খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে লুকোচুরি কেন?

দুর্নীতি মামলায় দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকার পর করোনার সময় পরিবারের সঙ্গে সরকারের আপস-রফার ভিত্তিতে কারামুক্ত হন বিএনপি চেয়ারপরসন বেগম খালেদা জিয়া। বর্তমানে তিনি বাসায় অবস্থান করছেন। কয়েকবারই তার মুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি করেছে সরকার। তবে নানান শর্তের বেড়াজালে রাজনীতিতে তিনি আর সক্রিয় হতে পারেননি।

তার রাজনীতিতে সক্রিয় না হওয়া নিয়ে দল ও রাজনৈতিক অঙ্গনে রয়েছে নানান আলোচনা। দল ও পরিবারের পক্ষ থেকে বার বার দাবি করা হয়েছে, খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নেয়া প্রয়োজন। কিন্তু সরকার দেশের ভেতর যেকোনো হাসপাতালে চিকিৎসার বিষয়ে সম্মত হলেও দেশের বাইরে চিকিৎসার বিষয়ে সম্মত হয়নি।

 খালেদা জিয়ার করোনা টেস্টের জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হলেও বিষয়টি দলের পক্ষ থেকে স্বীকার করা হয়নি। এরপর রোববার বেগম খালেদা জিয়ার করোনা পজেটিভ হওয়ার খবর এলেও দল ও পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো কিছু পরিষ্কার করা হচ্ছে না। উল্টো করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনাই সংগ্রহ করা হয়নি বলে দাবি করেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক। 

এরই মধ্যে দলে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ফলে খালেদাপন্থী হিসেবে পরিচিত নেতারা দলের মধ্যে এক ধরনের চাপে রয়েছেন। দলীয় রাজনীতিতে তারা অনেকটাই অবহেলার শিকার।

এরই মাঝে শনিবার বেগম খালেদা জিয়ার করোনা টেস্টের জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হলেও বিষয়টি দলের পক্ষ থেকে স্বীকার করা হয়নি। এরপর রোববার বেগম খালেদা জিয়ার করোনা পজিটিভ হওয়ার খবর এলেও দল ও পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো কিছু পরিষ্কার করা হচ্ছে না। উল্টো করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনাই সংগ্রহ করা হয়নি বলে দাবি করেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. মামুন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের পক্ষ থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার করোনা শনাক্ত  হয়েছে বলে জানানো হলেও এ নিয়ে নীরব তার পরিবার ও দল। ১১ এপ্রিল প্রকাশিত রিপোর্টে খালেদা জিয়ার করোনা পরীক্ষার রেজাল্ট ‘পজিটিভ’ আসে বলে জানানো হয়।

করোনা পরীক্ষার ওই প্রতিবেদনে দেখা যায়, আইসিডিডিআর,বি ল্যাবরেটরিতে ১০ তারিখ তার করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা জমা হয়। এরপর আরটি পিসিআর পদ্ধতিতে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হয়।

বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, তিন দিন আগেই খালেদা জিয়ার পরিচর্যায় নিযুক্ত গৃহপরিচারিকা ফাতেমার করোনা  শনাক্ত হয়। এরপর শনিবার (১০ এপ্রিল) দুই দফায় খালেদা জিয়ার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। শনিবার রাতে সংগ্রহ করা নমুনায় তার করোনা ‘পজিটিভ’ আসে।

রোববার বেলা সোয়া দুইটার দিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাগো নিউজকে বলেন, ‘ম্যাডামের কোভিড আক্রান্তের খবর আমি এখনো তার ফ্যামিলি থেকে কনফার্ম হতে পারিনি।’

এদিকে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক দল এলডিপির একাংশের মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম জাগো নিউজকে বলেন, ‘স্বাস্থ্য অধিদফতরের বরাতে গণমাধ্যমে আমরা জেনেছি ম্যাডাম করোনা আক্রান্ত। কিন্তু তার পরিবার বা চিকিৎসক দলের পক্ষ থেকে কিছুই জানে না বলে বলা হয়েছে। আশা করি বিষয়টি দলের পক্ষ থেকে কিছুক্ষণের মধ্যেই স্পষ্ট করা হবে।’

এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে, কেন তার করোনা নিয়ে এই লুকোচুরি? প্রশ্ন উঠেছে, এ ধরনের সংবাদ লুকিয়ে রাখলে তা নিয়ে নানান গুঞ্জন সৃষ্টি হয়, এটি কি তার দল বোঝে না? খালেদা জিয়ার দল কি অদৃশ্য কোনো সূতায় নিয়ন্ত্রন্ত্রিত হচ্ছে? কার স্বার্থে এই লুকোচুরি?

Rupantor Television

A IP Television Channel

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »