‎স্কুলে শিশু নির্যাতনের মামলায় পবিত্র কুমারের ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

‎ঢাকার পল্টনের একটি স্কুলে শিশু নির্যাতনের মামলায় গ্রেপ্তার কর্মকর্তা পবিত্র কুমার বড়ুয়ার ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ এ রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন।

‎রাজধানীর পল্টনের ‘শারমিন একাডেমিতে’ ভর্তি হওয়ার মাত্র সাত দিনের মাথায় শিক্ষকের হাতে ৪ বছরের এক শিশু নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর গত ২২জানুয়ারি শিশুটির মা পল্টন থানায় একটি মামলা করেন।

‎মামলায় স্কুলের পবিত্র বড়ুয়া এবং তার স্ত্রী শারমিন জামানকে আসামি করা হয়। গত ২৩ জানুয়ারি মিরপুরের এক আত্মীয়ের বাসা থেকে পবিত্র কুমারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়। সেদিন তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নুর ইসলাম আদালতে উপস্থিত না থাকায় রিমান্ড শুনানি পিছিয়ে বৃহস্পতিবার রাখা হয়।

‎এদিন পবিত্র কুমারকে আদালতে হাজির করা হয়। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তা নুর ইসলাম অসুস্থতার কারণে আদালতে হাজির হতে পারেননি। তারপক্ষে একই থানার এসআই সামীম হাসান আদালতে উপস্থিত হন। তিনি আদালতকে জানান, শিশুটি ১১ তারিখ থেকে স্কুল শুরু করে। সাত দিনের মাথায় ১৮ জানুয়ারি তার সাথে এমন ঘটনাটা ঘটে। তাকে মারধর করা হয়। স্ট্যাবলার মুখে ঢুকিয়ে দিতে দেয়। এসময় আদালত তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জানতে চায়, মহিলা কোথায়? তদন্ত কর্মকর্তা জানান, তাকে পাওয়া যায়নি।

‎‎বাদীপক্ষে অ্যাডভোকেট সালেহ উদ্দিন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তিনিই ভিডিওটা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন বলে আদালতকে জানান।

‎রাষ্ট্রপক্ষে সহকারি পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন ও কাইয়ুম হোসেন রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করেন।

‎উভয়পক্ষের শুনানি শেষে শুনানি শেষে বিচারক পবিত্র কুমারের কাছে শিক্ষার্থী নির্যাতনের কারণ জানতে চান। তবে নির্যাতনের কথা অস্বীকার করে আদালতকে বলেন,‘আমি ওরে মারিনি স্যার। তবে ও দুষ্টামি করছিল।’

‎এরপর বিচারক বলেন,‘আপনি তো ওই স্কুলের অ্যাডমিন অফিসার, শিক্ষক না, শাসন করেন কীভাবে?’

‎তখন পবিত্র কুমার বলেন,‘স্কুলে নার্সিং থেকে ক্লাশ ফোর পর্যন্ত আছে। সবার কাছে জিজ্ঞাসা করেন, আমি কেমন?’

নির্যাতনের বিষয়ে বলেন,‘ও ক্লাসে অন্য শিক্ষার্থীদের থু থু মারছিল। আমি বলেছিলাম, মের না। এরপর তো গার্ডিয়ান ডাকা হয়।’

‎পরে বিচারক বলেন, ‘আপনি স্ট্যাবলার দিয়ে মেরেছেন।’ তখন অস্বীকার করে পবিত্র বলেন, ‘মারিনি।’

‎পবিত্র কুমারের বিরুদ্ধে স্কুলের পিসির পাসওয়ার্ড না দেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে চুপ থাকেন তিনি। পরে আদালত তার চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

‎গত ২১ জানুয়ারি থেকে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভির ভিডিওতে দেখা গেছে, এক নারী স্কুল ইউনিফর্ম পরা শিশুটিকে টেনেহিঁচড়ে একটি কক্ষে নিয়ে যান। কক্ষে ঢোকার মুহূর্তে শিশুটিকে চড়-থাপ্পড় দেওয়া হচ্ছিল। এরপর সেখানে বসে থাকা আরেকজনের কাছে অভিযোগের মতো কিছু বলছে বলে মনে হচ্ছে।

‎‎সোফায় বসিয়ে ভীতসন্ত্রস্ত শিশুটিকে বারবার চড় মারছেন এবং ধমক দিচ্ছিলেন ওই নারী। এক পর্যায়ে ওই পুরুষ ব্যক্তিটি একটি ‘স্ট্যাপলার’ হাতে শিশুটির কাছে এগিয়ে গিয়ে তার মুখে ‘স্ট্যাপল’ করে দেওয়ার ভান করে কয়েকবার চেপে ধরেন। ওই পুরুষ ব্যক্তিটি হাতের ইশারা দিয়ে শিশুটিকে বার বার থামতে বলছিলেন। একপর্যায়ে পুরুষ ব্যক্তিটি কক্ষের বাইরে যান, আবার ফিরে এসে শিশুটির গলায় ধরে সোফায় চেপে ধরতে দেখা যায়।

‎ভিডিওতে দেখা যায়, ঘটনাটি ১৮ জানুয়ারি দুপুর ১ টার দিকের। ৪ মিনিট ১৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি শেয়ার দিয়ে অনেকেই এই ঘটনার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা জড়িতদের শাস্তির পাশাপাশি স্কুলে পাঠানো শিশুদের অভিভাবকদের এ বিষয়ে আরো সচেতন হওয়ার কথা বলেছেন।

  • Related Posts

    জামায়াতের ৪ ও বিএনপির ১ প্রার্থী হাইকোর্টে

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের আরও চার প্রার্থী ও বিএনপির এক প্রার্থী ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন। আজ মঙ্গলবার বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের একক হাইকোর্ট বেঞ্চে এসব আবেদনের…

    ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে বিএনপির আরও ৪ প্রার্থী

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-১ আসন, কুড়িগ্রাম-২, রংপুর-৬ ও রংপুর-৪ আসনের ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে বিএনপির প্রার্থীরা আবেদন করেছেন। আজ সোমবার বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের একক হাইকোর্ট বেঞ্চে এসব…

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *