ফিরবেন না শুধু ম্যারাডোনা

ক্রীড়াপ্রেমীদের যে বছরটা দু’হাত ভরে দেয়ার কথা ছিল, সেটাই শেষ পর্যন্ত কেড়ে নিল অনেক কিছু। পৃথিবীজুড়ে জেঁকে বসা করোনা মহামারীর বিষাক্ত ছোবলে ২০২০ সালে নানাভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে ক্রীড়াঙ্গন। এর মাঝেও রয়েছে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প। বছর শেষের সালতামামিতে আজ পেছন ফিরে তাকানো যাক আন্তর্জাতিক ফুটবলে।

করোনার বছরে সাদা চোখে ফুটবলের বড় ক্ষতিটা হয়েছে আর্থিক দিক দিয়ে। তিন মাস খেলা বন্ধ থাকায় অনেক ক্লাব দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার শঙ্কায়। কোণঠাসা অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে গত জুনে দর্শকভরা স্টেডিয়ামকে দূরে ঠেলে অচেনা রূপে শূন্য গ্যালারিতে মাঠে ফেরে ফুটবল। ধীরে ধীরে অনেক দেশে মাঠে দর্শক ফিরতে শুরু করেছে। মিলছে পুরনো রূপে ফেরার আভাস।

বাজারে করোনার টিকা চলে আসায় আর্থিক ক্ষতির ধাক্কা হয়তো কাটিয়ে উঠতে পারবে ফুটবল। পিছিয়ে যাওয়া টুর্নামেন্ট মাঠে গড়াবে। ফিরবেন না শুধু দিয়েগো ম্যারাডোনা। যে মানুষের জন্য বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে ফুটবল আজ আমজনতার খেলা, তাকে হারানোর ক্ষতি অপূরণীয়।

দুঃস্বপ্নের বছরে ক্রীড়াঙ্গনের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা হয়ে আসে গত ২৫ নভেম্বর আর্জেন্টাইন ফুটবল কিংবদন্তির মহাপ্রয়াণ। অনেকের মতে, ম্যারাডোনার সঙ্গে ফুটবলেরও মৃত্যু হয়েছে! মাস পেরিয়ে গেলেও ’৮৬ বিশ্বকাপজয়ী ফুটবল জাদুকরকে হারানোর শোক এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি বিশ্ব। মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে অন্যলোকে পাড়ি জমালেও ভক্তদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন ম্যারাডোনা। আর্জেন্টাইন মহানায়কের মৃত্যুর দুই সপ্তাহের মধ্যে ফুটবল হারিয়েছে ইতালির ১৯৮২ বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক পাওলো রসি ও আর্জেন্টিনাকে ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে তোলা কোচ আলেসান্দ্রো সাবেয়াকে।

শোকের মিছিলের উল্টো সারিতে আছে দারুণ কিছু অর্জনের গল্পও। মাঠের ফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ৩০ বছর পর লিভারপুলের ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ জয়।

এছাড়া লিগ, কাপ ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ত্রিমুকুট জিতে ইউরোপ মাতিয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ। এই প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে ওঠা নেইমার, এমবাপ্পের পিএসজির হৃদয় ভেঙে বছরটা নিজের করে নেন বায়ার্নের পোলিশ ফরোয়ার্ড রবার্ট লেওয়ানডোস্কি।

বায়ার্নকে ট্রেবল জেতানোর সুবাদে দুই মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো ও লিওনেল মেসিকে পেছনে ফেলে ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার এবার লেওয়ানডোস্কির হাতে উঠেছে। বায়ার্নের সোনায় মোড়ানো বছরটা বার্সেলোনার জন্য ছিল দুঃস্বপ্নের।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে বায়ার্নের কাছে ৮-২ গোলে বিধ্বস্ত হয়ে শেষ হয় তাদের শিরোপাশূন্য মৌসুম। দুর্ভোগের তখনও ঢের বাকি। ক্লাবের মহাপতনের জের ধরে দুনিয়া কাঁপানো বুরোফ্যাক্সে বার্সেলোনা ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে ঝড় তোলেন মেসি। অনেক নাটকের পর শেষ পর্যন্ত তার বার্সেলোনা ছাড়া না হলেও ন্যুক্যাম্পে মেসির ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত।

এ বছর মূল আকর্ষণ ছিল আন্তর্জাতিক ফুটবল। কিন্তু করোনার ছোবলে সব এলোমেলো হয়ে যায়। গত জুন-জুলাইয়ে হওয়ার কথা ছিল ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ ও কোপা আমেরিকা। দুটি টুর্নামেন্টই পিছিয়ে গেছে এক বছর। আন্তর্জাতিক ফুটবলের স্বাদ মিলেছে শুধু উয়েফা নেশন্স লিগ ও ২০২২ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের গুটিকয়েক ম্যাচে।

Rupantor Television

A IP Television Channel

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »