অর্থনৈতিক সমতায় পিছিয়ে পড়ছেন দেশের নারীরা

নারী-পুরুষে সমতা অর্জন বা লিঙ্গবৈষম্য দূর করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ধারাবাহিক উন্নতি করেছে। এই বৈষম্য দূর করার ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষ স্থানেও রয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু এর পরেও গত এক বছরে দেশে এই বৈষম্য বেড়েছে।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট-২০২১ অনুযায়ী বাংলাদেশ এক বছরের ব্যবধানে ১৫ ধাপ পিছিয়েছে। সমতা অর্জনের বৈশ্বিক সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ৬৫ তম। গত বছর এই সূচকে অবস্থান ছিল ৫০তম।

মূলত বাংলাদেশে নারীদের অর্থনৈতিক সুযোগ ও সমতার সূচকে অবনতি, স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনে নারী-পুরুষের ব্যবধান বেড়ে যাওয়াসহ অন্যান্য দেশ এগিয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়েছে। তবে এর পরেও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। অবশ্য রাজনীতির শীর্ষ পর্যায়ে নারীর অবস্থান, শিক্ষায় সমান সুযোগ এবং কর্মসংস্থানে নারীর এগিয়ে যাওয়ায় অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশ এগিয়ে রয়েছে। এ বছর মোট ১৫৬টি দেশের তথ্য নিয়ে এই সূচকটি তৈরি করা হয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে এ লিঙ্গসমতা সূচক প্রকাশ করে আসছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম। অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ, শিক্ষার সুযোগ, স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন, মোটা দাগে এই চার মাপকাঠিতে নারী-পুরুষের বৈষম্য বিবেচনা করে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়ে থাকে। সূচকে একটি দেশের অবস্থান নির্ধারণ করা হয় ১ ভিত্তিক স্কেলে, যেখানে ১ মানে হলো পুরো সম-অধিকার, আর শূন্য মানে পুরোপুরি অধিকারবঞ্চিত। এ হিসাবে বাংলাদেশের এবারের মোট স্কোর ০.৭১৯, যা গত বছর ছিল ০.৭২৬। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে সূচকে অবনতি হয়েছে।

করোনার নতুন সংক্রমণ অর্থনীতিতে ফের শঙ্কা

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে মূলত শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ সীমিত হওয়ায় অর্থনৈতিক সমতা সূচকে অবনতি হয়েছে। বাংলাদেশের ৩৮ দশমিক ৪ শতাংশ নারী, ভারতের ২২ দশমিক ৩ শতাংশ এবং পাকিস্তানে ২২ দশমকি ৬ শতাংশ নারী রয়েছে শ্রমবাজারে। এই অঞ্চলে নেপালের অর্থনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ ৮৫ শতাংশের বেশি। অন্যদিকে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের শীর্ষ সাত দেশের একটি বাংলাদেশ। সরকারপ্রধানসহ দেশের অনেক শীর্ষ পর্যায়ে নারীরা রয়েছেন। স্বাধীনতার ৫০ বছরের ইতিহাসে একমাত্র বাংলাদেশেই দীর্ঘ ২৭ বছর শীর্ষে অবস্থান করছেন নারী। এই সূচকে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের পরে রয়েছে নেপাল (১০৬তম), শ্রীলঙ্কা (১১৬তম), মালদ্বীপ (১২৮তম), ভুটান (১৩০তম), ভারত (১৪০তম), পাকিস্তান (১৫৩তম) ও আফগানিস্তান (১৫৬ তম)।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনা মহামারি শুরুর পর স্বাস্থ্য খাতে জরুরি অবস্থা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সংকুচিত হয়ে আসায় সারা বিশ্বেরই নারীরা তুলনামূলক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে বিশ্বে নারী-পুরুষের সমতার ব্যবধান শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। যে গতিতে বিশ্ব এগোচ্ছে তাতে করে সারা বিশ্বে নারী-পুরুষ বৈষম্য বিলোপ করতে ১৩৫ বছরেরও বেশি সময় লেগে যাবে।

কুলিয়ারচরে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ

প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশ্বে নারী-পুরুষ বৈষম্য তুলনামূলক মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোতে সবচেয়ে বেশি। এরপরেই রয়েছে দক্ষিণ এশিয়া। দক্ষিণ এশিয়ার চেয়ে কম বৈষম্য রয়েছে সাব-সাহারান আফ্রিকার দেশগুলোতে। অন্যদিকে বিশ্বে সবচেয়ে কম বৈষম্য পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোতে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী এবারো নারী-পুরুষে সমতার শীর্ষ দেশ আইসল্যান্ড। দেশটির স্কোর ০.৮৯২। তালিকায় এর পরেই রয়েছে, ফিনল্যান্ড, নরওয়ে, নিউজিল্যান্ড, সুইডেন, নামিবিয়া, রুয়ান্ডা, লিথুনিয়া, আয়ারল্যান্ড ও সুইজারল্যান্ড। তালিকার সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে আফগানিস্তান। দেশটির স্কোর ০.৪৪৪। এর ওপরে রয়েছে ইয়েমেন, ইরাক, পাকিস্তান, সিরিয়া, কঙ্গো, ইরান ও মালি।

Rupantor Television

A IP Television Channel

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »