সড়ক প্রকল্পের জন্য সেচের পানি নিয়ে অনিশ্চয়তা, বিপাকে ৩৫ হাজার কৃষক

চলতি বোরো মৌসুমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ-পলাশ এগ্রো ইরিগেশন প্রকল্পের প্রায় ১৬ হাজার হেক্টর জমির সেচ সুবিধা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর মহাসড়ক চার লেন প্রশস্তকরণ কাজের জন্য প্রকল্পের বিভিন্ন অংশের ক্যানেল ভরাট ও প্রকল্পের কুলিং রিজার্ভার হিসেবে ব্যবহৃত পুকুরটি মাটি দিয়ে ভরাট করে ফেলায় এই অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। এতে চার উপজেলার প্রায় ৩৫ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বোরো চাষ অতি সন্নিকটে হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তেমন কোনো তত্পরতা লক্ষ করা যাচ্ছে না। এরই মধ্যে ১৫ জানুয়ারি পানি ছাড়ার উদ্যোগ নিয়েছে বিএডিসি।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পটি সচল রাখার উপায় বের করতে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা) মো. জাকির হোসেনকে আহ্বায়ক করে ৯ সদস্যবিশিষ্ট একটি আহ্বায়ক কমিটি করা হয়। গত ১০ অক্টোবর কমিটির সদস্যরা সরেজমিনে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন এবং ২৯ অক্টোবর কিছু সুপারিশ পেশ করেন। এসব সুপারিশে সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের নকশা পরিবর্তন করে প্রস্তাবিত ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের (এন-২) নকশার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সড়ক সম্প্রসারণ করতে বলা হয়। এরপর সড়কের যেসব অংশে ইরিগেশন চ্যানেল নির্মাণের জন্য সওজের অধিগ্রহণকৃত ভূমিতে বিএডিসিকে জায়গা দেওয়া সম্ভব এবং যে অংশে ইরিগেশন চ্যানেল নির্মাণের প্রয়োজনে বাড়তি ভূমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হবে সেটি সওজকে নিরূপণ করতে বলা হয়। কমিটি এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনে জরুরি আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভা করে বিষয়টি সুরাহা করার সুপারিশ করা হলেও এ ব্যাপারে এখনো কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এরই মধ্যে গত জুলাই মাস থেকে পুরোদমে শুরু হয়েছে সড়ক প্রশস্তকরণ কাজ। আশুগঞ্জ থেকে বিশ্বরোড পর্যন্ত বিএডিসির ক্যানেল অংশে বালু ভরাট কাজ চলছে জোরেশোরে।

কুলিং রিজার্ভার হিসেবে ব্যবহূত পুকুরটি হঠাত্ করেই গত বছরের জুন মাসে ভরাট করে ফেলে বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ। তখন থেকেই প্রকল্পটি হুমকির মুখে পড়ে। আশুগঞ্জ উপজেলা ছাড়াও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, সরাইল ও নবীনগরের কৃষক এই ইরিগেশন প্রকল্পের সুবিধাভোগী। এসব উপজেলার ২২টি ইউনিয়নের জমি চাষ হয় এই সেচ সুবিধায়। প্রকল্পের প্রধান সেচ খাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল আশুগঞ্জে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশের বরোপিট ক্যানেলকে। মহাসড়ক প্রশস্তকরণ কাজের জন্য এই ক্যানেল ভরাট করে ফেলা হচ্ছে। এমনি অবস্থায় পুরোপুরি প্রকল্পটি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এই সেচ সুবিধার ফলে এলাকার ফসল চাষে নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছিল বলে জানান এলাকার কৃষকরা। বর্তমানে এই সেচ সুবিধা কাজে লাগিয়ে বছরে ৭০ হাজার টন ইরি ধান উত্পাদন করা হচ্ছে। প্রতি একরে ৪০০ ও ২০০ টাকা সেচ কর দিয়ে সেচ সুবিধা পাচ্ছেন কৃষকেরা।

আশুগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মো. হানিফ মুন্সি বলেন, যথা সময়ে কৃষকেরা সেচের পানি না পেলে বোরো চাষ বিঘ্নিত হতে পারে। তিনি এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ও কৃষিমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কমনা করেছেন। এ ব্যাপারে সরাইল উপজেলা চেয়ারম্যান মো. রফিক উদ্দিন ঠাকুর বলেন, জমিতে পানি না পেলে এলাকার লাখো মানুষ ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করতে পারে। দাবি আদায়ের জন্য যা যা করার আমরা তাই করব। ৬২ জন স্কিম ম্যানেজার আমার অফিসে এ নিয়ে একাধিকবার বৈঠক করেছেন। ফোর লেনের পিডি আমাকে আশ্বাস দিয়েছেন নির্ধারিত সময়ের আগেই তারা জমিতে পানি নেওয়ার ব্যবস্থা করে দেবেন। জেলা প্রশাসকের সঙ্গেও আমি এ নিয়ে কথা বলেছি।

এই প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ওবায়েদ হোসেন বলেন, ১৫ জানুয়ারি পানি ছাড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে সেচের পানি সরবরাহ লাইনের যে অবস্থা তাতে সব স্থানে পানি পৌঁছবে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে সরেজমিনে পরিদর্শন করে সার্বিক অবস্থা বিএডিসির প্রধান প্রকৌশলীকে অবহিত করা হয়েছে। জমিতে সেচের পানি পৌঁছে দেওয়ার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে।

সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম বলেন, এ ব্যাপারে কৃষিমন্ত্রীর সঙ্গে প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে এই সমস্যার দ্রুত সমাধান করা হবে।

Rupantor Television

A IP Television Channel

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »