এশিয়ান গেমস হকির বাছাইপর্বের সেমিফাইনালে খেলতে হলে আজ সোমবার জিততেই হবে বাংলাদেশকে। বলতে গেলে, বি গ্রুপে আগামীকাল গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হচ্ছে লাল-সবুজের দল। এই ম্যাচকে সামনে রেখে রবিবার ম্যাচ ভেন্যু থাই বিমান বাহিনীর টার্ফে দারুণ প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশ হকি দল। টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচে জয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। উজবেকিস্তান ও বাংলাদেশÑ উভয়েরই ৩ পয়েন্ট করে। বি গ্রুপ থেকে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করা শ্রীলংকার সঙ্গী হবে আজ এই দুই দলের ম্যাচে যারা জিতবে। বাংলাদেশ সময় সকাল নয়টায় একই মাঠে শুরু হবে ম্যাচটি। বাংলাদেশ দল ইতোমধ্যে অনুশীলনে বেশ মনোযোগী সময় পার করেছে। কোচিং স্টাফ ও খেলোয়াড়দের ফিটনেস, পাসিং এবং ফিনিশিংয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন কোচ আশিকুজ্জামান। বিশেষ করে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল আদায়ের কৌশল নিয়েও আলাদা করে কাজ করা হয়েছে। দলের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা যেমন নিজেদের দায়িত্ব বুঝে খেলতে প্রস্তুত, তেমনি তরুণরাও নিজেদের সেরাটা দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছে। জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী কোচ আশিকুজ্জামানও। তার কথাÑ ‘২০২৩ সালে এই উজবেকিস্তানকে ৪-২ গোলে হারিয়েছিল ছেলেরা। আশাকরি এবারও তারা জিততে পারবে এবং দলকে সেমিফাইনালে নিয়ে যেতে পারবে।’ অন্যদিকে উজবেকিস্তান দলকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। তাদের খেলোয়াড়রা শারীরিকভাবে শক্তিশালী এবং দ্রুতগতির ফুটওয়ার্কে পারদর্শী। ফলে ম্যাচটি হবে বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। তবে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় বাংলাদেশ কিছুটা এগিয়ে থাকলেও ম্যাচের দিন মাঠের পারফরম্যান্সই শেষ কথা বলবে।
বাংলাদেশ দলের মধ্যমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং রক্ষণ ভাগের দৃঢ়তা এই ম্যাচে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। অধিনায়ক রেজাউল করিম বাবুর নেতৃত্বে দল যদি শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মনোভাব ধরে রাখতে পারে, তাহলে দ্রুত গোল পাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হবে। একইসঙ্গে রক্ষণ কোনো ভুল করলে তা বিপদ ডেকে আনতে পারে, তাই ডিফেন্সেও থাকতে হবে সতর্কতা।
দলের একাধিক খেলোয়াড় সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে ভালো ফর্মে রয়েছেন, যা বাংলাদেশকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। বিশেষ করে পুস্কর খিসা মিমো, রাকিবুল হাসানদের সমন্বয়ে ফরোয়ার্ড লাইনের গতি এবং আক্রমণ ভাগের সমন্বয় যদি ঠিক থাকে, তাহলে উজবেকিস্তানের রক্ষণভাগ ভাঙা সম্ভব। এছাড়া দলে পেনাল্টি কর্নার (পিসি) স্পেশালিস্ট আশরাফুল ইসলাম ও আমিরুল ইসলামতো রয়েছেনই। সব মিলিয়ে ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য একটি পরীক্ষা। জয় পেলে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করবে, আর হারলে খেলতে হবে স্থান নির্ধারণী ম্যাচে। তাই এই ম্যাচে জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে বাংলাদেশ হকি দল।







