জরিমানার ১০% প্রণোদনা চায় ট্রাফিক পুলিশ

ঢাকা শহরে চলাচলকারী যানবাহনের বিভিন্ন ত্রুটি ও ট্রাফিক আইন ভঙ্গের অভিযোগে মামলা করে জরিমানা আদায় করে আসছে ঢাকা মহানগর ট্রাফিক পুলিশ। ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত এক বছরে ঢাকা শহরের বিভিন্ন সড়কে আইন ভঙ্গের অভিযোগে মোট ১৮৭ কোটি ৭৭ লাখ ৯৭ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৬৬ কোটি ৫০ লাখ ১০ হাজার টাকা আদায় করা সম্ভব হয়েছে। পুলিশের প্রস্তাব অনুযায়ী, আদায়কৃত জরিমানা থেকে ২৫ শতাংশ অর্থ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও সরঞ্জাম ক্রয়ের জন্য এবং ১০ শতাংশ অর্থ মামলাকারী সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের প্রণোদনার জন্য ব্যবহারের প্রস্তাব করা হয়েছে।

গত ৮ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের পক্ষে সদর দপ্তর ও প্রশাসন বিভাগের উপ-কমিশনার মো. আমীর খসরু এই বিষয়ে একটি চিঠি পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠিয়েছেন। চিঠি পাওয়ার পর এখন সদর দপ্তর পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, বিশ্বায়নের যুগে ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থা আধুনিকায়ন ও উন্নত দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের জন্য প্রয়োজনীয় পার্সোনাল প্রটেকটিভ গিয়ার (যেমন- রিফ্লেকটিভ ভেস্ট, প্রটেকটিভ গ্লোভস, ফ্লিকারিং শোল্ডার লাইট, সেফটি বুট), কমিউনিকেশন ডিভাইস (ওয়্যারলেস রেডিও, বডিওর্ন ক্যামেরা, ব্লুটুথ ইয়ারপিস, জিপিএস ট্র্যাকিং ডিভাইস) এবং এনফোর্সমেন্ট টুলস (যেমন- পস ডিভাইস, ভেহিকেল ইন্সপেকশন মিরর, পোর্টেবল ড্রাগ টেস্টিং কিট, সাউন্ড লেভেল মিটার, স্মোক ডিটেক্টর) ক্রয়ের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির জন্য সার্ভেইলেন্স ও মনিটরিং ইকুইপমেন্ট যেমন- সিসি ক্যামেরা, এএনপিআর ক্যামেরা, স্পিড ক্যামেরা, লিডার স্পিডগান, ভেহিকেল ট্র্যাকিং সিস্টেম প্রয়োজন। এ ছাড়াও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থার জন্য সেন্ট্রাল ট্রাফিক ডাটাবেজ টার্মিনাল, ইনসিডেন্ট রিপোর্টিং অ্যাপস এবং ট্রাফিক মনিটরিং ড্যাশবোর্ড অপরিহার্য।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এসব যন্ত্রপাতি সংযোজিত হলে ঢাকা শহরে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থা গড়ে উঠবে এবং জনজীবনে গতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে। তবে সীমিত বাজেটের কারণে ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে এসব সরঞ্জাম ক্রয় সম্ভব নয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিনিয়ত ট্রাফিক আইন ভঙ্গের মামলা ও জরিমানার মাধ্যমে প্রতিবছর ঢাকার সরকারি কোষাগারে গড়ে দেড় শতাধিক কোটি টাকা জমা হয়। প্রস্তাবিত প্রণোদনা ও আধুনিক সরঞ্জাম সংযোজনের মাধ্যমে ট্রাফিক পুলিশ আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবে এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

উপ-কমিশনার মো. আমীর খসরু জানান, ‘বর্তমানে রেকারিং বিল থেকে যে জরিমানা আদায় করা হয়, তার ৩০ শতাংশ অর্থ ট্রাফিক পুলিশের কল্যাণকর কাজে ব্যবহৃত হয়। মামলাকারী পুলিশ সদস্যদের ১০ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদিত হলে, কনস্টেবলসহ সব প্রাসঙ্গিক সদস্যরা প্রণোদনা পাবেন।’

ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা জানান, ঝড়বৃষ্টি, তীব্র গরম এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাঝেও তারা দিন-রাত দায়িত্ব পালন করছেন। ২৪ ঘণ্টা ভিজুয়াল ইন্সপেকশন ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অনেকেই দায়িত্ব পালনকালে আহত বা নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া মানসিক চাপ, উচ্চ শব্দ, দীর্ঘ সময়ের কাজ এবং বিভিন্ন রোগব্যাধির কারণে তাদের জীবনযাপন ও চিকিৎসা ব্যয় অত্যন্ত জটিল।

  • Related Posts

    সংসদে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জাতীয় সংসদে ভাষণ দেবেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ বুধবার দুপুরে সংসদ থেকে বের হয়ে তিনি এ কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,…

    জ্বালানি তেল বিক্রি নিয়ে সরকারের নতুন নির্দেশনা

    মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা মোকাবিলায় অকটেন ও পেট্রল বিক্রির ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। নির্দেশনায় দেশের বিভাগীয় শহরে জ্বালানি তেলের (অকটেন ও পেট্রল) গড় বিক্রয় হ্রাস…

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *