মুদ্রানীতির অধিকাংশ লক্ষ্য অর্জন হয়নি

ঘোষিত মুদ্রানীতির সূচকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধি। এ সূচকের ওপর নির্ভর করে দেশের কর্মসংস্থান ও বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ। করোনার কারণে এবার বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ধরা হয়েছে। তবুও সেই লক্ষ্য অর্জন করতে পারছে না ব্যাংকগুলো। চলতি অর্থবছরের মুদ্রানীতি ঘোষণার পর থেকে এখন পর্যন্ত এক মাসেও বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি অর্জন হয়নি।

২৯ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে নতুন মুদ্রানীতির প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ২০১৯-২০ অর্থবছরের শেষ মাস জুনে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ৬১ শতাংশে নেমে এসেছিল। পরে প্রণোদনা ঋণে ভর করে এ প্রবৃদ্ধি কিছুটা বাড়ে। এরপর আবারও নিচের দিকে নামতে শুরু করেছে বেসরকারি বিনিয়োগ।

জানতে চাইলে পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবদুল হালিম চৌধুরী বছরজুড়ে করোনা ছিল। এখন আবার দ্বিতীয় ঢেউ চলছে। সব মিলিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না। সবাই সতর্ক। কেউ কিছু করার আগে অনেক ভাবছে। কারণ বিনিয়োগ করলে যদি ফেরত না আসে। সে কারণে নতুন কোনো শিল্প-কারখানা হচ্ছে না। তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থা ভালো। সময়মতো প্রণোদনা পাওয়ায় অন্তত চলমান শিল্প কিছুটা হলেও সচল রয়েছে। এটা ইতিবাচক। আশা করি নতুন বছরের প্রথম প্রান্তিকে আর্থিক পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।

চলতি অর্থবছরে বেসরকারি খাতে ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ব্যাংলাদেশ ব্যাংক। অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৯ দশমিক ২০ শতাংশ। আগস্টে তা বেড়ে ৯ দশমিক ৩৬ শতাংশে উঠে। সেপ্টেম্বরে তা আরও বেড়ে ৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ হয়। অক্টোবরে এ প্রবৃদ্ধি এক শতাংশ পয়েন্ট কমে আবার ৮ দশমিক ৬১ শতাংশে নেমে এসেছে।

অন্যদিকে সরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি নির্ধারণ করা হয় ৪৪ দশমিক ৪ শতাংশ। অক্টোবর পর্যন্ত সরকারের ব্যাংক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৩ হাজার ২৭ কোটি টাকা। অর্থবছরের প্রথম ৪ মাসে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে নতুন করে ২৫ হাজার ২৫১ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার। অপরদিকে বাংলাদেশ ব্যাংককে পরিশোধ করা হয়েছে ২৪ হাজার ৩০৬ কোটি টাকা। সুতরাং এ ৪ মাসে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের নিট ঋণ দাঁড়িয়েছে ৯৪৫ কোটি টাকা।

সেপ্টেম্বর শেষে গড় মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়েছে। দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৬৯ শতাংশে, জুন শেষে যা ছিল ৫.৬৫ শতাংশ। সর্বশেষ মুদ্রানীতিতে রেপো হারকে ৫.২৫ শতাংশ থেকে ৪.৭৫ শতাংশে এবং রিভার্স রেপোকে ৪.৭৫ শতাংশ থেকে ৪.০০ শতাংশে কমিয়ে আনা হয়েছে। যার মূল লক্ষ্য ব্যাংকগুলোর জন্য কম ব্যয়বহুল তহবিলের জোগান নিশ্চিত করা এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেনের সুদহার যৌক্তিক করা। তারপরেও কমে গেছে রেপোর মাধ্যমে টাকার লেনদেন।

জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দৈনিক ভিত্তিতে ব্যাংকগুলোর জন্য রেপোর ৩৮টি নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ নিলামে ০১-০৪ দিন মেয়াদি ৭৭.০৩ বিলিয়ন টাকার ১৬৩টি, ৭ দিন মেয়াদি ২৪৮.৫১ বিলিয়ন টাকার ৫৪৭টি এবং ২৮ দিন মেয়াদি ৪.১৯ বিলিয়ন টাকার ৫টি দরপত্র পাওয়া যায় এবং সব দরপত্রই গৃহীত হয়। গৃহীত দরপত্রের সুদের হারের পরিসীমা ছিল ৪.৭৫ থেকে ৫.৫০ শতাংশ।

অপরদিকে পূর্বের প্রান্তিকে দৈনিক ভিত্তিতে ব্যাংকগুলোর জন্য রেপোর ৪৪টি নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এ নিলামে ০১-০৩ দিন মেয়াদি ৩৮৫.০৪ বিলিয়ন টাকার ৫৯৩টি, ৭দিন মেয়াদি ৫০৩.৭১ বিলিয়ন টাকার ৮৯৭টি, ১৪ দিন মেয়াদি ৩১.৭৩ বিলিয়ন টাকার ১২টি এবং ২৮ দিন মেয়াদি ১০৮.৪৪ বিলিয়ন টাকার ৯৯টি দরপত্র পাওয়া যায় এবং সব দরপত্রই গৃহীত হয়। জুলাই-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ ৩ মাসে দৈনিক ভিত্তিতে রিভার্স রেপোর কোনো নিলাম অনুষ্ঠিত হয়নি। আগের প্রান্তিকেও দৈনিক ভিত্তিতে রিভার্স রেপোর কোনো নিলাম অনুষ্ঠিত হয়নি।

Rupantor Television

A IP Television Channel

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »