চুক্তির ব্যাপারে আশাবাদী ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে আশাবাদী। এর আগে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা সতর্ক করেছিলেন, ইরানে যে কোনো মার্কিন হামলা আঞ্চলিক সংঘাত উসকে দেবে। খবর বিবিসির।

গত মাসে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে প্রশাসনের কঠোর দমন-পীড়নের জেরে তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরই অংশ হিসেবে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে বিমানবাহী একটি রণতরী পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এক ভাষণে সাম্প্রতিক বিক্ষোভকে একটি ‘অভ্যুত্থানচেষ্টা’র সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, ‘যক্তরাষ্ট্রের জানা উচিত, তারা যদি যুদ্ধ শুরু করে, তবে এবার তা আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেবে।’ তিনি জনগণকে ট্রাম্পের হুমকিতে ভীত না হওয়ার আহ্বান জানান।

খামেনি বলেন, বিক্ষোভকারীরা পুলিশ, সরকারি কেন্দ্র, আইআরজিসি কেন্দ্র, ব্যাংক ও মসজিদে হামলা করেছে। তারা পবিত্র কোরআন পুড়িয়েছে। এটি একটি অভ্যুত্থানের মতো, যা শেষ পর্যন্ত দমন করা হয়েছে।

খামেনির এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘তিনি তো এমন কথা বলবেনই। দেখা যাক কী হয়। আশা করছি, আমাদের একটি চুক্তি হবে। আর যদি না হয়, তবে খামেনি ঠিক না ভুল, তা সময়ই বলে দেবে।’

বিক্ষোভকে ইরান সরকার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের উসকানি হিসেবে দেখছে। সরকার স্বীকার করেছে, বিক্ষোভে ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছেন। তবে ইরানি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, নিহত ব্যক্তিদের বড় অংশই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য।

  • Related Posts

    লারিজানি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়া হবে: ইরানের সেনাপ্রধান

    ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলী লারিজানিকে হত্যার ঘটনায় প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির সেনাপ্রধান আমির হাতামি। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে হাতামি লারিজানি হত্যার কঠোর নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের…

    হরমুজ প্রণালিতে ইরানের মাইন বসানোর আশঙ্কা, বাড়ছে নিরাপত্তা অনিশ্চয়তা

    মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে ইরান ছোট আকারের সমুদ্র মাইন বসাতে শুরু করেছে—এমন কিছু প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। তবে এসব তথ্য এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। এদিকে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে…

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *