আড়পাঙ্গাশিয়া নদীর বেইলি ব্রিজ ঝুঁকিপূর্ণ সওজ ও এলজিইডি কেউ দায়িত্ব নিচ্ছে না

আমতলী ও তালতলী সড়কের আড়পাঙ্গাশিয়া নদীর বেইলি ব্রিজের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছে। কিন্তু বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় স্টিলের স্লিপার দেবে যাওয়ার পরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দুই উপজেলার মানুষ ও যানবাহন এই ব্রিজের ওপর দিয়ে চলাচল করছে। তবে গত এক মাস ধরে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের সময় জানা যায়, আমতলী থেকে তালতলী উপজেলা সড়ক পথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম তালতলী সড়ক। ৪০ কিলোমিটার এই সড়কের আড়পাঙ্গাশিয়া নদীর ওপর ১৯৮৫ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ বেইলি ব্রিজটি নির্মাণ করে। এ ব্রিজ দিয়ে প্রতিদিন সহস্রাধিক যানবাহন চলাচল করে। গত পাঁচ বছর ধরেই ব্রিজের বেহাল দশা। কিন্তু সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর বা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কেউই ব্রিজটি সংস্কার কোনো উদ্যোগ নেয়নি। কেন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি সে সম্পর্কে অবশ্য দুই বিভাগের তরফেই ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।

বরগুনা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফোরকান আহম্মেদ বলেছেন, ঐ সড়কটি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঐ সড়কের সকল ব্রিজ তারা সংস্কার করবে। এখানে আমাদের কিছুই করার নেই।

অন্যদিকে, বরগুনা সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জমান বলেন, ঐ ব্রিজের বেহাল অবস্থার খবর আমরা জানি। কিন্তু স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ ঐ সড়কটি কাগজে কলমে সওজকে এখনো হস্তান্তর না করায় আমরা কোনো উদ্যোগ নিতে পারছি না। এদিকে গত ৪ জানুয়ারি ব্রিজের পাটাতন ভেঙে যাওয়ায় ১৬ দিন ধরে আমতলী-তালতলীর সঙ্গে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। স্থানীয়রা স্লিপারের ওপর কাঠের পাটাতন দিয়ে ছোট ছোট যান চলাচল অব্যাহত রেখেছে। তবে যেকোনো সময় ঘটতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা।

রবিবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ব্রিজের মাঝখানের স্টিলের স্লিপার এলোমেলোভাবে পড়ে আছে। স্থানীয়রা কাঠের পাটাতন দিয়ে মেরামত করায় ছোট যান চলাচল করছে। আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মজিবুন্নেছা বেগম বলেন, স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশলী বিভাগ এবং সড়ক জনপথ বিভাগের ঠেলাঠেলিতে ব্রিজের সংস্কার কাজ বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েছে দুই উপজেলার অন্তত ২ লাখ মানুষ। এই দুই বিভাগ কিছুই না করে দৃশ্যত বসে আছে। তিনি দ্রুত ব্রিজটি মেরামত করার দাবি জানান।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‌‘আমি আমতলী এবং তালতলী দুই উপজেলার দায়িত্বে আছি। ঐ ব্রিজের দুরাবস্থার চিত্র প্রতিদিনই আমি প্রত্যক্ষ করি। ব্রিজের অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘ব্রিজ সংস্কারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’

Rupantor Television

A IP Television Channel

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »