দুর্নীতি ও প্রশাসনের অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধে আলটিমেটাম

উপজেলা পরিষদের আইন বাস্তবায়ন করে প্রশাসনের অযাচিত হস্তক্ষেপ, অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধে সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন উপজেলা পরিষদ অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা। এসব দাবি বাস্তবায়ন না হলে কঠোর কর্মসূচিসহ তিন দফা আলটিমেটাম ঘোষণা করেছেন তারা।

শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা এ দাবি ও আলটিমেটাম ঘোষণা করেন। সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা পরিষদ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানসহ দেশের বিভিন্ন উপজেলার অন্তত ৬০ জন চেয়ারম্যান ও ভাইস-চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা পরিষদ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হারুন-অর-রশীদ বলেন, উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা থাকলেও প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মকর্তা সব কিছু উপেক্ষা করে উপজেলায় শাসকের দায়িত্ব পালন করছেন। উপজেলা পরিষদ আইন (সংশোধিত) ২০১১ অনুযায়ী সব উপজেলাকে প্রশাসনিক একাংশ ঘোষণা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আইনটির তৃতীয় তফসিলে ১২টি মন্ত্রণালয়ে উপজেলাভিত্তিক ১৭টি বিভাগকে উপজেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আর হস্তান্তর করা এসব কাজ সম্পাদনে উপজেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী হিসেবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে উপজেলা পরিষদের অনুমোদন নেওয়ার কথা।

তিনি আরও বলেন, ২০১০ সালের ১৭ জুন, ২০১৫ সালের ১৪ অক্টোবর এবং সর্বশেষ ২০১৯ সালের ২২ নভেম্বর এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে। তার ভাষ্য, উপজেলা পরিষদ আইন পুরোপুরি বাস্তবায়ন না করে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের আদেশ, পরিপত্র জারি করে উপজেলা চেয়ারম্যানদের ক্ষমতা খর্ব করা হচ্ছে। এ ছাড়া আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে চেয়ারম্যান, ভাইস-চেয়ারম্যান ও সদস্যরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন না।

সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা পরিষদ অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে পাঁচ দফা তুলে ধরা হয় সরকারের কাছে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে, প্রথমত, অবিলম্বে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে উপজেলা পর্যায়ের ১৭টি প্রশাসনিক কার্যক্রমের একাংশ হস্তান্তর করতে হবে। যাতে করে উপজেলা পর্যায়ের সার্বিক কার্যক্রম সহজভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয়। এ ছাড়া জনপ্রতিনিধিদের কর্তৃত্ব খর্ব করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে সংবিধান ও আইনবহির্ভূত ইনডেমনিটির মতো পরিপত্রসমূহ বাতিল করতে হবে। দ্বিতীয়ত, উপজেলা পরিষদ আইনের ২৯ ধারা অনুযায়ী ১৭টি বিভাগের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যানদের সভাপতিত্বে ১৭টি কমিটি রয়েছে, সেগুলো কার্যকর করতে হবে। এর পরও যদি প্রয়োজন হয়, সে ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যকে উপদেষ্টা, নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যানকে সভাপতি, ভাইস-চেয়ারম্যানকে সহসভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কর্মকর্তাকে সদস্য সচিব করা যেতে পারে। তৃতীয়ত, উপজেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চেয়ারম্যানের অনুমোদনক্রমে বিভাগের প্রশাসনিক ও বেতন-ভাতাদিসহ অন্যান্য বিষয়ের আর্থিক অনুমোদন গ্রহণ করবে। এরপর ওই কর্মকর্তা হস্তারিত ১৭টি বিভাগের কার‌্যাবলি সম্পাদন করার নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে জারি করতে হবে। চতুর্থ, উপজেলার আওতাধীন সব রাজস্ব জমা-বিভাজন ব্যয় উপজেলা পরিষদের অনুমোদনক্রমে সম্পাদনে আয় ও ব্যয়ের নির্দেশ প্রদান করতে হবে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হলে এ খাতের বিদ্যমান অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ হবে। পঞ্চম, বিদ্যমান নির্বাচিত উপজেলা পরিষদ প্রশাসনিক একাংশ। সব আনুষ্ঠানিক ও পত্র যোগাযোগে উপজেলা প্রশাসন ব্যবহার না করে ২০১০ সালে সরকার কর্তৃক জারিকৃত নির্দেশনা অনুসরণ করে ‘উপজেলা পরিষদ’র ব্যবহার কার্যকর করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে ঘোষিত তিন দফা আলটিমেটামের মধ্যে রয়েছে, প্রথমত. ১৭ জানুয়ারি সব জেলা সদরে সব স্তরের জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও বিশিষ্টজনদের সঙ্গে জেলা কমিটির মাধ্যমে মতবিনিময় ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হবে। দ্বিতীয়ত. ২৭ জানুয়ারি সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হবে এবং তৃতীয়ত. এসব কর্মসূচি পালনের পরও উপজেলা পরিষদ কার্যকর করার প্রতিবন্ধকতা দূর না হয় তাহলে সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সংবিধান ও আইনসম্মতভাবে উপজেলার কার্যক্রম বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

Rupantor Television

A IP Television Channel

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »