বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসে উন্নতি দেখছে বিশ্বব্যাংক

বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য আগের পূর্বাভাসের চেয়ে ভালো প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন করেছে বিশ্ব ব্যাংক।

গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু হওয়ায় দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা আগামী এক বছরে আরও জোর পাবে বলে ধারণা করছে সংস্থাটি।

আর্থিক খাতের এ বিশ্ব সংস্থাটি বলছে, ২০২১ অর্থবছরে বাংলাদেশ মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) তিন দশমিক ছয় শতাংশ প্রবৃদ্ধি পেতে পারে। আগের পূর্বাভাসে যা ২ শতাংশ দেখানো হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন থেকে সোমবার প্রকাশিত বিশ্ব ব্যাংকের দ্বিবার্ষিক আঞ্চলিক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে।

আর অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের গতি ঠিক থাকলে আগামী অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে।

এতে বলা হয়েছে, মহামারির অভিঘাতে ২০২০ অর্থবছরে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতি প্রবৃদ্ধির ধারা থেকে নেমে ৫ দশমিক ৪ শতাংশ সংকুচিত হয়। এতটা দুর্দশায় এ অঞ্চলের অর্থনীতি সাম্প্রতিক ইতিহাসে আর কখনও পড়েনি।

এ বিপর্যয় থেকে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করায় দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতি ২০২১ সালে ৭ দশমিক ২ শতাংশ হারে বাড়তে পারে। তবে পরের বছর এই হার হতে পারে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ।

বিশ্ব ব্যাংক বলছে, বিদ্যুতের ব্যবহার ও তারল্য প্রবাহ বৃদ্ধির যে উপাত্ত ইতোমধ্যে আসছে, তাতে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি সঞ্চারের ইঙ্গিত স্পষ্ট।

তবে সার্বিক অর্থনীতি এখন নাজুক থাকায় প্রবৃদ্ধি হবে অসম। আগামী এক বছর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড মহামারির আগের পর্যায়ের চেয়ে নিচেই অবস্থান করবে।

এর কারণ হিসেবে অনানুষ্ঠানিক খাতের বহু মানুষের কর্মহীন হয়ে পড়া, আয় কমা এবং বৈষম্য বাড়ার প্রবণতার কথা বলা হয়েছে।

বিশ্ব ব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস-প্রেসিডেন্ট হার্টিগ শ্যাফার বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোর স্পষ্ট ইঙ্গিত দেখে আমরা উৎসাহিত বোধ করছি। তবে মহামারি এখনও নিয়ন্ত্রণে না আসায় এবং অর্থনীতির এই পুনরুদ্ধার নাজুক অবস্থায় থাকায় আমরা সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।

বিশ্ব ব্যাংকের প্রাক্কলন ঠিক হলে দক্ষিণ এশিয়া হয়ত ২০২২ সাল নাগাদ আবার মহামারি পূর্ববর্তী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরতে পারবে।

এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি ভারত ২০২১-২২ অর্থবছরে ১০ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি পেতে পারে। যা বিশ্ব ব্যাংকের জানুয়ারির প্রাক্কলনের চেয়ে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ পয়েন্ট বেশি।

বাংলাদেশ, নেপাল ও পাকিস্তানের অর্থনীতির ক্ষেত্রেও আগের পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন দেখানো হয়েছে। বাংলাদেশের দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে রেমিটেন্স বড় ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্ব ব্যাংক মনে করছে।

Rupantor Television

A IP Television Channel

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »