পর্যটনের জন্য সম্ভাবনাময় কাঠালিয়ার ছৈলার চর

কাঠালিয়ার বিষখালী নদীতে প্রাকৃতিকভাবে জেগেছে দৃষ্টিনন্দন ছৈলার চর। পাখির কলকাকলি, বিষখালী নদীর ঢেউয়ের গর্জন, বাতাসের তালে ঘন ম্যানগ্রোভ ছৈলার চরের ছৈলা পাতার শোঁ শোঁ শব্দ। সকালে পূর্বাকাশে নদীর বুক চিরে জেগে ওঠা লাল সূর্য বেলা শেষে পশ্চিম আকাশে হেলে পড়ার মতো দৃশ্য যে কোনো জায়গায় দাঁড়িয়ে দেখার মতো অতুলনীয় স্থানের নাম ছৈলার চর, যেখানে রয়েছে লক্ষাধিক ছৈলা গাছ। আর ছৈলা গাছের নাম থেকেই এ চরের নামকরণ করা হয়েছে ‘ছৈলার চর’।

প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক এখানে এসে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করেন। পর্যটনের ব্যাপক সম্ভাবনা থাকলেও যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ রয়েছে নানা সংকট। আকর্ষণীয় পর্যটন স্থানটি উপজেলার সদর ইউনিয়নের হেতালবুনিয়া মৌজার আওতাধীন।

এলাকাবাসী জানান, চরের কোলঘেঁষা হেতালবুনিয়া দাখিল মাদ্রাসা পর্যন্ত পাকা রাস্তা রয়েছে। শুধুমাত্র চরে যাওয়ার জন্য একটি ঝুলন্ত সেতু এবং চরের মধ্যে ঘোরানো কাঠের ব্রিজ করে দিলে পর্যটকরা সহজেই চরে গিয়ে সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন।

ঝালকাঠি জেলা পরিষদ সদস্য মো. শাখাওয়াত হোসেন অপু বলেন, ‘কাঠালিয়ার ঐতিহ্যবাহী ছৈলার চরে প্রায়ই ঘুরতে যাই। ২০১৫ সালে ছৈলার চরটি পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তবে চরটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সার্বক্ষণিক একজন লোক দরকার। চরে দুষ্ট লোকজন পাখি ধরার জন্য গাছে গাছে জাল পেতে রাখে। এছাড়া এখানে রয়েছে মৌমাছির অসংখ্য মৌচাক। আর এসব সংরক্ষণ করতে প্রশাসনের আরো কঠোর হতে হবে।’

কচুয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও জেলা পরিষদ সদস্য মো. আমিরুল ইসলাম লিটন সিকদার বলেন, ‘চরটির সঠিকভাবে পরিচর্যা করা হলে ঝালকাঠি জেলার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহ্যবাহী পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হবে।’

বরগুনার বেতাগী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মো. আ. সালাম ছিদ্দিকী জানান, কাঠালিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ছৈলার চর দক্ষিণাঞ্চলে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলা ও বিভাগসহ দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুফল চন্দ্র গোলদার বলেন, ‘২০১৫ সালে ছৈলার চরকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করে পর্যটন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। পর্যটকদের সুবিধার্থে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেখানে একটি পাকের ঘর, গভীর নলকূপ, কিছু ইটের রাস্তা ও একটি ঘাটলার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাছাড়া বর্তমানে মাটি দিয়ে ভরাটের কাছ চলছে। অচিরেই ছৈলার চরে মনোরম পরিবেশ সৃষ্টিসহ পর্যটনকেন্দ্রে রূপান্তর করতে যা যা দরকার প্রশাসন থেকে করা হবে।’

Rupantor Television

A IP Television Channel

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »