মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে জো বাইডেনের ক্ষমতার ১০০ দিন পূর্ণ হতে চলেছে। এর মাঝেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা হিসাব করতে বসে গেছেন যে, ক্ষমতায় বসার পর থেকে নতুন প্রেসিডেন্ট এখন পর্যন্ত কী কী পরিবর্তন আনতে পেরেছেন। কিংবা দেশকে কতটুকুই বা একত্রিত করতে পেরেছেন। তবে পূর্বসূরির (সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প) তুলনায় তিনি যে অনেকটা এগিয়ে আছেন তা অধিকাংশই ইতিমধ্যে স্বীকার করে নিয়েছেন। এ নিয়ে একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সিএনএন।

 

যদিও সংশয়বাদীরা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে, প্রেসিডেন্ট বাইডেন একটজন দ্বিধাগ্রস্ত নেতা হতে পারেন। কারণ, তিনি নৌকা ডোবার ভয়ে উভয় দিকে বেশি মনোযোগ দেবেন। অবশ্য বাইডেন নিজেকে ইতিমধ্যে প্রমাণ করেছেন যে এসবের কোনোটাই তিনি নন। দেখা যাচ্ছে, তিনি দেশের সকল ক্ষেত্র চষে ভেড়াচ্ছেন এবং একের পর এক রেকর্ড করে চলেছেন।

বিগত ১০০ দিনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এক ডজনেরও বেশি আইন গৃহীত করেছেন। এ ছাড়া ত্রাণ সরবরাহ, কর্মসংস্থান তৈরি এবং মন্দা থেকে মুক্ত হয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য সংস্কার চালু করেছেন। অবশ্য সাবেক প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগনের মতো বাইডেনও একই ধরণের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব রাখতে পারবেন কিনা তা এখনো অস্পষ্ট। বিশেষ করে রাজনৈতিক বিতর্ককে সরিয়ে রেখে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে।

ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ১.৯ ট্রিলিয়ন ডলারের একটি রেসকিউ প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন জো বাইডেন। যা ত্রাণ, উদ্দীপনা এবং দীর্ঘমেয়াদী সহায়তার জন্য এক সুসংহত সংমিশ্রণ সরবরাহ করে। এই প্যাকেজটি রাষ্ট্র ও স্থানীয় সরকারকে সহায়তা, মার্কিন পরিবারগুলোর জন্য সরাসরি চেক, একটি প্রসারিত শিশু কর, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং বাড়ির মালিকদের সহায়তা, বর্ধিত বেকারদের ক্ষতিপূরণ এবং আরো অনেক কিছু সরবরাহ করে।

বাইডেন এখানেই থামছেন না। তিনি এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের চাকরি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। যা মার্কিন অর্থনীতিতে 2 ট্রিলিয়ন ডলার অনুপ্রবেশ করাবে। এই প্রকল্পটি ব্রডব্যান্ড পরিষেবা, পানি এবং বৈদ্যুতিক গ্রিডের উন্নতি করার সময় ব্রিজ ও রাস্তাগুলোর মতো ঐতিহ্যবাহী অবকাঠামোগত কর্মসূচির জন্য অর্থায়ন করবে। তিনি একইসঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

এ ছাড়া তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেশ কয়েকটি নীতিতে পরিবর্তন এনেছেন। এর মধ্যে রয়েছে প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রকে আবার ফিরিয়ে আনা, সাতটি মুসলিম দেশের নাগরিকদের ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার অন্যতম। আগামীতে ইরানের পারমাণবিক চুক্তিতে ফিরে আসারও সম্ভাবনা রয়েছে। যেটি থেকে ওয়াশিংটনকে বের করে নিয়ে এসেছিল ট্রাম্প প্রশাসন।

Rupantor Television

A IP Television Channel

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »