আমরাই ছবি নিয়ে মানুষের ঘরে যাবো

এ দেশে ইতিহাস নির্ভর চলচ্চিত্র নির্মাণের পথিকৃত চলচ্চিত্রকার তানভীর মোকাম্মেল। বিকল্পধারার চলচ্চিত্র নির্মাণ করে এরইমধ্যে একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, একুশে পদকসহ বিভিন্ন পরস্কার অর্জন করেছেন। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে তার নতুন চলচ্চিত্র ‘রূপসা নদীর বাঁকে’। নিজের কাজ ও দেশের চলচ্চিত্রের নানা বিষয়ে কথা বলেছেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল

কেমন আছেন? সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে আপনার নতুন চলচ্চিত্র ‘রূপসা নদীর বাঁকে’। চলচ্চিত্রটি সিনেমা হলে মুক্তির পর হঠাত্ অনলাইনে প্রদর্শনীর ঘোষণা দিলেন। এর কারণ কী?

ভালো আছি। ‘রূপসা নদীর বাঁকে’ ছবিটি আমরা প্রথমে পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তন, ঢাকার স্টার সিনেপ্লেক্স, যমুনা ব্লকবাস্টার, সীমান্ত ও এস কে সিনেপ্লেক্সে ও চট্টগ্রামের সিলভার স্ক্রিন সিনেপ্লেক্সে মুক্তি দিই। কিন্তু করোনার কারণে খুব কমসংখ্যক দর্শকই এখন সিনেমা হলে যাচ্ছেন। তাই ঠিক করেছি আমরাই ছবি নিয়ে মানুষের ঘরে যাবো। সে জন্য ছবিটি অনলাইনে প্রদর্শনীর উদ্যোগ নিয়েছি। তাছাড়া আমরা তো এদেশের বিকল্পধারার চলচ্চিত্রকার। আমরা তাই বিকল্প কিছু খুঁজছিলাম। প্রযুক্তি আমাদের সে সুযোগটা দিয়েছে।

চলচ্চিত্রটি স্বদেশি আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতার আগের প্রেক্ষাপট নিয়ে নির্মিত। সেই সময়ের একটি গল্প তুলে ধরতে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়েছে কি-না?

আমার বেশিরভাগ ছবিই কিন্তু পুরনো দিনের গল্পে নির্মিত। ফলে ইতিহাস আশ্রিত কোনো সময়ের ছবি নির্মাণে ড্রেস, প্রপস এসব সংগ্রহে আমার ফিল্ম ইউনিটটি এতদিনে বেশ দক্ষ হয়ে উঠেছে। তবে রূপসা নদীর বাঁকের ঐতিহাসিক ক্যানভাসটি আসলেই বেশ বড়। ফলে এ ছবির জন্যে পোশাক, সেট, প্রপস জোগাড়ের জন্য অনেক গবেষণা ও পরিশ্রমের প্রয়োজন পড়েছিল। তাছাড়া স্বল্প বাজেটের ছবির ক্ষেত্রে একজন ব্রিটিশ অভিনেতা জোগাড়, জেলখানার চিত্র ও বাঁধ বাঁধা দৃশ্যটির জন্য হাজার হাজার কৃষক নারী-পুরুষ জোগাড় করাটাও ছিল এক বড় চ্যালেঞ্জ।

আপনার নির্মিত বেশিরভাগ চলচ্চিত্রে মুক্তিযুদ্ধ, বিভিন্ন আন্দোলন ও জীবনবোধের স্পষ্ট চিত্র দৃশ্যমান থাকে। এ ধরনের চলচ্চিত্র নির্মাণে কীভাবে অনুপ্রাণিত হলেন এবং কেন?

লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করে এমন বড় ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক ঘটনাবলি আমাকে টানে। আমাদের দেশভাগ ও মুক্তিযুদ্ধ অনেক বড় দুটি ঘটনা। এ দুটি ঘটনা নিয়েই আমার চলচ্চিত্র বেশি। মুক্তিযুদ্ধ আমি প্রত্যক্ষ করেছি। ফলে এ বিষয় নিয়ে আমি ছবি তৈরি করবো সেটা তো স্বাভাবিক। কিন্তু দেশভাগ আমি দেখিনি, তবে দেশভাগের অভিঘাতটা দেখেছি। সেকারণেই হয়তো আমি দেশভাগ নিয়ে ছবি করতে অনুপ্রাণিত বোধ করি।

ইতিহাস নির্ভর চলচ্চিত্র কম হওয়ার অন্তরায়গুলো কী বলে মনে করেন?

একাধিক কারণ। মূল কারণ মূল ঘরানার বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রকারদের মেধা ও মননের অভাব। তাদের ইতিহাসবোধ খুবই কম।

দেশের চলচ্চিত্র এখন সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অনেকেই মানহীন চলচ্চিত্র নির্মাণ, হল সংকট ও বাজেটকে দায়ী করছেন। এ বিষয়ে একজন সফল নির্মাতা হিসেবে আপনার মন্তব্য শুনতে চাই—

অনেকদিনের জমাট অযোগ্যতা, দুর্নীতি, প্রযোজক-পরিবেশক-হলমালিকদের অতিরিক্ত অর্থলিপ্সা, এফডিসির কর্তাব্যক্তিদের দুর্নীতি ও অযোগ্যতা, তথ্য মন্ত্রণালয়ের আমলাদের অর্ধশিক্ষিত সব সিদ্ধান্ত, এসব কিছুরই একটা যৌগ ফল হচ্ছে বাংলাদেশের সিনেমার আজকের এই দূরাবস্থা। আর ভালো ছবি তৈরি করতে মেধা ও মনন ছাড়াও আধুনিক চলচ্চিত্রের ভাষা সম্পর্কে জ্ঞান, সাহিত্যবোধ, ইতিহাসবোধ এসব থাকতে হয়। দুঃখজনক যে, এখনকার নির্মাতাদের মধ্যে এগুলো নেই বললেই চলে। ফলে ভালো ছবি চাইলে এফডিসির পেছনে আর অর্থ ব্যয় না করে সরকারের উচিত হবে যেখানে কিছুটা শিক্ষা ও রুচি রয়েছে সেই বিকল্পধারার চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সাহায্য-সহযোগিতা করা।আপনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করছেন। কবে দর্শকরা পর্দায় এটি দেখতে পাবেন?

‘মধুমতী পাড়ের মানুষটি:শেখ মুজিবুর রহমান’ প্রমাণ্যচিত্রটির কাজ শেষের পথে। আগামী দু-তিন মাসের মধ্যেই ছবিটি দর্শকরা দেখতে পাব

দেশের চলচ্চিত্র ও আপনার ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা?

দেশের চলচ্চিত্র এখন একটা গভীর সংকটের মধ্যে রয়েছে। এ থেকে উত্তরণের জন্য কিছু সাহসী ও দূরদর্শী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। এ ব্যাপারে সরকারকেই এগিয়ে আসতে হবে। আর আমার নিজের পরিকল্পনার কথা বলতে গেলে বলবো, এই মুহূর্তে আমার কাজ হচ্ছে ‘রূপসা নদীর বাঁকে’ চলচ্চিত্রটি জনগণকে ব্যাপকভাবে দেখানো, বঙ্গবন্ধুর ওপর নির্মিতব্য প্রামাণ্যচিত্রটি শেষ করা। এরপর আমি আমাদের ভাষা আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃত্ শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের ওপর একটা প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করবো ‘তিতাস পাড়ের মানুষটি: শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত’ নামে

Rupantor Television

A IP Television Channel

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »