১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৯৭৫ টাকা

আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে ভারসাম্য রেখে দেশে প্রথবারের মতো বোতলজাত লিকুইড ন্যাচারাল গ্যাস (এলপিজি) ও অটো গ্যাসের দাম নির্ধারণের পদ্ধতি চালু করল সরকার। সেই সঙ্গে এ দুই গ্যাসের দামও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মূসকসহ বেসরকারি খাতে ১২ কেজি সিলিন্ডারের এলপি গ্যাসের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৯৭৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির সাড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম সর্বোচ্চ ৫৯১ টাকা। আগে বেসরকারি কোম্পানিগুলো এই পরিমাণ বোতলের গ্যাস নিজেদের ইচ্ছা অনুযায়ী যে যেভাবে পারে বিক্রি করত। এই গ্যাস নিয়ে দেশব্যাপী ছিল অরাজকতা। অধিকাংশ কোম্পানি এই পরিমাণ গ্যাসের বোতল বিক্রি করত ১ হাজার থেকে ১২শ টাকা পর্যন্ত। সোমবার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে দাম নির্ধারণের এই ঘোষণা দেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বিইআরসির চেয়ারম্যান মো. আব্দুল জলিল। ভোক্তারা বলেছেন, বোতলজাত গ্যাসের দাম নির্ধারণ করে দেওয়ায় তারা খুশি। তবে বেসরকারি খাতের ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৯৭৫ টাকা অনেক বেশি হয়েছে। তারা বলেন, সাড়ে ১২ কেজি সরকারি গ্যাসের দাম ৫৯১ টাকা হলে বেসরকারি কোম্পানির গ্যাসের দাম এত বেশি কেন? সরকার আবাসিক খাতে প্রাকৃতিক গ্যাসের সংযোগ বন্ধ করে দেওয়ার পর থেকে রান্নার কাজে রাজধানীসহ সারা দেশে এলপি গ্যাসের চাহিদা বেড়ে যায়। তবে সারা দেশে এলপি গ্যাসের যে পরিমাণ চাহিদা তার ৯৮ ভাগ নিয়ন্ত্রণ করছে বেসরকারি কোম্পানিগুলো।

এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে এই গ্যাস নিয়ে দেশব্যাপী অরাজক অবস্থা বিরাজ করছিল।

এস সিদ্দিক নামে হাতিরঝিল এলাকার এক ফ্ল্যাট মালিক যুগান্তরকে বলেন, তাদের ফ্ল্যাটে ওমেরা গ্যাসের সিলিন্ডার ব্যবহার করছেন। এতদিন ১২ কেজি সিলিন্ডার ১২শ টাকা থেকে ১৩শ টাকায় কিনতে হতো। মাঝে মাঝে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়ে দেওয়া হতো। তিনি বলেন, সরকারের বেঁধে দেওয়া দাম বেসরকারি কোম্পানিগুলো মানবে কিনা তাতে তার সন্দেহ রয়েছে। কারণ এই গ্যাসের ওপর সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানান, দাম নির্ধারণের এখতিয়ার বিইআরসির। তবে এটা মানছে কিনা সেটা মনিটরিং করবে মন্ত্রণালয়। যদি কেউ সরকারের এই নির্দেশনা না মানে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নেবে।

বিইআরসি সূত্রে জানা গেছে, রেটিকুলেটেড পদ্ধতিতে সরবরাহ করা বেসরকারি এলপিজির মূসকসহ দাম হবে প্রতি কেজি ৭৯ টাকা শূন্য ১ পয়সা। আর বেসরকারি বোতলজাত এলপিজির প্রতি কেজির মূল্য ধরা হয়েছে মূসকসহ ৮১ টাকা ৩০ পয়সা। ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার অটো গ্যাসের সর্বোচ্চ দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৭ টাকা ৯২ পয়সা। ১২ কেজির বোতল হাতবদলের ক্ষেত্রে পরিবহণ ভাড়াসহ ডিস্ট্রিবিউটর বা বিপণন চার্জ ৫০ টাকা, ডিলার রিটেইলারের চার্জ ৩০ টাকা সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের সঙ্গে যুক্ত আছে।

বিইআরসির চেয়ারম্যান মো. আব্দুল জলিল বলেন, গত মার্চে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি কোম্পানি সৌদি আরামকোর প্রোপেনের মূল্য প্রতি টন ৬২৫ ডলার ও বিউটেনের মূল্য প্রতি টন ৫৯৫ ডলার বিবেচনায় নিয়ে এবং এলপিজিতে ৩৫ অনুপাত ৬৫ হারে প্রোপেন ও বিউটেনের মিশ্রণ বিবেচনায় নিয়ে এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি মাসে সৌদি আরামকো তাদের মূল্য সংশোধন করে। আরামকোর সঙ্গে মিল রেখে প্রয়োজন হলে বাংলাদেশেও মাসে মাসে এলপিজির দাম পুনর্নির্ধারিত হবে। মাসের নির্ধারিত সময়ে বিইআরসি তা জানিয়ে দেবে।

বেসরকারি এলপিজি মজুত ও বোতলজাতকরণ কোম্পানিগুলো ভোক্তা পর্যায়ে মূসক ছাড়া প্রতি কেজি ৭৬ টাকা ১২ পয়সা, মূসকসহ ৮১ টাকা ৩০ পয়সা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই হিসাবে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি ১২ কেজির বোতলের মূল্য হবে মূসকসহ ৯৭৫ টাকা। এলপিজির নতুন এই মূল্যহার নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে বিইআরসি।

প্রায় তিন দশক ধরে দেশে এলপি গ্যাস বাজারজাতকরণ হয়ে থাকলেও এতদিন সরকারিভাবে এর দাম নির্ধারিত ছিল না। বর্তমানে দেশের একেক প্রান্তে একেক দামে বিক্রি হচ্ছে এলপিজির বোতল।

রাজধানীতে ১২ কেজি বা সাড়ে ১২ কেজির একটি বোতলের খুচরা মূল্য ১০৫০ টাকা থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে রয়েছে। তবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপজেলাগুলোতে সাড়ে ৯০০ টাকায়ও মিলছে এলপিজির ১২ কেজির বোতল। এ ছাড়া ফিলিং স্টেশনগুলোতে প্রতিলিটার ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে অটো গ্যাস। সরকার নির্ধারিত দাম বাস্তবায়ন হলে এ ক্ষেত্রে ভোক্তাদের প্রতারিত হওয়ার সুযোগ কমবে।

Rupantor Television

A IP Television Channel

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »