আকবর-মুশফিক জুটিতে শীর্ষে থেকেই শেষ করল রাজশাহী

আরেকটি জয় দিয়ে বিপিএলের প্রাথমিক পর্ব শীর্ষে থেকেই শেষ করল রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। অল্প রানের পুঁজি নিয়েও দারুণ লড়াই করেছিল চট্টগ্রাম রয়্যালস, তবে শেষ হাসি হাসতে পারল না তারা। প্রথম দেখার হারের বদলা নিয়ে ঢাকা পর্বের দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে ৩ উইকেটে জয় পেল রাজশাহী।

শনিবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে চট্টগ্রাম রয়্যালস গুটিয়ে যায় মাত্র ১২৫ রানে। জবাবে রাজশাহী লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে তিন বল হাতে রেখে।

রাজশাহীর জয়ের ভিত গড়ে দেন পেসার তানজিম হাসান। চার ওভারে এক মেডেনসহ ১৭ রান দিয়ে ৪ উইকেট তুলে নিয়ে চট্টগ্রামের ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে দেন তিনি। রান তাড়ায় শুরুতেই ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়া রাজশাহীকে উদ্ধার করেন মুশফিকুর রহিম ও আকবর। দুজনে মিলে ৬৬ বলে ৮৪ রানের ম্যাচজয়ী জুটি গড়েন।

৪ ছক্কা ও ১ চারে ৪০ বলে ৪৮ রান করেন আকবর। ম্যাচসেরার পুরস্কারও ওঠে তাঁর হাতেই। অন্য প্রান্তে ৩ চার ও ১ ছক্কায় ৪১ বলে ৪৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন মুশফিক, দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি।

চট্টগ্রামের হয়ে আগের ম্যাচে ৫ উইকেট নেওয়া শরিফুল ইসলাম এবারও কার্যকর ছিলেন। ১৩ রানে ৩ উইকেট নেন তিনি।

এই জয়ে ১০ ম্যাচে ৮ জয়ে রাজশাহীর সংগ্রহ দাঁড়াল ১৬ পয়েন্ট। ৯ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে চট্টগ্রাম রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে।

এর আগে ব্যাট করতে নেমে চট্টগ্রামকে ধাক্কা খেতে হয় শুরুতেই। প্রথম ওভারে দুটি চার মারলেও তানজিম হাসানের ওই ওভারেই শূন্য রানে ফিরেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ। দুটি ছক্কায় ভালো শুরু করেছিলেন মাহমুদুল হাসান জয় (১৩ বলে ১৯), কিন্তু ইনিংস বড় করতে পারেননি। তানজিমের পরের শিকার হন মোহাম্মদ হারিস (১১ বলে ১৬)।

মাহফিজুল ইসলাম ১৬ বলে ১০ রান করে হাসান মুরাদের বলে বোল্ড হন। রায়ান বার্লের একই ওভারে বিদায় নেন শেখ মেহেদি (১) ও হাসান নাওয়াজ (২৪ বলে ১৮)। আমের জামালের দ্রুত বিদায়ে ৭ উইকেটে ৭৪ রানে নেমে আসে চট্টগ্রাম। একশ পেরোনোই তখন শঙ্কায় পড়ে যায়।

শেষ দিকে আসিফ আলির ঝড়ো ব্যাটিংয়ে কিছুটা ভরসা পায় দলটি। ৪ ছক্কায় ২৪ বলে ৩৯ রান করেন তিনি। শেষের আগের ওভারে তানজিম মাত্র ৩ রানে ২ উইকেট নিয়ে চট্টগ্রামকে ১২৫ রানেই আটকে দেন।

রান তাড়ায় রাজশাহী শুরুতে সাবধানী থাকলেও তৃতীয় ওভারে শরিফুল ইসলামের আঘাতে বিপর্যয়ে পড়ে। তানজিদ হাসান এলবিডব্লিউ হন, সাহিবজাদা ফারহান ক্যাচ দেন। পরের ওভারে শান্তও ফেরেন। জেমস নিশাম রান আউটে কাটা পড়লে ৩১ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় রাজশাহী।

তবে সেই চাপ আর ধরে রাখতে পারেনি চট্টগ্রাম। মুশফিক ও আকবরের নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিংয়ে ম্যাচ ধীরে ধীরে রাজশাহীর দিকে হেলে পড়ে। ১৫তম ওভারে মেহেদিকে টানা তিন ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেন আকবর।

জয় থেকে ১১ রান দূরে থাকতে আকবর বাউন্ডারিতে ধরা পড়লেও কাজটা তখন প্রায় শেষ। ১৯তম ওভারে দুই উইকেট নিয়ে চট্টগ্রাম সামান্য উত্তেজনা ছড়ালেও শেষ ওভারে প্রয়োজনীয় ৬ রান তুলে নেয় রাজশাহী। আরাফাত সানির প্রথম বলে মুশফিক এক রান নেন, পরের বলেই চার মেরে দেন জাহানবাদ খান। পরের বলেই সিঙ্গেলে জয় নিশ্চিত হয় রাজশাহীর।

লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত শীর্ষস্থানধারীদের সামনে থামতেই হলো চট্টগ্রামকে।

  • Related Posts

    বৃষ্টির পর বিপর্যয়, ৪০ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে ভারতের কাছে হার বাংলাদেশের

    ষ্টির আনাগোনা শুরু হয়েছিল টসের আগেই। ম্যাচের ভাগ্যও শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করে দিল সেই বৃষ্টি। জয়ের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়েও মাত্র ৪৩ বলের ব্যবধানে দুঃস্বপ্নে পরিণত হলো বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ম্যাচ। ডিএলএস…

    রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে শেষ বলে জয় রাজশাহীর

    পিএলের সিলেট ও রাজশাহীর ম্যাচে জয়-পরাজয় নির্ধারিতত হয়েছে শেষ বলে। জায়ের জন্যশেষ ওভারে ১১ রান দরকার ছিলো সিলেটের । রাজশাহীর বিনুরা ফার্নান্দো ওভারের প্রথম ৫ বলে ৩ রান দেন। এরপরই…

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *