পাকিস্তানের ভাবনায় বিশ্বকাপ

আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি। তবে খুব শিগগিরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। সোমবার তিনি বলেন, ‘শুক্রবার অথবা আগামী সোমবারের মধ্যেই পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

ইসলামাবাদে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকের পর সামাজিক মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) নাকভি জানান, প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি সব দিক বিবেচনায় রেখে সমাধান করতে বলেছেন। সব বিকল্প খোলা রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি। এই বৈঠকটি হয় এমন এক সময়, যখন বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার পর পাকিস্তানের সম্ভাব্য বয়কট নিয়ে গুঞ্জন ছড়ায়। বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতের বাইরে সরানোর অনুরোধ আইসিসি নাকচ করার পরই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভেন্যু পরিবর্তনের আবেদন করেছিল। কারণ পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নির্দেশে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া হয়। যা ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দেয়। প্রতিক্রিয়ায় আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং বিশ্বকাপের ম্যাচ শ্রীলংকায় আয়োজনের দাবি তোলে।

আইসিসি অবশ্য শনিবার জানায়, ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাওয়া টুর্নামেন্টের এত কাছাকাছি সময়ে সূচি বদলানো সম্ভব নয়। সংস্থাটি দাবি করে, ভারতে বাংলাদেশের জন্য কোনো ‘বিশ্বাসযোগ্য বা যাচাইযোগ্য নিরাপত্তা হুমকি’ পাওয়া যায়নি। ফলে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

এক্স পোস্টে নাকভি লেখেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীকে আইসিসি সংক্রান্ত বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে জানিয়েছি। তিনি সব বিকল্প খোলা রেখে বিষয়টি সমাধানের নির্দেশ দিয়েছেন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে শুক্রবার অথবা আগামী সোমবার।’ এর আগে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিফ করেন নাকভি। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যকার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বিস্তারিতভাবে অবহিত করেন মহসিন নাকভি।’ এই সিদ্ধান্তের পরই পাকিস্তানের সম্ভাব্য সরে দাঁড়ানো নিয়ে আলোচনা জোরালো হয়। অবশ্য দক্ষিণ এশীয় ক্রিকেটে এমন পরিস্থিতি নতুন নয়। গত বছর চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ভারত পাকিস্তানে খেলতে অস্বীকৃতি জানালে ‘হাইব্রিড মডেল’ চালু করা হয় এবং ভারতের ম্যাচগুলো দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৭ সাল পর্যন্ত কার্যকর সেই চুক্তি অনুযায়ী, পাকিস্তানও আইসিসি ইভেন্টে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলবে। এবারের বিশ্বকাপে তাদের ম্যাচ শ্রীলংকায় হওয়ার কথা।

সব মিলিয়ে, ক্রিকেট ও রাজনীতির এই জটিল সমীকরণে পাকিস্তানের সিদ্ধান্তের দিকেই এখন তাকিয়ে ক্রিকেট বিশ্ব। শুক্রবার বা সোমবার সেই ঘোষণাই ঠিক করে দেবে বিশ্বকাপের পরের গল্প। মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে বিশ্বকাপ ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। তারা ম্যাচগুলো আরেক আয়োজক দেশ শ্রীলংকায় সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেছিল আইসিসিকে। যদিও বিশ্ব ক্রিকেট সংস্থা কোনো নিরাপত্তা শঙ্কা খুঁজে না পাওয়ায় বাংলাদেশকে সিদ্ধান্ত পাল্টাতে বলেছিল। নয়তো বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার হুমকিও পেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু তারা তাদের সিদ্ধান্তে অটল ছিল। শেষ পর্যন্ত তাদেরকে সরিয়ে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ করে দিয়েছে ক্রিকেটের শীর্ষ সংস্থা।

এই পুরোটা সময়ে পাকিস্তান বাংলাদেশের পাশে ছিল। সবশেষ বোর্ড প্রধান মহসিন নাকভি জানান, তারাও বিশ্বকাপ বয়কটের চিন্তাভাবনা করছেন। সবকিছু নির্ভর করছে সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর। তবে শুধু বয়কট নয়, গুঞ্জন উঠেছে আরও বেশ কয়েকটি। পাকিস্তানি গণমাধ্যম দাবি করছে, বিশ্বকাপ বয়কট না করলেও ভারতের বিপক্ষে গ্রুপপর্বের ম্যাচে মাঠে নাও নামতে পারে পাকিস্তান।

  • Related Posts

    শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে রাইজিং স্টারসে শুভ সূচনা বাংলাদেশের মেয়েদের

    মাত্র ১১৫ রান করেও বোলারদেরকল্যাণে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে রাইজিং স্টারস এশিয়া কাপে শুভ সূচনা করেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। ব্যাংককে শনিবার টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ১৯ ওভার ৫ বলে সবকটি উইকেট…

    বিশ্বকাপ ইস্যুতে জয়ী বাংলাদেশ

    বাংলাদেশ ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বর্জন করেছে। এ কারণে বিসিবির ওপর শাস্তির খড়গ নেমে আসতে পারত। তবে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসির তরফ থেকে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপে অংশ না…

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *