অস্কার ২০২১: অদ্ভুত ও মজার যত ব্যাপার (পর্ব-১)

২০২১ সালের পুরস্কার মৌসুমের চূড়ান্ত পর্যায় ঘনিয়ে এসেছে। আগামী সপ্তাহে অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের ৯৩তম আসরে হবে সেই ফয়সালা। করোনা মহামারির কারণে নির্ধারিত সময়ের দুই মাস পর হচ্ছে অস্কার। এবারের মনোনয়ন তালিকায় থাকা চলচ্চিত্রগুলো ও তারকাদের নিয়ে রয়েছে ১৯টি মজার ও অদ্ভুত ব্যাপার। এগুলো বেশ আলোচিত হচ্ছে। ইত্তেফাক অনলাইনের পাঠকদের জন্য কয়েক কিস্তিতে থাকছে সেগুলো। আজ প্রথম কিস্তি।

 

‘বোরাট’ ইতিমধ্যে অস্কার রেকর্ড ভেঙেছে!

‘বোরাট সাবসিকোয়েন্ট মুভিফিল্ম: ডেলিভারি অব প্রডিজিয়াস ব্রাইব টু আমেরিকান রেজিম ফর মেক বেনিফিট ওয়ান্স গ্লোরিয়াস নেশন অব কাজাখস্তান’— পুরোটাই একটি চলচ্চিত্রের নাম! সব মিলিয়ে এতে ১১০টি অক্ষর আছে। ৯৩তম অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের দুটি বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছে এটি। অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের ইতিহাসে এত দীর্ঘ নামের কোনো ছবি এর আগে মনোনয়ন তালিকায় দেখা যায়নি। তাই এটি গড়েছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড।

ব্রিটিশ অভিনেতা সাশা ব্যারন কোহেনের আলোচিত ছবিটি হলো ২০০৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘বোরাট: কালচারাল লার্নিংস অব আমেরিকা ফর মেক বেনিফিট গ্লোরিয়াস নেশন অব কাজাখস্তান’-এর সিক্যুয়েল।

এতদিন অস্কারে মনোনীত দীর্ঘ নামের ছবির রেকর্ড ধরে রেখেছিল ‘দোজ ম্যাগনিফিসেন্ট মেন ইন দেয়ার ফ্লাইং মেশিনস; অর, হাউ আই ফ্লিউ ফ্রম লন্ডন টু প্যারিস ইন টোয়েন্টি ফাইভ আওয়ার্স ইলেভেন মিনিটস’। ১৯৬৫ সালে মুক্তি পাওয়া এই ছবির নামে রয়েছে ৮৫টি অক্ষর।

নতুন ‘গডফাদার’ বোরাট!

হলিউডের সর্বকালের সেরা চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে অন্যতম ভাবা হয় ‘দ্য গডফাদার’ ও ‘দ্য গডফাদার পার্ট টু’। গ্যাংস্টার ধাঁচের এই দুটি মহাকাব্যের সঙ্গে ‘বোরাট সাবসিকোয়েন্ট মুভিফিল্ম’-এর দুটি চমক জাগানিয়া সাদৃশ্য রয়েছে।

১. বুলগেরিয়ার মারিয়া বাকালোভা (বোরাট সাবসিকোয়েন্ট মুভিফিল্ম) হলেন অস্কারের ইতিহাসে সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী শাখায় মনোনীত দ্বিতীয় কোনো তারকা যিনি সিক্যুয়েল ছবির জন্য এই সম্মান পেলেন। সবশেষ ‘দ্য গডফাডার পার্ট টু’র জন্য টালিয়া শায়ার ১৯৭৫ সালের অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডসে সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী শাখায় মনোনীত হয়েছিলেন।

২. অস্কারের ইতিহাসে সেরা চিত্রনাট্য শাখায় একই ছবি ও সিক্যুয়েল মনোনয়ন পাওয়া চতুর্থ সিরিজ হলো ‘বোরাট’। এ তালিকায় রয়েছে ‘দ্য থিন ম্যান’ (১৯৩৪) ও এর সিক্যুয়েল ‘আফটার দ্য থিন ম্যান’ (১৯৩৬), ‘দ্য হাসলার’ (১৯৬১) ও এর সিক্যুয়েল ‘দ্য কালার অব মানি’ (১৯৮৬) এবং অবশ্যই ‘দ্য গডফাদার’ (১৯৭২) ও ‘দ্য গডফাদার পার্ট টু’ (১৯৭৪)!

গোল্ডেন গ্লোবসে সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রীর পুরস্কার জয়ীদের অস্কার মনোনয়ন মিস হয়নি!

১৯৭৭ সাল থেকে এমনটাই হয়ে এসেছে। কিন্তু ৯৩তম অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডসে দেখা গেলো ব্যতিক্রম চিত্র। ৭৮তম গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ডসে ‘দি মরিটানিয়ান’ ছবির জন্য সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রীর স্বীকৃতি পাওয়া আমেরিকান তারকা জোডি ফস্টারের জায়গা হয়নি অস্কারের মনোনয়ন তালিকায়। সবশেষ ১৯৭৬ সালে ‘ভয়েজ অব দ্য ড্যামড’ ছবির জন্য আমেরিকান তারকা ক্যাথারিন রস গোল্ডেন গ্লোবসে সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী হলেও অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডসে উপেক্ষিত ছিলেন। মাঝের ৪৫ বছর এমন শূন্যতা ছিলো না গোল্ডেন গ্লোবসের সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রীর।

অস্কারের সেরা মৌলিক চিত্রনাট্য শাখায় প্রথমবার

এবারের মনোনয়ন তালিকায় সেরা চলচ্চিত্র বিভাগে রয়েছে আটটি ছবি। এগুলোর মধ্যে সেরা মৌলিক চিত্রনাট্য বিভাগেও মনোনীত হয়েছে ‘মিনারি’, ‘প্রমিসিং ইয়াং ওম্যান’, ‘জুডাস অ্যান্ড দ্য ব্ল্যাক মেসায়া’, ‘দ্য ট্রায়াল অব দ্য শিকাগো সেভেন’ এবং ‘সাউন্ড অব মেটাল’। অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের ৯৩ বছরের ইতিহাসে এমন ঘটনা এটাই প্রথম। এর আগে সেরা চলচ্চিত্র বিভাগে মনোনীত এত ছবি সেরা মৌলিক চিত্রনাট্য বিভাগে জায়গা পায়নি।

কিছুটা আক্ষরিক অর্থে কথাটা বলা যায়! সারাবিশ্বের দর্শকপ্রিয় ছবি ‘সৌল’ সেরা চলচ্চিত্র শাখার দৌড়ে জায়গা পায়নি। দ্য ওয়াল্ট ডিজনি কোম্পানির মালিকানাধীন পিক্সার অ্যানিমেশন স্টুডিওসের এই অ্যানিমেটেড ছবিতে অভিনয় করেছেন টিনা ফে, জেমি ফক্স ও গ্রাহাম নর্টন। অ্যাকাডেমি অব মোশন পিকচার্স আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস অবশ্য অ্যানিমেটেড ছবিকে সেরা চলচ্চিত্র শাখায় খুব কমই মনোনয়ন দিয়েছে। ৯৩ বছরের ইতিহাসে মাত্র তিনটি ছবি এই শাখায় মনোনীত হয়েছে। এগুলো হলো ‘বিউটি অ্যান্ড দ্য বিস্ট’ (১৯৯১), ‘আপ’ (২০০৯) এবং ‘টয় স্টোরি থ্রি’ (২০১০)। যদিও কোনোটিই সেরা চলচ্চিত্র পুরস্কার জেতেনি। তবে সেরা অ্যানিমেটেড ছবি শাখায় মনোনীত পাঁচ ছবির তালিকায় ‘সৌল’ ফেভারিট।

Rupantor Television

A IP Television Channel

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »