টিকাও যাদের সুরক্ষা দিতে পারবে না

এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ড. অ্যান্ড্রু ওলোউইৎজ নিজেকে নিউইয়র্কের মামারোনেকে বাড়ির ভেতর বন্দি করে রেখেছেন।

গত বসন্তে করোনা যখন শহরটিতে দাপট দেখানো শুরু করেছিল, ব্রঙ্কসের মন্টেফিওরে মেডিকেল সেন্টারের জরুরি ওষুধ বিভাগের প্রধান ৬৩ বছর বয়সী ওলোউইৎজও তখন আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় আগ্রহী হয়ে উঠেছিলেন।

কিন্তু ২০১৯ সালের ক্যান্সার চিকিৎসা তার রোগপ্রতিরোধী কোষগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছে, দেহকে করে তুলেছে ভাইরাসের বিরুদ্ধে অসহায়।

তাই তো কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সময়টাতে ওলোউইৎজকে কেবল জুম অ্যাপের মাধ্যমে মেডিকেল সেন্টারের কর্মীদের পরিচালনায় নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখতে হয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদন এমন খবর দিয়েছে।

এক বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। ওলোউইৎজের ঘনিষ্ঠরা সবাই অনেক ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক জীবনের স্বাদ নিচ্ছেন।

নৃত্যশিল্পী ও কোরিওগ্রাফার স্ত্রী অস্ট্রিয়ার ন্যাশনাল ব্যালে কোম্পানিতে কাজ করতে দেশটিতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

টিকা নেওয়া বন্ধুরাও একত্রিত হওয়া শুরু করেছেন। ওলোউইৎজ কেবল আবহাওয়া ভালো থাকলেই তাদের সঙ্গে বাড়ির পেছনের উঠানে দেখা করতে পারছেন।

বন্ধুদের মতো ৬৩ বছর বয়সী এ চিকিৎসকও টিকা নিয়েছেন। অবশ্য তাতেও ওলোউইৎজের শরীরে কোনো অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে না, হবে বলে আশাও করেননি।

তিনি হচ্ছেন সেই লাখ লাখ আমেরিকানের একজন, যাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কাজ করে না, তাদের শরীর জানে না কী করে ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে কাজে লাগাতে হয়।

এদের অনেকে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনা ছাড়া কিংবা ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে জন্মেছেন। অন্যরা হয় কোনো রোগে ভুগে কিংবা থেরাপির কারণে তাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে বিসর্জন দিয়েছেন, যেমনটা হয়েছে ওলোউইৎজের ক্ষেত্রেও।

এই ‘ইমিউনকম্প্রোমাইজড’ ব্যক্তিদের মধ্যে কারও কারও শরীরে খুবই সামান্য পরিমাণ অ্যান্টিবডি তৈরি হয়, কারও কারও একেবারেই হয় না, যা তাদেরকে ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অযোগ্য বানিয়ে দিয়েছে।

আক্রান্ত হলে তারা দীর্ঘ সময় ধরে ভুগতে পারেন, তাদের মৃত্যুর হারও অনেক অনেক বেশি, ৫৫ শতাংশ।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় ঘাটতি নিয়ে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকা এ ব্যক্তিদের অধিকাংশই তাদের ঝুঁকি সম্পর্কে অবগত; কারও কারও আবার প্রতিষেধক যে তাদের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে সে সম্বন্ধে কোনো ধারণাই নেই।

লিউকেমিয়া অ্যান্ড লিম্ফোমা সোসাইটির প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. লি গ্রিনবার্গার বলেন, তারা বাইরে হেঁটে বেড়ান, মনে করেন যে তারা নিরাপদ, কিন্তু তেমনটা নাও হতে পারে।

ভাইরাসকে হটিয়ে দেওয়া পর্যন্ত নিজেকে নিরাপদ কোনো আশ্রয়ে লুকিয়ে রাখা ছাড়া এ ‘ইমিউনকম্প্রোমাইজডদের’ হাতে উপায় থাকে কেবল একটা।  তা হলো- নিয়মিত বিরতিতে শরীরে মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি নেওয়া।

Rupantor Television

A IP Television Channel

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »