৩৯ প্রতিষ্ঠানের সব হিসাব স্থগিত

রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বহু বিতর্কিত প্রশান্ত কুমার (পিকে) হালদার ও তার সহযোগীদের তিন হাজার কোটি টাকা স্থগিত (ফ্রিজ) করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে হাতিয়ে নেওয়া প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ৩৯ প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা এ টাকা স্থগিত করা হয়। এ ক্ষেত্রে তাদের নামে অর্থ আত্মসাৎ ও মানি লন্ডারিং আইনে শিগগির মামলা হতে পারে। দুদকের উপ-পরিচালক গুলশান আনোয়ার বিষয়টি অনুসন্ধান করছেন।

দুদক সূত্র জানায়, রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের এমডি থাকা অবস্থায় তার আত্মীয়স্বজনকে দিয়ে আরও বেশ কয়েকটি লিজিং কোম্পানির স্বতন্ত্র পরিচালক বানান। একক কর্তৃত্বে অদৃশ্য শক্তির মাধ্যমে পিপলস লিজিংসহ বেশ কয়েকটি লিজিং কোম্পানির টাকা বিভিন্ন কৌশলে বের করে আত্মসাৎ করা হয়। পিপলস লিজিংয়ে আমানতকারীদের তিন হাজার কোটি টাকা বিভিন্ন কৌশলে আত্মসাৎ করে কোম্পানিকে পথে বসিয়েছেন। এর মধ্যে ৩৯টি প্রতিষ্ঠানের টাকা জব্দ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো : বিআরবি ইন্টারন্যাশনাল, ন্যাচার এন্টারপ্রাইজ, নিউটেক এন্টারপ্রাইজ, হাল ইন্টারন্যাশনাল, নিউট্রিকুয়াল, আরবি এন্টারপ্রাইজ, এনন কেমিক্যাল, রেপটাইল ফার্ম, পিঅ্যান্ডএল ইন্টারন্যাশনাল, আর্থ স্কুপ, এমটিবি মেরিন, কোলাসিন লিমিটেড, এমএস ফার্মা, এমএসটি ফার্মা অ্যান্ড হেলথ কেয়ার, ওকায়ামা লিমিটেড, জিঅ্যান্ডবি এন্টারপ্রাইজ, ধ্রীনাম অ্যাপারেলস, মুন এন্টারপ্রাইজ, কণিকা এন্টারপ্রাইজ, সিগমা ক্যাপিটাল, ইমেক্সো, সুখাদা প্রপার্টিজ, সন্দ্বীপ করপোরেশন, উইন ইন্টারন্যাশনাল, পদ্মা ওয়েভিং, এমওএইচ ফ্যাশন, এসএ এন্টারপ্রাইজ, শাহাদাত ট্রেডার্স, সাবির ট্রেডার্স, গ্রিনলাইন ডেভেলপমেন্ট, মিসেস বর্ণ, রহমান কেমিক্যাল, ক্রসরোড করপোরেশন, তামিম অ্যান্ড তালহা ব্রাদার্স, ডিজাইন অ্যান্ড সোর্স, জেডএ অ্যাপারেলস, সুপ্রিয়র টেক্সটাইল, নর্দান জুট ম্যানুফ্যাকচারিং ও সিম টেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যান্ড টেক্সটাইল।

নওশেরুল ইসলাম ভূঞা কোম্পানির নামে ঋণ দেখিয়ে ২০১৫ থেকে ২০১৯ সালে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, এফএএস লিজিং ও পিপলস লিজিং থেকে তিন হাজার ৫২০ কোটি টাকা নেন। এর মধ্যে অ্যাকাউন্ট থেকে দুই হাজার ৪৩২ কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে তাদের অ্যাকাউন্টে থাকা ৯৫২ কোটি টাকা স্থগিত করেছে দুদক।

এ ছাড়াও মমতাজ বেগমের কাছ থেকে দুই কোটি ৬৯ লাখ, বাসুদেব ব্যানার্জীর অ্যাকাউন্টে চার কোটি ৬৪ লাখ এবং পাপিয়া ব্যানার্জীর অ্যাকাউন্টে ৬১ লাখ টাকা ফ্রিজ করা হয়।

এ বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার জন্য পিপলস লিজিংয়ের সাবেক চেয়ারম্যান মতিউর রহমান, সাবেক পরিচালক আরেফিন সামসুল আলামিন, তিন প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী নওশের উল ইসলাম, মমতাজ ব্যানার্জী, সনজিব কুমার হাওলাদার, বাসুদেব ব্যানার্জী এবং পাপিয়া ব্যানার্জীকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা দুদকের কার্যালয়ে উপস্থিত নেই।

পিকে হালদারের বন্ধু মার্কেন্টাইল ব্যাংকের পরিচালক একেএম শহীদ রেজার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ৫টি প্রতিষ্ঠানে ১০৪ কোটি টাকা, অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের ৭টি ঋণ হিসাব থেকে ৩৩টি চেকের মাধ্যমে ওয়ান ব্যাংকের স্টেশন রোড শাখার গ্রাহক ব্যাংক এশিয়ার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইরফান আহমেদ খানের জে কে ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের নামে পরিচালিত একটি হিসাব থেকে ৭৪ কোটি টাকা সরিয়ে নিয়ে আত্মসাৎ করা হয়।

পিকে হালদারের ব্যক্তিগত হিসাবে ১৫৯ কোটি ৬৫ লাখ টাকা লেনদেন করা হয়, যা অস্বাভাবিক। ২০১৭ সালের ৩০ জানুয়ারি ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের পরিচালনা পর্ষদ ৬০ কোটি টাকা ঋণ মঞ্জুর করে। ঋণের গ্রাহক হিসাবে দেখানো হয় এমটিবি মেরিন লিমিটেড। কিন্তু ঋণের কোনো অর্থ ওই প্রতিষ্ঠানের হিসাবে যায়নি।

সূত্র জানায়, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের পরিচালক একেএম শহীদ রেজার মালিকানাধীন পদ্মা ওয়েভিং, পদ্মা ব্লিচিং, ফ্যাশন প্লাসের নামে ব্যাংকে পরিচালিত হিসাব থেকে ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়। কণিকা এন্টারপ্রাইজের নামে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল বাবদ ঋণ নেওয়া হলেও ঋণের কোনো অর্থ ওই প্রতিষ্ঠানের হিসাবে যায়নি।

এ ক্ষেত্রে তিনটি চেকের মাধ্যমে টোটাল ট্রান্সপোর্টেশনের নামে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের হিসাবে সরিয়ে নেওয়া হয়। এভাবে অভিনব পদ্ধতিতে প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে টাকা সরানো হয়। বেশিরভাগ ঋণের ক্ষেত্রেই কোনো মর্টগেজ ছিল না।

এসব ঋণ কেলেঙ্কারির সঙ্গে পিকে হালদারের সহযোগী ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের সাবেক এমডি রাশেদুল ইসলাম, ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের সাবেক সিএফও আবেদ হোসেন এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের হেড অব বিজনেস রুনাই আহমেদ সরাসরি জড়িত। ফলে তাদের নামে মোট সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের জন্য ও মানি লন্ডারিং আইনে শিগগির মামলা করা হতে পারে।

Rupantor Television

A IP Television Channel

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »