষ্ঠ স্থানে এমএএইচ সেলিম

ষষ্ঠ স্থানে রয়েছেন আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী এমএএইচ সেলিম। উল্লেখ্য, বিএনপির সাবেক এই সংসদ সদস্য বাগেরহাট-১, ২ ও ৩— এই তিনটি আসনে নির্বাচন করছেন। হলফনামার তথ্যমতে, সেলিমের একক মালিকানাধীন স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্য ২৬২ কোটি টাকা। সেইসঙ্গে তার নামে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকার দায়ের তথ্যও উল্লেখ রয়েছে।

সপ্তম স্থানে মো. জালাল উদ্দীন

এ তালিকার সপ্তম স্থানে রয়েছেন চাঁদপুর-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. জালাল উদ্দীন। নির্বাচনী হলফনামার তথ্যানুযায়ী, তার এবং তার স্ত্রী শাহনাজ শারমীনের নামে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের বর্তমান বাজারমূল্য ২৪৯ কোটি টাকা। পেশাগতভাবে দুজনই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। হলফনামার তথ্যমতে, মো. জালাল উদ্দীন ঢাকায় অবস্থিত স্পেন দূতাবাসে কর্মরত ছিলেন।

অষ্টম স্থানে গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ

শীর্ষ ধনী প্রার্থীদের তালিকার অষ্টম স্থানে রয়েছেন বগুড়া-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ। হলফনামার তথ্যানুযায়ী, তিনি ও তার স্ত্রী শাহনাজ সিরাজ এবং পুত্র আসিফ রাব্বানী তিনজনই পেশায় ব্যবসায়ী। তাদের নামে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের বর্তমান বাজারমূল্য ২০৪ কোটি টাকা। এর পাশাপাশি একটি ব্যাংকে গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের নামে ২৭ লাখ টাকার ঋণের তথ্য রয়েছে হলফনামায়।

নবম স্থানে মোহাম্মদ ফজলুল আজিম

নবম অবস্থানে আছেন নোয়াখালী-৬ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ ফজলুল আজিম। হলফনামার তথ্যানুযায়ী, স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে তার মোট সম্পদের বর্তমান মূল্য ১৯০ কোটি টাকা। এর মধ্যে তার স্ত্রী শামীমা আজিমের নামে রয়েছে ২১ কোটি টাকার সম্পদ। পেশাগতভাবে স্বামী-স্ত্রী দুজনই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।

দশম স্থানে মো. সফিকুর রহমান

শীর্ষ ১০ ধনী প্রার্থীর তালিকার দশম স্থানে রয়েছেন শরীয়তপুর-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. সফিকুর রহমান। টিআইবির প্রতিবেদনের তথ্যমতে, তার সম্পদের বর্তমান বাজারমূল্য ১৮৫ কোটি টাকা। পেশায় তিনি ব্যবসায়ী। এছাড়া তার নামে দুটি ব্যাংকে ৪১ কোটি টাকার বেশি ঋণ রয়েছে।

  • Related Posts

    ভোররাতে ৪.১ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল দেশ

    দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ৪ দশমিক ১ মাত্রার একটি হালকা ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ভোর ৪টা ৩৬ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডে এ ভূকম্পন অনুভূত হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানা স্বাক্ষরিত…

    সেই অবৈধ নিয়োগ এখন বিটিআরসির গলার কাঁটা

    বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে (বিটিআরসি) এক সময়ের বিতর্কিত ও অবৈধ নিয়োগ এখন প্রতিষ্ঠানটির জন্য ‘গলার কাঁটা’তে পরিণত হয়েছে। সরকারি অডিট, তদন্ত কমিটি ও শ্বেতপত্র প্রতিবেদনে দুর্নীতিগ্রস্ত ও বিধিবহির্ভূত হিসেবে চিহ্নিত…

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *