যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত নিরসনে আলোচনার জন্য একটি ইরানি প্রতিনিধিদল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) গভীর রাতে তারা পৌঁছায় বলে সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল শুক্রবার (১০ এপ্রিল) এ তথ্য জানিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, ইরানের প্রতিনিধিদলটির নেতৃত্বে রয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। অপরদিকে পাকিস্তানে মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
টানা ৪০ দিন যুদ্ধের পর বুধবার (৮ এপ্রিল) গভীর রাতে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত হওয়ার পর, শনিবার (১১ এপ্রিল) দুই দেশের প্রতিনিধিদলের মধ্যে আলোচনার আয়োজন করতে চলেছে পাকিস্তান। তবে নতুন করে লেবাননে হামলা হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হবে কি না এ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জানা যায়, বুধবার যুদ্ধবিরতির ঘোষণার সময় মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানান, যুদ্ধবিরতির আওতায় থাকবে লেবানন। কিন্তু দখলদারদের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এ ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর জানান লেবানন এতে থাকবে না। এরপর দেশটিতে ব্যাপক হামলা চালায় ইসরায়েলি সেনারা। এতে কয়েক শতাধিক লেবাননি নিহত হন এবং সহস্রাধিক আহতের ঘটনা ঘটে।
এরপরই ইরান শর্ত দিয়েছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে চায় তাহলে লেবাননে আগে হামলা বন্ধ করতে হবে। তবে এখন পর্যন্ত তাদের এ শর্ত মানেনি ইসরায়েল। এ নিয়েই মূলত এখন দ্বন্দ্ব চলছে।
এর মধ্যে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম কান দাবি করেছে, ইরান মার্কিনিদের সঙ্গে ইসলামাবাদের সংলাপ স্থগিত করেছে। এতে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতিতে লেবাননকেও অন্তর্ভুক্ত করতে চায় ইরান।
এদিকে লেবাননে ‘যুদ্ধবিরতির গুরুতর লঙ্ঘন’ নিয়ে আজ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল ব্যারো ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার। তাদের মধ্যকার এক ফোনালাপে এ উদ্বেগ উঠে আসে।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির মাত্র ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে হওয়া এ হামলা যুদ্ধবিরতিকে অনিশ্চয়তায় ফেলেছে।






